logo

মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৮ | ১০ মাঘ, ১৪২৪

header-ad

মিশিগানে বাংলাদেশি পিঠার বাহার

সাইফুল আজম সিদ্দিকী, (মিশিগান) যুক্তরাষ্ট্র থেকে | আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০১৮

পিঠা বাংলাদেশের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশের যে কোনো উৎসবে-আনন্দে মিশে আছে রকমারি পিঠা। আর পিঠা উৎসবের সঙ্গে মিশে আছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ। প্রবাসেও শীত থাকবে আর পিঠা উৎসব হবে না- তা কি করে হয়? তাই মাইনাস তাপমাত্রাও এই আয়োজন থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের। গ্রামীণ সমাজ ও সংস্কৃতির জনপ্রিয় এ লোকখাদ্যের স্বাদ পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশি বাসিন্দারা।

চারপাশে তুষার আর বরফের স্তূপ ঠেলে উৎসবের স্থানে পোঁছতেই চোখে পড়লো থরে থরে সাজানো পিঠা। অনাড়ম্বরভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের উদযাপন করা হলো পিঠা উৎসব ২০১৮।

ভাপা, পুলি, চিতই, পাটিসাপটা, চুঙ্গা পিঠা, গোলাপ ফুলপিঠা, লবঙ্গ লতিকা, রসফুলপিঠা, জামদানিপিঠা, হাঁড়িপিঠা, ঝালপোয়া, ঝুরিপিঠা, ঝিনুকপিঠা, সূর্যমুখীপিঠা, নকশিপিঠা, নারকেলপিঠা, নারকেলের ভাজা পুলি, দুধ চিতইসহ কত কী বিচিত্র সব পিঠার সমারোহ ঘটেছিল! জমা পড়েছিল ময়মনসিংহ, বরিশাল, রাজশাহী, চট্রগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পিঠা।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মচঞ্চল জীবনে খানিকটা স্বস্তি পেতে, শীতের বন্দিত্ব ছুঁড়ে ফেলে এ আয়োজনে উপস্থিত সকলে। প্রবাস জীবনেও বাঙালির সেই সংস্কৃতির ছোঁয়া এনে দিতে মিশিগানের একদল তরুণ বাংলাদেশি আমেরিকান প্রবাসীদের আয়োজনে শনিবার ৬ জানুয়ারি নোভাই নগরীর সিভিক সেন্টারে বসেছিল বাংলাদেশি পিঠার উৎসব। শতাধিক বিভিন্ন স্বাদের পিঠার এ উৎসবে জমায়েত হয়েছিল ছেলে-বুড়ো মিলে কয়েক শতাধিক অতিথির। মোটা কাপড়ে মুড়িয়ে ঠিকই সকলে শাড়ী-পাঞ্জাবি পড়ে হাজির। প্রবাসিদের মনের আনন্দে মুখর ছিল পুরো সন্ধ্যা।এ সময় টাটকা চালেড় আটায় তৈরি করা হয় বাহারি পিঠাপুলি। পিঠার সেই মৌ মৌ গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে সিভিক সেন্টারের পুরো হলরুমে।

সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটায় হরেক রকমের পিঠা নিয়ে হাজির হন সকল পরিবার। ডালায় ডালায় থরে থরে সাজানো হয় সব পিঠা। আগত সকলে লাইনে সারিবদ্ধ হয়ে প্লেট উচু করে নিয়েছেন পছন্দের সব পিঠা, পেট পুরে পিঠা খেয়েছেন সকলে। পিঠার সমন্বয়ক ছিলেন শান্তা খন্দকার, দিলরুবা ফাতেমা ঋতু, রওশন আরা শম্পাসহ অনেকেই।

প্রবাসে বেড়ে উঠা বাংলাদেশি শিশু- কিশোরদের অংশগ্রহণে ‘আমরা করবো জয়’ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। হল ভর্তি আতিথিরা গলা মেলান এ গানের সাথে। গান গেয়েছেন আরিজ, আরিশা, রাইয়ান, তাজরী, আতিফ, আরিয়ান, মঞ্জুরি, শ্বেতা, শ্রেয়া, শিখর, তুখড়, আলিয়া, অহরশি। এছাড়া শিশু-কিশোরদের মাঝে গান করে শ্বেতা (তোরা যে যা বলিস ভাই), শ্রেয়া হাসান (বেথভেন ফার এলিস) এর পিয়ানোর, জারা আনোয়ার (আকাশ প্রদীপ জ্বেলে), দিব্ব (আমি বাংলায় গান গাই)।

জনপ্রিয় গানের সাথে নেচেছে শ্রদ্ধা-শ্রুতি-স্নেহা তিন বোন। ঢোল আর বাঁশির সুরে বাংলা বিভিন্ন উৎসবের পোষাকের উপর ফ্যাশান শোতে অংশগ্রহণ করে নাশিতা, আতিফ, রিদিতা, সাইরিন, শ্রদ্ধ্, শ্রুতি, স্নেহা, ফারিন, রিশান, সামিন, রাইয়ান, রাফিদ, শারার, রিশাদ, ফারিযা, শ্রেয়া, আরিশা।

এরপর বাঁশির সুরের মূর্ছনায় পুরো অডিটোরিয়ামকে বিমোহিত করেন চন্দ্র নাথ। এরপর গান পরিবেশন করেন প্রবাসী শিল্পী রতন হাওলাদার (নীল আকাশের নিচে আমি রাস্তা চলেছি একা), নাঈম মাহমুদ (হৃদয় জুড়ে যত ভালোবাসা), সামিনা আলম (আমার বেলা যে যায়), ফজলে আহাদ (সেখানে সীমান্ত তোমার), নিলুফা আক্তার (নিতু), জাফরী আল ক্বাদরী (নিথুয়া পাথারে), ডায়না সরকার বন্যা (দেখেছো কি তাকে) ও আরুপ-দীপা দম্পতির দ্বৈত পরিবেশনা (মন মোর মেঘের সঙ্গী), কেউ কথা রাখেনি আবৃতি করে শোনান মোহাম্মদ সাকলাইন। কৌতুক পরিবেশন করেন অধ্যাপক আহসান হাবীব।

এমি ইসলাম, চৌধুরী আফরিন, সানজিদা বন্যা, শারমিন তানিম ও নীগার সুলতানা রিম্পি পরিবেশেন করেন দলীয় নৃত্য। এছাড়া জুগলবন্দি হয়ে নৃত্য পরিবেশন করেন নাঈম- তানজিমা, মীর রসি- সারমিন, পুলক- ফারিয়া ও রিম্পি-এমি জুটি। এছাড়া তানজিমা- আফরিন ফারিয়ার বাংলাদেশের মেয়ে ও নাঈম, মীর রসি, পুলক, সাইফ ও আবু রাসেল এর ঢাকার পোলা দর্শকদের ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনায় ছিলেন ফারজানা তাসমিন ও পরিচালনায় সাইফুল সিদ্দিকী।

বাংলাদেশের সংস্কৃতি, সকল উৎসবের উর্বর ইতিহাস প্রবাসে বেড়ে উঠা প্রজন্মকে জানাতে এ আয়োজনের গুরুত্ব অনেক বলে জানালেন আগত অতিথিরা। নৈশভোজের পর এ পিঠা উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন শরিফ হাসান এবং সাইদ ফয়সাল।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/এসআর/এসএম