logo

বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৪ পৌষ, ১৪২৫

header-ad

২৩ দলের কে ক’টি আসন পাচ্ছে!

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরিকদের উদ্দেশে বিএনপিকে ছাড়তে হচ্ছে বেশ কিছু আসন। বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট থাকলেও সম্প্রতি ঐক্যফ্রন্টে যুক্ত হওয়ায় ২৩ দলে রূপান্তরিত হয়েছে এ জোট। তবে সব দলের নিবন্ধন না থাকায় ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সম্মত হয়েছে।

নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণার পর জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে আসন ভাগাভাগির হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে পুরোদমে। ইতোমধ্যে ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের বেশ কয়েকটি দল প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে প্রধান শরিক বিএনপির কাছে জমা দিয়েছে।

বিএনপির কাছ থেকে সর্বোচ্চসংখ্যক আসন নিতে ভেতরে ভেতরে দরকষাকষিও চলছে। যদিও জোটের নীতি-নির্ধারকরা বলছেন- এ বিষয়ে আরও আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হবে। তবে বিএনপি সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ৭০টি আসন ছাড়বে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপির ওই সূত্র জানায়, একাদশ নির্বাচনে জোটের অন্তর্ভুক্ত বিএনপির পরই রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর স্থান। সেক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীকে ছাড়বে ২০টি আসন, অলি আহমেদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) পাবে ৫-৬ আসন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) আন্দালিব রহমান পার্থ (ভোলা-১) থেকে নির্বাচন করবেন। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) পাবে একটি আসন। জাগপার শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে তাসমিয়া প্রধান (পঞ্চগড়-২) আসনে নির্বাচন করবেন।

পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশ পাবে একটি আসন। সেক্ষেত্রে মসিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে রীতা রহমান (নীলফামারী-১) আসনে নির্বাচন করবেন।

সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি পাবেন দুটি আসন। একই সঙ্গে খেলাফত মজলিস ও জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামও পাবেন একাধিক আসন।

বিএনপি উচ্চপর্যায়ের সূত্রে জানা যায়, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দলগুলোর মধ্যে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে ঢাকা-১০, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুকে ঢাকা-৭ ও নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরীকে ঢাকা-৬ আসন দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক আ স ম রবকে লক্ষ্মীপুর-৪ আসন থেকে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। আর তার দলের তানিয়া রব চাইছেন ঢাকার একটি আসন থেকে নির্বাচন করতে। সেক্ষেত্রে দুটি আসন ছাড়তে পারে বিএনপি।

ঐক্যফ্রন্টের শরিক নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নাকে বগুড়া-৭ আসনে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়টি মোটামুটি চূড়ান্ত।

কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকীকে ছাড়বেন তিনটি আসন। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মোহাম্মদ মনসুর মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে নির্বাচন করবেন- এটা মোটামুটি নিশ্চিত।

আর বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ব্যানারে সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন বলে জানা গেছে।

তবে ২০-দলীয় জোট এবং ঐক্যফ্রন্টের অন্য দলগুলোর চাহিদায় আরও বেশি আসন থাকলেও তা ছাড়বে না বিএনপি। শরিক দলগুলোর মধ্যে যোগ্য প্রার্থী কে কোন আসনে আছেন, সে বিষয়ে বিএনপিও খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। দু-এক দিনের মধ্যে এ নিয়ে শরিকদের সঙ্গে বিএনপি আলাদাভাবে বসবে।

২০–দলীয় জোটের আটটি দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত। বাকি অনিবন্ধিত দলগুলোর দু-একজন নেতাকে নিয়েও চিন্তাভাবনা আছে বলে জানা গেছে।

জোট এবং ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে আসন নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ বিষয়ে আরও পরে আলোচনা হবে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে মাহবুবুর রহমান বলেন, যেসব দল আলোচিত, তারা প্রত্যেকেই নির্বাচন উপলক্ষে নমিনেশন বিক্রি করছে। তবে কে কোন আসন থেকে নির্বাচন করবে- সে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দুই-এক দিনের মধ্যেই এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

বিএনপি নীতি-নির্ধারক এক নেতা বলেন, জোট এবং ঐক্যফ্রন্টের অন্য দলগুলোর চাহিদা রয়েছে প্রায় একশ। তবে বিএনপি এত আসন ছাড়বে না। যেসব আসনে জোটের বা ঐক্যফ্রন্টের অন্য নেতাদের জনপ্রিয়তা আছে এবং সহজে জয় আনতে পারবে তাদের মধ্যে নির্ধারিত আসন ছাড়বে। তবে কাউকে নিরাশ করা হবে না বলেও বিএনপির এই নেতা জানান।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি