logo

শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১ | ৯ মাঘ, ১৪২৭

header-ad

কী হবে বিএনপির?

ফেমাসনিউজ ডেস্ক | আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০১৯

ত্রিশ ডিসেম্বরের নির্বাচন ঘটা করেই হয়ে গেল। একাদশ সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি-জামায়াতের এ সংসদে প্রায় বিলুপ্তি ঘটেছে। যারা জয়ী হয়েছেন তারা দাবি করছেন, এত সুন্দর, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিকট অতীতে আর হয়নি। আর যারা হেরে গেছেন তাদের দাবি, তাদের জোর করে হারিয়ে দেয়া হয়েছে। বয়কট করা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে নানা সময় নানা কথাও বলেছে বিএনপি। কিন্তু তাতে হালে পানি পায়নি। পুরো পাঁচ বছর ক্ষমতা পার করেছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট।

গত কয়েক দশক দুই পরাশক্তি আওয়ামী লীগ আর বিএনপি রাজনীতির মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছে। এবারের সংসদ নির্বাচনের ফলাফল দেখে মনে হতে পারে, বিএনপি বোধহয় নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। আওয়ামী লীগ এমনটিই চেয়েছিল। মাঠে নেমেও আন্দোলন করার মতো দলীয় শক্তি বিএনপির নেই। একতরফা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি হুঙ্কার দিলেও মাঠে নামতে পারেনি। তাদের হুঙ্কারে বিএনপির তৃণমূলে হতাশা বিরাজ করছে। সংসদে বিরোধী দলের অবস্থানে না থাকার ফলে সুযোগটা নিয়েছেন জাপার হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

জেনারেল এরশাদের জাতীয় পার্টিও মন্ত্রিসভায় আসন না নিয়ে বিরোধী দলের অবস্থান নেবে। যদি তা হয়, তাহলে আওয়ামী মহাজোট থাকবে কী থাকবে না অদূর ভবিষ্যতেই তা বোঝা যাবে। বিএনপি-জামায়াত সংসদে তাদের সংখ্যা শক্তি হারালেও রাজনীতিতে তাদের অবস্থান এখনও হারায়নি। তবে এবার সংসদ বর্জন করলে বিএনপির অস্তিত্ব বিলুপ্ত হবে। তাই জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল হয়ে ওঠার অভ্যাসে পরিণত করতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতে শুরু হচ্ছে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তোড়জোড়। তবে নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ঝাঁপ চলছে শুধু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ শিবিরে। বিপরীতে বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা চুপচাপ। তারা তাকিয়ে আছেন কেন্দ্রের দিকে। সংসদে যোগ না দিলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ না-ও নিতে পারে।

বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ না নেয়ার ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে দলটি এ কথা​ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়নি। শেষ পর্যন্ত বিএনপির এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে একপেশে হয়ে যাবে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।

সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের কৌশল কী হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিএনপি নির্বাচনে না গেলে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হওয়ার হার বেড়ে যেতে পারে আওয়ামী লীগে।

আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে পাঁচ ধাপে উপজেলা নির্বাচন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মে মাসের মধ্যে বেশির ভাগ নির্বাচন শেষ করতে চায় ইসি। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। বিএনপি নির্বাচনে না গেলে নির্বাচন হবে মূলত মহাজোটের শরিকদের মধ্যে। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগের শরিকদের সেভাবে অবস্থান নেই। বিএনপি নির্বাচনে না থাকলে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে নির্বাচনে অংশ নেয়ার আগ্রহ আরও বেড়ে যাবে।

তবে বিএনপি নির্বাচনে না থাকলে নতুন প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ কী করবে তা এখনো ঠিক হয়নি। নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করার জন্য অনেক জায়গায় স্বতন্ত্র প্রার্থিতার বিষয়টি উন্মুক্তও করে দেয়া হতে পারে। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমকে বলেছেন, আওয়ামী লীগ জোটগতভাবে উপজেলা নির্বাচন করবে না। মহাজোটের শরিকরা নিজ নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করবে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফল দেখে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, উপজেলায় দলের মনোনয়ন পেলেই চেয়ারম্যান পদে জয় অনেকটা নিশ্চিত। আর বিএনপির অনেকে মনে করছেন, উপজেলা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও খুব একটা লাভ হবে না। এতে হামলা-মামলা আরও বাড়বে। তাই তারা চুপচাপ আছেন। নেতা-কর্মীরাও নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে। বিএনপি নির্বাচনে না গেলে সুযোগ হাতছাড়া করবে না জাতীয় পার্টি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে ৩ নম্বরে ফেলে জাপার নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। আর বিএনপির নেতাকর্মীদের ভেঙে গেছে মনোবল। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় নীরব তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
কী হবে বিএনপির ভবিষ্যৎ তার হিসাবও মেলাতে পারছেন না দলের নেতাকর্মীরা। বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া কী হবে বিএনপির এর সঠিক উত্তরও জানা নেই কারো।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম