logo

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৫ আশ্বিন, ১৪২৭

header-ad

বেরসিক ট্রাফিক

ইব্রাহীম হোসেন | আপডেট: ০৬ মে ২০১৪

বোশেখের তপ্ত রোদ যখন তাঁতানো তাপ নিয়ে নামছে নিচের দিকে, তখন রাস্তা থেকে গরম ধোঁয়া বের হয়ে উঠছে উপরের দিকে। প্রেয়সীকে পাশে বসিয়ে রিকশার হুড তুলে গরমে সিদ্ধ হবার জোগাড়। শরীরের পানি সব ঘাম হয়ে নিচের দিকে নামছে।

বেকার মাথায় কাজের চিন্তা নিয়ে মুখখানি তবু হাসি হাসি করে দাঁত কেলিয়ে প্রেয়সীকে বোঝানো, 'আহ্! বেশ ভালো লাগছে!' ওদিকে পকেটে অবশিষ্ট ঘামে ভেজা হাতে গোনা টাকায় রিকশাওয়ালাকে মিটিয়ে সামান্য চটপটি বা আইসক্রিমের বিল মিটবে কিনা সন্দেহ!

এমনও সময় পুলিশ নামধারী ট্রাফিক যদি ক্রিকেট আম্পায়ারের মতো দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়ায়, তখন জীবনের সংজ্ঞাই অসংজ্ঞায়িত হয়ে যায়!

আসলে পরিণত যৌবনেও অপরিণত স্বাদ পেতে নিজেকে পরিপাটি করে এই রিকশা প্রেমে বাধা পড়লে ট্রাফিক পুলিশকে 'বেরসিক' বলাটা বোধ হয় দোষের কিছু নয়।  আর পুরান ঢাকার টিয়েপাখির ভাগ্য গননার হিসেবে এই প্রেম-ট্রেম আবার আমার ধাঁচে সয় না। কেবল গার্লফ্রেন্ড নামক বস্তুর পারফিউমের গন্ধে শরীরের ভাঁজে ভাঁজে লুকায়িত যৌবন অবলোকন করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

যাই হোক, যাচ্ছি তো রিকশায় দুজনে দুজনার গায়ে গা চেপে। অসম্ভব গরমে ভালো লাগাটাও কিছুটা জমে উঠছে।

এমনও সময়, তাঁতানো রোদগরমে কানের মধ্যেই যেন গরম সিসা ঢেলে দিলেন মগবাজার চৌরাস্তায় দাঁড়ানো ট্রাফিক পুলিশ। তীব্র গরমে দর দর করে ঘামছেন তিনি। সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। কিন্তু ঠাণ্ডা গলায় এটা কি শোনালেন ট্রাফিক মশাই!

'এই পথে রিকশা প্রযোজ্য নয়!'

বলে কি ব্যাটা!এখন সিএনজি বা ট্যাক্সিক্যাব নিয়ে শাহবাগ! চোখের ওপর দিয়ে খানিকটা ধোঁয়া বের হয়ে যায় আমার। আর গলাটাও কেমন যেন শুকিয়ে আসতে চায়।

এক গ্লাস ঠাণ্ডা পানি হলে ভালো হতো!