logo

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০ | ২৬ আষাঢ়, ১৪২৭

header-ad

'আন্দোলন বেগবান করে নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায় করতে হবে'

রাজনীতি ডেস্ক | আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০১৯

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, এ সরকার ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা মামলায় আমাদের নেত্রীকে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই নেত্রীকে কারাগারে নিয়েছে, এটা আজ প্রমাণিত হয়েছে। এ সরকারকে সারাবিশ্বের মানুষ গণতান্ত্রিক সরকার বলে না।

৩০ জানুয়ারি বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম সংসদ অধিবেশন বসার প্রতিবাদে মানববন্ধনে এসব কথা বলেন তিনি।

দলীয় নেতাকর্মী ও জনগণের প্রতি আহবান জানিয়ে ড. মোশাররফ বলেন, দেশ ও জনগণকে রক্ষা করার জন্য আগামী দিনে আর একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায় করতে যেখানে যা করা প্রয়োজন, তার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে, আন্দোলন বেগবান করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায় করতে হবে।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আজকে যে সংসদ বসতে যাচ্ছে এ সংসদ জনগণের সংসদ নয়, জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। যে নির্বাচন হয়ে গেল এ নির্বাচনের তথ্যভিত্তিক একটি স্বেতপত্র আমরা বের করবো। তাতে আপনারা দেখবেন, এ নির্বাচনে এ দেশের মানুষ ভোটের অধিকার হারিয়েছে। ৫ থেকে ৭ শতাংশ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে পেরেছে।

তিনি বলেন, এ নির্বাচনটা করেছে— প্রশাসন, পুলিশ ও সরকারের বাহিনীর লোকজন। এ নির্বাচনে জনগণের কোনো সম্পর্ক ছিল না। এরকম আমরা কোনোদিন প্রত্যাশা করিনি, যেটা এবার দেখলাম। আমরা এটা শুধু প্রত্যাখ্যানই করিনি অবিলম্বে নতুন একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে হবে। তাহলে এ দেশের মানুষ আবার তাদের ভোটের অধিকার ফিরে যাবে।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, একটি কার্যকর সংসদ দেখার জন্য সারাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। যারা ভোটে বঞ্চিত হয়েছেন, যারা এখন পর্যন্ত জেলে আছেন বা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তাদের সবাইকে পুনর্বাসন করে নতুন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে।

সরকারকে পদত্যাগ ও সংসদ বাতিল দাবি করে তিন থেকে ৬ মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করার আহবান জানান মওদুদ আহমদ।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ব‌লেন, ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কময় দিন। এ দিনে এমন একটি সংসদ বসতে যাচ্ছে, যে সংসদের সদস্যরা জনগণের প্রতিনিধি নয়, তারা বিনাভোটের প্রতিনিধি। আমরা এটা বলবো না ৩০ তারিখে নির্বাচন হয়েছে। আমরা বলবো ২৯ তারিখ রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে আজকে এ সংসদ গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এটা আমার কথা নয়, এটা বিশ্বের বড় বড় মিডিয়া—ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমস, সিএনএন, বিবিসিসহ বিশ্বের বড় বড় মিডিয়ার কথা। তারা বলেছে- বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হয়নি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রশাসনের সহযোগিতায় ভোট ডাকাতি হয়েছে।

মঈন খান বলেন, একাদশ সংসদ কোনো জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। তারা ভোট ডাকা‌তির মাধ্য‌ দি‌য়ে নির্বা‌চিত হয়েছেন। যারা ভোট ডাকাতির মধ্য দিয়ে সংসদ সদস্য হয়েছেন তারা জনগণের প্রতিনিধি নয়। তারা সন্ত্রাসের প্রতিনিধি। এ নির্বাচন দেশের ১৭ কোটি মানুষ মেনে নেয়নি, নেবেও না।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম