logo

মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৬ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

তেল শিল্পে মিশরের মহাপরিকল্পনা

ইউ.এইচ.খান, মিশর থেকে | আপডেট: ১১ মার্চ ২০১৮

মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম সামরিক শক্তির দেশ মিশর। বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরবের পাশেই মিশর অবস্থিত। ভৌগলিক অবস্থানগত কারণ ও লোহিত সাগরের বিশেষ অঞ্চলের দখল মিশরের হাতে থাকার ফলে প্রচুর পরিমাণ তেলের খনি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের অনেক পরাশক্তি দেশ মিশরে অনুসন্ধান করার জন্য নিয়মিত দেনদরবার করে। মিশরে তেলের মজুদ সম্পর্কে যেসব ভূতাত্বিক সার্ভে হয়েছে, তার প্রায় সবই আধুনিক ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি আসার আগেকার সময়ের।

মিশর , বাংলাদেশ বা ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো সাধারণত পশ্চিমা দেশগুলোর কম্পানিগুলোর কাছে সার্ভেসহ খনিজ উত্তোলন চুক্তি করে। যেমন বাংলাদেশ তার নিজ ভূমির প্রায় সব গ্যাস অঞ্চলই সার্ভেসহ উত্তোলন চুক্তি করেছে। ফলে বহুজাতিক কম্পানিগুলো সার্ভের খরচ ও সফল না হওয়ার সম্ভাবনার দোহাই দিয়ে ইচ্ছেমত চুক্তি করে নেয়। ফলাফল হিসেবে নিজ দেশের গ্যাস এখন উচ্চমূল্যে তাদের কাছ থেকে কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

মিশর অবশ্য সে পথে হাঁটেনি। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মিশর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মিশর নিজ সরকারে অধীনে শুধু সার্ভের জন্য একটি কোম্পানি গঠন করে মিশরের লোহিত সাগরের তলদেশ সার্ভে পরিচালনা করছে। সার্ভের ফলাফল হাতে নিয়ে তারা তেল উত্তোলনের জন্য কম্পানির সঙ্গে দর কষাকষি করবে। এতে মিশর সরকার সর্বোচ্চ মুনাফা সংরক্ষণ করতে পারবে।  

মিশরের এ ধরনের পদক্ষেপ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আশাব্যাঞ্জক উদাহরণ। আর এই প্রকলল্পকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়নের কাজ করে যাচ্ছে মিশরের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার তারেক আল মোল্লা গত ১০ মার্চ মিশরের গারদাকা শহরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মিশরের রেড সি প্রদেশের গভর্নর মেজর জেনারেল আহমেদ আব্দুল্লাহ।

অনুষ্ঠানের পূর্বে  এই প্রকল্পে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক খনিজ অনুসন্ধানকারী জাহাজ ‘ডং ফেং ক্যাং তাং ০১’  প্রদর্শন করা হয়। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, মিশরের অধীন লোহিত সাগরের ৯২ শতাংশ জরিপ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। চলতি মার্চ মাসের মধ্যেই বাকি ৮ শতাংশ জরিপ শেষ হবে।

ফেমাসনিউজ২৪/আরআই/আরবি