logo

মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮ | ১০ বৈশাখ, ১৪২৫

header-ad

কৃষিকাজ করে মালয়েশিয়ায় পিএইচডি!

প্রবাস ডেস্ক | আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০১৮

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আব্দুল বাশির ১৯৯৮ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করলেও ভর্তি হতে পারেননি কলেজে। পরিবারের হাল ধরতে পড়াশুনা ছেড়ে কৃষিকাজ শুরু করেন। অবশ্য নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ২০০৬ সালে কৃতীত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করেন।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয় পাঠ চুকিয়ে ২০১৪ সাল থেকে মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি পুত্রা’তে পিএইচডি শুরু করেন তিনি। মালয়েশিয়ার শিক্ষাঙ্গনে এখন জনপ্রিয় নাম বাশির।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মালয়েশিয়ার যাওয়ার শুরুর গল্পটা শোনালেন বাশির নিজেই। তিনি জানান, একদিন মাঠের কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে মায়ের সঙ্গে প্রতিবেশীর আলাপ হচ্ছিল। প্রতিবেশী মাকে বলছিলেন- আপনার ছেলেরা তো পড়াশুনা করছে। এখন কৃষিকাজ করে ভবিষ্যৎ কি?

১৯৯৮ সালে এসএসসি পাসের পর পারিবারিক জমিতে কৃষি কাজ শুরু করেন। পরে দীর্ঘ বিরতির পর ২০০৬ সালে কৃতীত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাস করেন। ২০১০ সালে ঢাকার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ এবং ২০১১ সালে এমবিএ শেষ করেন তিনি।

বাশির মালয়েশিয়ায় বর্তমানে গবেষণা করছেন ‘ডেভেলপিং-ইন ইন্টারগ্রেটিভ কাস্টমার স্যাটিসফ্যাকশন মডেল বেইসড অন কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স ইন ই-ব্যাংকিং সার্ভিসেস অফ বাংলাদেশ’ নিয়ে।

মালয়েশিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশিদের যেকোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাশিরের নামটি সবার আগে চলে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, পহেলা বৈশাখ, ঈদপুনর্মিলনী, বার্ষিক শিক্ষা সফর, নবীনবরণ, বিদায় সংবর্ধনা ইত্যাদি আয়োজনে দেখা যায় তাকে।

তার হাত ধরেই ইউপিএম-এর ইন্টারন্যাশনাল কালচারাল ফ্যাস্টিভ্যালে বিশ্বের অর্ধশতাধিক দেশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ।

বাশির ২০১৫- ১৬ সেশনে বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ইউপিএম’র (বিএসএইউপিএম) প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। পরে ২০১৬-১৭ সেশনে ইউপিএম এ অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ইউপিএম’র (ইউপিএমআইএসএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন মালয়েশিয়া’র (বিএসইউএম) ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

অন্যদিকে ২০০৮ সালে ঢাকায় পড়াশুনার সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্টুডেন্ট ফোরাম ঢাকা নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। নিজ উপজেলার পিছিয়ে পড়া যুব সমাজকে এগিয়ে নিতে গঠন করেন শিবগঞ্জ ইয়ুথ সোসাইটি।

বাশির জানান, তার এ পর্যায়ে আসার পেছনে মেজো ভাই প্রয়াত আব্দুল মকিম ও মোহাম্মদ মাসিরের অবদান সবচেয়ে বেশি।

আব্দুল বাশির ১৯৮৩ সালে শিবগঞ্জ থানার কাগমারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মোহাম্মাদ একরামুল হক ও মোসাম্মাৎ আকতারা বেগমের ছোট ছেলে বাশির।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম