logo

বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৪ পৌষ, ১৪২৫

header-ad

বিএনপি ছাড়তে পারে যে কয়টি আসন!

রাজনীতি ডেস্ক | আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির আসন বণ্টন নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। সব মিলিয়ে ৭০টি আসন ছাড়তে পারে বিএনপি। তবে যোগ্য প্রার্থী থাকলে আসন ছাড়তে আপত্তি নেই বিএনপির। এবার উদার মনোভাব নিয়েই এগোচ্ছে বিএনপি। দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমন আভাস পাওয়া গেছে।

বিএনপি বলছে, জয়ী হওয়ার মতো প্রার্থী থাকলে শরিক দলগুলোকে আসন ছাড়তে তাদের কোনো আপত্তি নেই। প্রাথমিকভাবে তাদের কাছে যে তথ্য আছে, তাতে শরিক দলগুলোর ৫০ থেকে ৬০ আসনে প্রার্থী দেয়ার মতো সক্ষমতা আছে। তারপরও বিএনপি ৭০টির মতো আসন ছেড়ে দিতে পারে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে যাচ্ছে পাঁচ দলের সমন্বয়ে গড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। দলগুলো এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র বিক্রি করা শুরু করে দিয়েছে। বিএনপি এবার একইসঙ্গে দুটি ভিন্ন জোটভুক্ত দল। আগে থেকেই তাদের সঙ্গে আছে ২০ দল। সেখানে যোগ হয়েছে আরও তিনটি দল। এ ছাড়া এক মাস আগে গণফোরাম, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নিয়ে বিএনপি গড়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

২০ দলীয় জোটে বিএনপিকে আসনের বড় একটি অংশ ছাড়তে হবে জামায়াতের জন্য। নির্বাচন কমিশন থেকে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করায় বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা করেই নির্বাচন করবে দলটি।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে জামায়াতের। ২০ দলীয় জোটটিতে এলডিপি, খেলাফত মজলিস, বিজেপি, কল্যাণ পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে কিছু আসন দিতে হবে বিএনপির।

শরীক দলের নেতাদের বলেন, আসন ও অন্যান্য বিষয়ে এবার বেশ উদার বিএনপি। সঠিক ও যোগ্য প্রার্থী হলে আসন ছেড়ে দেবে দলটি। ঐক্যফ্রন্টের শরিকরাও ভালো প্রার্থী নিয়ে আসছেন।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলো চাইতে পারে ১৫০ টির মতো আসন। তবে জোটের শরিকদের চাহিদা অনেক থাকলেও প্রার্থী ও মাঠের ভোট বিবেচনা করলে খুব বেশি আসন ছাড়তে হবে না বিএনপির।

বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা যায়, শরিকদের চাহিদা যেমনই হোক তাদের হিসাব অনুযায়ী বিএনপিকে ৫০ থেকে ৬০টি আসনের বেশি ছাড়তে হবে না। অন্তত ৭০টি পর্যন্ত আসন ছাড়তে প্রস্তুত। আসন বণ্টনে ঝামেলা হওয়ারও সম্ভাবনা নেই। প্রত্যেক দল ও জোটের সঙ্গে বসে আসন ঠিক করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ হবে। এরই মধ্যে প্রায় সবগুলো দলই নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তারা শেষ পর্যন্ত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী তারা যেকোনো সিদ্ধান্তও নিতে পারে।

ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলছেন, একদিকে দাবি আদায়ে আন্দোলন ও আলোচনা চলছে, অন্যদিকে তারা নির্বাচনের প্রস্তুতিতেও পিছিয়ে নেই।

ঐক্যফ্রন্ট তফসিল এক মাস পেছানোর দাবিতে গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করে এসেছে। বৈঠক শেষে গতকাল নেতারা জানান, ইসি তাদের দাবি বিবেচনা করবে। তবে আজ ইসি সচিব ঐক্যফ্রন্টের দাবিকে বাস্তবসম্মত ও যুক্তিসংগত নয় বলে উল্লেখ করে নির্বাচন পেছানো সম্ভব নয় বলে জানান।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম