logo

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০ | ২৬ আষাঢ়, ১৪২৭

header-ad

নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত রিজভীর, পারেননি তারেক-ফখরুলরা!

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০১৯

নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। টানা এক বছর দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

১০১৮ সালের জানুয়ারির শেষদিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেন প্রায় একশ মামলার আসামি রিজভী। এরপর থেকে কার্যালয়েই কেটে গেল তার একটি বছর। রিজভীর এ অবস্থানে দলের মধ্যে রয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

কেউ বলছেন, এর মাধ্যমে তিনি ‘আবাসিক’ নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন; আবার কেউ বলেছেন, রিজভী আহমেদ নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যা তার পূর্বসূরি তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও করতে পারেননি।

জানা যায়, পরিবার-পরিজন ছেড়ে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তৃতীয় তলার যে কক্ষে তিনি রাতযাপন করেন, সে জায়গা কারাগারে থাকার জায়গার চেয়েও সংকুচিত। দলীয় কার্যালয়ে থেকেই রিজভী নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন করেন দলের পক্ষ থেকে।

এ ছাড়া দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বেশ কয়েকটি ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিলও করেন তিনি। পরিবার ও দলের নেতাকর্মীরা নিয়মিতই তার জন্য খাবার নিয়ে আসেন নয়াপল্টন কার্যালয়ে।

কার্যালয়ের কর্মচারী ছাড়াও দলের সহ-দফতর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম এবং মৎসজীবী দলের নেতা আরিফুর রহমান তুষার তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী। তার স্বেচ্ছায় এ অবরুদ্ধ সময়ে স্ত্রী আঞ্জুমান আরা আইভীসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের খুব মিস করেন জানিয়েছেন রিজভী।

রিজভী বলেন, খুব ভোরেই ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করি। পরে তিনতলার সংবাদ সম্মেলন কক্ষে অনেকক্ষণ হাঁটাহাঁটি করি। কিছুক্ষণ পর ফ্রেশ হয়ে সকালের নাশতা করি। রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত দিনের সময় পার হয় দলীয় কর্মকাণ্ডে। এ ছাড়া দলীয় কার্যালয়ে অধিকাংশ সময় কাটে উপন্যাস আর রাজনৈতিক বই পড়ে।

রিজভী বলেন, আমি কার্যালয়ে অবস্থান করছি দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলন হিসেবে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারামুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত কার্যালয়েই থাকতে চাই।

দলের নির্বাহী কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদটি তারেক রহমানের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে এ পদে দায়িত্ব দেয়া হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম মহাসচিব হওয়ার পর রিজভী আহমেদ সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পান। এ দায়িত্ব পেয়ে রিজভী আহমেদ পরিবার-পরিজন ছেড়ে যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, এতে তার পূর্বসূরি দুজনকেও ছাড়িয়ে গেছেন। নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা তারেক রহমান-মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও করতে পারেননি। তিনি জাতীয়তাবাদী শক্তির অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। দলে সঠিক মূল্যায়ন হলে রিজভী আহমেদ পরবর্তীতে মহাসচিব বা স্থায়ী কমিটিতে যাবেন।

দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক এক সহ-দফতর সম্পাদক বলেন, রিজভী আহমেদ দলের একজন ত্যাগী নেতা, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি হয়তো ইমশনালি অবস্থান করছেন। কিন্তু দলের অনেকেই তার রাজনৈতিক ধারণা সমর্থন করেন না। তিনি প্রতিদিন ছোটখাটো বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। প্রতিদিন কথা বলতে হবে কেন? তাকে আবাসিক নেতা হিসেবে ঠাট্টা করা হচ্ছে।

প্রতিদিন স্থায়ী কমিটির নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম থাকে সেখানে তো তারা কথা বলেন। তিনি পার্টি অফিসে বসে বসে বক্তব্য দেয়ার কারণে অনেক সময় স্থায়ী কমিটি বা মহাসচিবের বক্তব্য গণমাধ্যমে গুরুত্ব পায় না। এ ছাড়া তাকে পরিবার-পরিজন ছেড়ে দলীয় কার্যালয়ে থাকতে হবে কেন? তিনি যে গ্রেফতারের আশঙ্কা করেন- এটা কতটা ঠিক?

ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহাজাহান বলেন, ‘একজন লোক যদি সার্বক্ষণিক দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করে দলের জন্য কাজ করেন- এটা তো নেগেটিভভাবে দেখার কোনো অবকাশ নেই। তিনি তো দলের জন্য কাজ করছেন।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি