logo

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০ | ৩০ আষাঢ়, ১৪২৭

header-ad

বক্তব্য-বিবৃতিতেই যাবে বিএনপির আরও ৫ বছর!

মো. রিয়াল উদ্দিন | আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০১৯

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আন্দোলনে নামার হুমকি-ধামকি দিয়েই বিএনপির গেছে পাঁচ বছর। আন্দোলনে নামা তো দূরের কথা ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে দলটি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ৩০০টি আসনের মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বৃহৎ রাজনৈতিক মোর্চা মিলে পেয়েছে মাত্র ৮টি আসন।

পরাজয়ের মাধ্যমে আবারও পাঁচ বছর ক্ষমতার স্বাদ থেকে বঞ্চিত দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অন্যতম দল বিএনপি। তবে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করায় সংসদে শপথ নেয়নি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের নির্বাচিত সাংসদরা।

বিএনপির রাজনীতির অতীত রেকর্ড পর্যালোচনা করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০০৮ সালে নির্বাচনে পরাজয়ের পর সংসদে প্রধান বিরোধী দলের অবস্থানে থেকেও জোরালো কোনো আন্দোলন করতে পারেনি বিএনপি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নিয়ে সংসদের বাইরে চলে যায় দলটি।

এরপর রাজপথে আন্দোলনের নামে আগুন সন্ত্রাস চালায়, যা জনগণের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগও জনগণকে নিজেদের অধীনে নেবার চেষ্টা করে। তবে পরবর্তীতে প্রকৃত অর্থে জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথ কাঁপানো আন্দোলনের ডাক দিতে পারেনি বিএনপি।

দীর্ঘ কয়েক বছর ঘরের মধ্যে আলোচনা সভা, প্রতিবাদ সভা, রাস্তার পাশে মানববন্ধন, বক্তব্য এবং বিবৃতির মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রেখেছিল দলটি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করলেও এখন অবধি কোনো প্রকাশ্যে আন্দোলন বা কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেনি বিএনপি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, আগামী পাঁচ বছরও বক্তব্য, বিবৃতি এবং আলোচনা সভার মাধ্যমেই কেটে যাবে বিএনপির। জোরালো কোনো আন্দোলন বা রাজপথে অবস্থান নিতে পারবে এমন আলামত দেখা যাচ্ছে না বিএনপির।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিএনপির জন্ম। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই দলটি জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। ডান-বাম ও মধ্যপন্থিদের নিয়ে গঠিত বিএনপি দীর্ঘ সময়ে অনেক চড়াই-উৎরাই পার করেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে দলের জনপ্রিয়তা থাকলেও তৃণমূলের সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতাদের যোগাযোগ না থাকায় ঝিমিয়ে পড়েছে দলটি।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জনগণকে সাথে নিতে এবং আন্দোলনের অংশ হিসেবে সরকারবিরোধী কয়েকটি দলের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে নিজেদের যুক্ত করে বিএনপি। জনগণের গণতান্ত্রিক ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হলেও সে লক্ষে কতটুকু কাজ করেছে তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন খোদ দলের নেতাকর্মীরা।

সরকারের সঙ্গে সংলাপ এবং নির্বাচনের আগে কয়েক দফায় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পরও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি দলটি। নির্বাচনের পরেও দলটির হাইকমান্ডে থেকে তেমন কোনো কর্মসূচি বা আন্দোলনের আভাস দেয়া হয়নি।

বিএনপি এখন কী করবে এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। তবে এমন প্রশ্নে সঠিক কোনো উত্তর নেই বিএনপির শীর্ষ নেতাদের। তারা বলছেন, এর আগেও কয়েক দফা কঠিন সংকটের মধ্যে পড়েছিল বিএনপি। দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর প্রথমবার জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হন।

দ্বিতীয়বার এবং ওয়ান-ইলেভেনের সময় খালেদা জিয়াসহ বিপুলসংখ্যক শীর্ষস্থানীয় নেতা কারাবন্দি হলে সংকটে পড়েছিল দলটি। সে সময় ভাঙনের মুখে পড়েছিল বিএনপি। তবে সব কিছুকেই অতিক্রম করেছে বিএনপি। বর্তমানে যে সংকটে পড়েছে বিএনপি তা থেকে উত্তরণের পথ দেখা যাচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিশ্নেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, অনেক টানাপোড়েন ও সাফল্যের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় পার করেছে বিএনপি। চারদিকে অনেক সমস্যা থাকার পরও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ঐক্যবদ্ধভাবে দল পরিচালনা করছেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর জেনারেল এরশাদের শাসনামলের চেয়ে বিএনপি এখন অনেক ভালো অবস্থানে। অনেকে ভেবেছিলেন, খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে দল ভেঙে যাবে। কিন্তু দল ভাঙেনি, ঐক্যবদ্ধই আছে।

তিনি বলেন, কারাগার থেকে খালেদা জিয়া মহাসচিবের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের গঠনমূলক পরামর্শ দিচ্ছেন। একইসঙ্গে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এমনকি তিনি কোনোরকম হিংসাত্মক কর্মসূচিতে না গিয়ে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আন্দোলন করারও পরামর্শ দিয়েছেন। এটা খুব ভালো। খালেদা জিয়া বরাবরই জনপ্রিয় নেতা ছিলেন এবং আছেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি শুধু বক্তব্য বা বিবৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিএনপি তার নিজের গতিতে আন্দোলন করে যাচ্ছে। আমাদের প্রত্যেকটি কাজই আন্দোলনের অংশ। আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম আন্দোলনের অংশ হিসেবেই। আগামীতেও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলনে অংশ নেবে বিএনপি।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে অতি দ্রুত সংগঠিত হয়ে বিএনপি আন্দোলনে যাবে।
তবে কবে থেকে এ আন্দোলন শুরু হবে এ বিষয়ে সঠিক কোনো জবাব দিতে পারেননি মির্জা ফখরুল।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আন্দোলন বলতে রাজপথে জ্বালাও-পোড়াও করাটাই মূল কথা নয়। আমরা যে প্রতিবাদ সভা, আলোচনা সভা, মানববন্ধন করছি এটাও এক প্রকারের আন্দোলন। আগামীতেও আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করবো।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম