logo

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১২ আশ্বিন, ১৪২৭

header-ad

সময়ের স্রোতধারায় বিলাইছড়ি

পুষ্প মোহন চাকমা, বিলাইছড়ি, রাঙ্গামাটি | আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০১৪

সময়ের ধারাবাহিকতায় বছর গড়াতে পূর্ণ হয়েছে বিংশ শতাব্দী, তেমনি ২১শ শতাব্দীকে পূর্ণ করতে শেষ হলো আরও একটি বছর। সময়ের এ স্রোতধারার সাথে আমাদের মানব সভ্যতার উন্নয়ন ও সামনে এগিয়ে চলার পরিকল্পনাও থেমে নেই। কিন্তু পরিকল্পনার সাথে আমাদের বাস্তব ক্রিয়া-কলাপের কতটুকু সংগতি রয়েছে তা আমাদের একটু ফিরে দেখা দরকার। যাতে আমাদের অতীতে ভুল-ত্র“টি থেকে থাকলে সে ভুলের অভিজ্ঞতার আলোকে ত্র“টি শুধরানোর শিাটা করে নিতে পারি। আর অপরদিকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ড বা ভূমিকাগুলোকে দৃষ্টান্ত হিসেবে পুঁজি করে অনাগত ভবিষ্যতে মানব সভ্যতার কল্যাণে ব্রতী হয়ে সামনে এগিয়ে চলার আরও উচ্ছ্বাস ও অনুপ্রেরণার শক্তি সাহস যুগিয়ে নিতে পারি এ চেতনাও আমাদের থাকা চাই। যাতে করে যার যার অবস্থান থেকে আমাদের নেতৃস্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত ভূমিকাগুলো দেশ উন্নয়নে তথা সর্বসাধারণের অধিকার বা প্রাপ্য সুবিধাগুলো যথাযথ বাস্তবায়ন করতে অনুগত থাকতে পারি। কিন্তু বলার অপো রাখেনা যে, আমাদের সকলের দায়িত্ব হলো সকল কাজে সর্বদা ইতিবাচক ভূমিকা পালন করা। তাই ইতিবাচক তথ্য বা কর্মকাণ্ডগুলো স্বাভাবিক ব্যাপার হিসেবে আলোচনায় কম উঠে আসে সাধারণ জনগণের মূখে। অপরদিকে নেতিবাচক বা মন্দ কাজগুলো জনমূখে আলোচনার ঝড় বয়ে দেয়, এটাও খুব স্বাভাবিক। কারণ মন্দ, সেটা কারো কাম্য নয় অর্থাৎ মানব চিন্তার প্রতিকূল একটি আচরণ। সে কারণে এটি অস্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপ হিসেবে কোন মন্দ ঘটলে মানুষ চমকে ওঠে, শিওরে ওঠে। ফলে জনমনে আলোচনার ঝড় ওঠা স্বাভাবিক একটি ব্যাপার।
বিলাইছড়ি উপজেলায় অনুরূপ ঘটে যাওয়া বাস্তবতার অনুকূলে আমি কিছু আলোকপাত করতে চাই, যা অতীতে পত্র-পত্রিকায় সমালোচিত হয়েছে অথবা মিডিয়ার চোখে আরও অনেককিছু আড়ালে থেকে রয়েছে। যা ২০১৪সালে সংঘটিত হয়েছে অথবা তার আগে সংঘটিত হয়েছে কিন্তু হয়তোবা ১৪সালের সময়ে তা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি অথবা ফিরেও দেখা হয়নি।
সুনির্দিষ্ট করে বলতে গেলে বলতে হয়, উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নে এগুজ্যাছড়ি ও ওড়াছড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। যেগুলোর মান সম্মত কাজ করা না হওয়ায় বছর খানেক না যেতে ভেঙে পড়েছে অথবা ডেবে গিয়ে জনগণের ব্যবহারে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। আর কিছু কিছু হয়তো জনমানবহীন জঙ্গলের মাঝে ব্রিজ রয়েছে অথবা লোকালয় থাকা সত্ত্বেও যাতায়াত অনুপযোগী হওয়ায় সেগুলোতে মানুষের যাতায়াত বা হাঁটা-চলা নেই। এসমস্ত ব্রিজগুলোর দুর্নীতি বা অনিয়মের বিষয়ে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ করা হয়েছে। এরপরবর্তী দেখা গেল ১৪সালে রাঙামাটির একটি অনলাইন মিডিয়াতে নিউজ দেওয়া হয়েছে যে, সেগুলোর তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি টিম বিলাইছড়ি আসছে। কিন্তু এরপরবর্তী আসলে কি হয়েছে তা বিলাইছড়িবাসীর জানা নেই। এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শুভ মঙ্গল চাকমার সহিত ফোনে কথা হলে তিনি জানেন না বলে মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, পত্রিকায় প্রকাশিত সে অনিয়মের কাজগুলো তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশনের টিম এসেছে কিনা আমি সঠিক জানি না। তবে একদিন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম এর সাথে এক ভদ্রলোককে দেখেছি এবং পিআইও তাকে জেলা দুর্নীতি দমন বিভাগের কর্মকর্তা হিসেবে আমাকে পরিচয় দিয়ে দেন। এছাড়া আর কিছু আমার জানা নেই বলে তিনি জানান।
তবে এরপরবর্তীতে ইউএন নুরুল ইসলামকে নোয়াখালীতে বদলী করা হয় এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, ৯২-৯৩ মহাখালী বা/এ ঢাকা-১২১২ কর্তৃক ৫১.০১.০০০০.০০৩.১৯.০০৫.১৪-৮৬০, তাং- ০১/০৯/২০১৪ মূলে বর্তমান কর্মস্থল বিলাইছড়ি হতে বদলীকৃত কর্মস্থল বান্দরবান, নাই্যংছড়িতে ১৫/০৯/২০১৪ইং তারিখে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় আগামী ১৬/০৯/২০১৪ তারিখে তিনি তাৎক্ষণিক অবমুক্ত/স্ট্যান্ড রিলিজ গণ্য হবেন বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ প্রক্রিয়ায় সেপ্টেম্বরে’১৪ সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাই্যংছড়ি বদলী হলে পরবর্তী নভেম্বর’১৪ মাসে পুণরায় বিলাইছড়ি উপজেলায় কর্মস্থলে যোগদান করেন।
 

তবে কত তারিখে যোগদান করেছেন তার সুনির্দিষ্ট সময় জানা যায়নি। ২০১৪ সালে এবং তার পূর্বে সম্পাদিত উপজেলায় জনগণের কাজে আসেনি এমন কতগুলো অনিয়মের কাজ নজরে পড়ে। কাপ্তাই লেকের পানি না থাকায় প্রকল্প সম্পাদনের সময় সাধারণ জনগণ তা কল্পনা করতে পারে নি। তাই বলে প্রশাসনেরও কল্পনার বাইরে থাকবে সেটা বিবেচ্য নয়। ১৪সালে এলজিইডি বিভাগ হতে বিভিন্ন দৈর্ঘ্যরে কতগুলো কাঠের ফুটব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে যেগুলোর পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানা যায়নি। তারমধ্যে গাছকাটাছড়িতে একটি নির্মাণ করা হয়েছে সেটি তলিয়ে গেছে কাপ্তাই লেকের পানির নিচে। যার দরুন সেখানকার মানুষ তা ব্যবহার করতে পারেন নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া বহলতলী, গাছবানে একটি কাঠের ব্রিজ করা হয়েছে সেটিও কাপ্তাই বাঁধের পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এসেছে। এদিকে সংযোগ রাস্তাবিহীন বিলাইছড়ি মডেল হাইস্কুল এন্ড কলেজ এর উত্তর পার্শে ডরেেমাটরী এবং স্কুলের সংযোগ হিসেবে একটি কাঠের ফুটব্রিজ নির্মাণ করা হয়। সেটিও কাপ্তাই বাঁধের পানির নিচে তলিয়ে যায়। এছাড়াও দেখার বিষয় হলো ডরেেমাটরীর চারিপার্শে লোকালয়ের অবস্থান। সেদিকে যাতায়াতের কোন চিহ্ন নেই। তবে কেন সেখানে ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে সেটা এখন জন মনে প্রশ্ন! এ ব্রিজ নিয়ে এখন মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক মোঃ নুরুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী প্রশাসনে একটি আবেদন পেশ করেছেন। আবেদনে যদিও অনেক দপ্তরে অনুলিপির উল্লেখ আছে কিন্তু সে অনুলিপি এখনও কারো কাছে পৌঁছেনি। এ বিষয়ে প্রধান শিক জানান, নির্বাহী অফিসারের উত্তরের উপর ভিত্তি করে অনুলিপিগুলো প্রেরণ করা হবে। আবেদনে এবং মৌখিকভাবে তিনি বলেন, ডরেেমাটরীর বস্তীবাসীরা সম্পূর্ণ যোগাযোগের জায়গা জুড়ে স্থাপনা তৈরি করেছেন। অথচ তার ৩’শতাধিক ছাত্রছাত্রী ডরেেমাটরীর দিকে আধা কিলোমিটার রাস্তা বাদ দিয়ে ২ থেকে ৩ কিলোমিটার দূরত্ব রাস্তা হেটে আসতে হচ্ছে। অনেক ছাত্রছাত্রী হাঁটার দূরত্ব হওয়ায় স্কুলে অনুপস্থিত হচ্ছেন।
পানির স্তরে তলিয়ে যাওয়া কাঠের ব্রিজ নির্মাণ বিষয়ে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার বদর উদ্দিন আহম্মদ এর সাথে যোগাযোগ হলে তিনি বলেন, ব্রিজগুলো এখন পানির স্তরের উপরে উঠে এসেছে এবং লোক হাঁটা-চলা করতে পারছেন।
প্রকৃতপে উপজেলায় এসমস্ত অযৌক্তি এবং অনিয়ম অনেক কার্যক্রম চোখে পড়ে। এদিকে ২নং কেংড়াছড়ি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড ভালাছড়ির একটি স্যাটসেটে কর্দমাক্ত জলাশয়ে ব্রিজ নির্মাণের জন্য ইঞ্জিনিয়ার এর পরিদর্শনে পরিমাপ করা হয়। কিন্তু সম্ভবত ২০১১-১২ অর্থ বছরে সেটি ত্রাণ ও দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের নির্মাণ বাজেট অনুমোদন হলে পরিদর্শন ও পরিমাপকৃত জায়গায় স্থাপন না করে অন্য জায়গায় সেটি স্থাপন করা হয়। যেটি নির্মাণ বাস্তবায়ন শেষ হতে জনগণের কোন প্রকার কাজে আসেনি। কাপ্তাই বাঁধের পানি কমে গেলেও সেটি কোন কাজে আসে না আর পানি আসলেও সেটি থাকে পানির মাঝখানে। দু’মাথায় আর প্রায় ৩০ মিটার করে পানি বা জলাশয় থাকে। যারফলে ওখানকার জনগণের কাজে মাত্র ১ টাকার কাজে আসেনি বরং ঐ জমির মালিক ধেঙা চাকমা (৪২) এ ব্রীজের জন্য তার জমিতে অনেক তি হয়েছে বলে জানান। তিনি জানান তার অসম্মতিতে ব্রিজটি করা হয়েছে। এখানে আরও দেখার বিষয় হলো যে, এ ব্রীজের দু’মাথায় মাটি ভরাট প্রকল্প হিসেবে কেংড়াছড়ি সংশিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ হতে পর পর এ পর্যন্ত ৩ থেকে ৪টি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। তবে এগুলো কখন কোন খাত থেকে দেওয়া হয়েছে তা সঠিক জানা যায়নি।
এখন কথা হলো যে, উন্নয়ন প্রক্রিয়ার এ ধরনের স্রোতধারা আমাদের উন্নয়নের কোন দিকে গড়িয়ে নেবে! দেশের অবস্থা কি হবে! সরকার দেশ উন্নয়নে তথা জনগণের সুবিধার, প্রাপ্য এবং চাহিদা পূরণের জন্য যেখানে যা দরকার তা দেওয়া সত্ত্বেও যদি আমরা তার সহকর্মীরা এরকম অনিয়ম করতে থাকি তাহলে দেশ তথা সরকারের ফলাফল কি দাড়ালো? আর কথা হলো যে, প্রকৃতপে এগুলো দেখার এবং শুধ্রানোর সঠিক ব্যবস্থা আদৌ সরকারের রয়েছে কি না?