logo

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৫ আশ্বিন, ১৪২৭

header-ad

ব্রেকআপ অতপর......

অ্যাড. সোহেল এমডি রানা | আপডেট: ০১ জুন ২০১৬

এ যুগের ছেলে মেয়েদের কাছে কিছু ব্যাপার খুব বেশি সহনীয় হয়ে ওঠেছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে খুব সহজে রিলেশান তৈরি করা এবং তার চেয়েও সহজে তা ভেঙে দেয়া। কারো সাথে সম্পর্কে জড়ালে ফেসবুকে স্টটাস দেয় In a relation @ feeling happy আর তা ভেঙে গেলে স্টটাস দেয় breakup @ feeling sad. যেন কারো মন নিয়ে আইপিএল খেলা।
এ যুগের কলেজ পড়ুয়া এক সাধাসিধে নম্র ভদ্র ছেলে ইমন। মেধাবী ছাত্র। দেখতে মোটেই ভাল না। কালো লিকলিকে একটা মানুষ। ভাল পোষাক আশাক তার দেহে কোনদিন ওঠেনি। ওঠবেইবা কি করে, কিনতেই তো পারেনি কোনদিন। পুরো স্কুল-কলেজ জীবনে দু'সেট প্যান্ট শা্র্ট জুটেছে টেইলর মাস্টার দুলা ভাইয়ের সুবাদে। কলেজের শেষ জীবনে তারই সহপাঠি ধনীর দুলালী এক মেয়েকে একদিন প্রোপোজ করে বসল। মেয়েটি সুন্দরী, চটপটে, এবং মায়াময় ;স্মা্র্ট তো বটেই। এই বয়সে আবেগ ধরে রাখা কঠিন। তার কি করার।

মেয়েটি বুঝে ওঠতে পারছিল না কি বলবে বা কি করবে। কারণ সে এই ছেলেটিকে কখনোই এভাবে কোনদিন ভাবেনি। চেয়েছে তার সাফল্য তবে তার সাথে করুণা মিশ্রিত ছিল। ধারণা ছিল এই ছেলে পড়াশুনা ছাড়া কিছুই বোঝেনা। যাহোক, নীরা দু'দিন সময় চাইল ইমনের কাছে।
সেদিন ছিল সোনাঝরা রোদ। সকাল আনুমানিক ১০ টা। কলেজের অদূরে একটা নদীর ধারে ওরা একটা সোনালু গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছিল। অনেকক্ষণ দুজনেই চুপচাপ। নীরা নীরবতা ভেঙে বলল ইমন এটা সম্ভব না। আমি সরি।
ইমন বলল সরি বলার কিছু নেই। তোমাকে আমার ভাল লাগে এবং সারা জীবনেই লাগবে। প্লিজ। আমাকে ফিরিয়ে দিও না। বলে নীরার একটা হাত ধরে ফেলল। সাধারণত এই স্বভাবের ছেলেগুলো এমনই হয়ে থাকে মিনমিনে কিন্তু নিজের টা ভাল বুঝে। নিজেরটা আদায়ে এরা সফলকামী।
নীরা দ্রুত হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে লজ্জাবনত আর রাগতভাবে ইমনের দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। এরপর যে রকম বজ্রপাত পড়লে বাংলাদেশে নিরীহ মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই মারা যায়, ঝলসে যায় তনুমন তেমনি কয়েকটি বজ্রপাত পড়ল ইমনের উপর।
নীরা বলতে শুরু করল এই ছেলে, তোমার এত লোভ কেন? তুমি নিজের চেহারা কখনো আয়নায় দেখছো? আমাকে ভালবাসার মত তোমার কী যোগ্যতা আছে, বল? তোমার পরিবারের কেউ কোনদিন আমার পরিবারের সামনে দাঁড়াতে পারবে? তুমি জানো, কলেজের কত ভাল ভাল ছেলে, বড় লোকের ছেলে আমাকে প্রোপোজ করেছে আমি সাড়া দেইনি? আর তোমার মধ্যে এমন কিছু নেই যে তোমাকে পছন্দ করব। ছি ছি ছি ইমন আমি কোনদিন ভাবিনি তুমি এমন করবে। একদমে কথাগুলো বলে নীরা অত্যন্ত বিরক্তি প্রকাশ করে চলে গেল। আর ইমন যেনো কিছুই বুঝে ওঠতে পারলো না তার কি করা উচিত। ইমনের দু'চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে মন পর্যন্ত ভিজে একাকার হয়ে গেলো। নদীর জোয়ারের পানি শেষে ভাটার পানি নামতে লাগল। ইমন নিথর দাঁড়িয়ে রইল যেনো তার পৃথিবীর সকল সুখ ভাটার টানে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এরপর আর কলেজ জীবনে দুজনার মধ্যে কোনদিন মুখ দেখাদেখি হয়নি। ইমন আর কোনদিন কলেজেই আসেনি তবে বোর্ড পরীক্ষা ভাল করেই দিয়েছিল। তারপরও এইচ এস সি তে বরিশাল বিভাগে ২য় স্থান অধিকার করে। কিন্তু বিপত্তি ঘটল তার লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব হচ্ছিল না। তার মা বলেছে মানুষের দ্বারে দ্বারে সাহায্য তুলে এই বুড়ো বয়সে তার পক্ষে আর পড়ানো সম্ভব নয়। কাজ কামের ব্যবস্থা কর্। শহরে চইলা যা। গরীব মাইনসের এতো পড়ালেখা দিয়া কি অইবে?
নীরার প্রত্যাখানের পর এমনিতেই মনটা খারাপ। তার উপর এত ভাল একটা রেজাল্ট করার পরও উচ্চশিক্ষা গ্রহনের সুযোগ না থাকায় কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে একদিন নিরুদ্দেশ যাত্রা করল।
একদিন এক ফেরীতে একেবারে আনমনা হয়ে খুব উদাসী ভঙ্গিতে অপলক দৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে সূর্যের ডুবে যাওয়া দেখছিল। চুলগুলোও কয়েকদিনের অবহেলায় বেয়াড়া হয়ে উড়ছিল। ডুবে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে যেই একটু নড়ে ওঠল সেসময় হঠাৎ একটা শব্দ তার কানে আসল "নড়োনা নড়োনা। ঠিক দাঁড়িয়ে থাক।" একজন ফটো সাংবাদিক ওর ছবি তুলছিলেন। ইমন বলল স্যার পোজ দিয়ে দাঁড়ালে আর ঐ দৃশ্যটা আর হবেনা। There are far difference between natural & artificial look. ছেলেটার কথা শুনে সাংবাদিক অবাক হয়ে গেলেন। আয়রণবিহীন কুঁচকানো ময়লা প্যান্ট আর সস্তা শা্র্টপড়া উদভ্রান্ত



একটা গেঁয়ো ছেলে কী বলল এটা। সাংবাদিক ওর কাছে এগিয়ে এল। তুমি কি কর? বাড়ি কোথায়? লেখাপড়া কতটুকু? কথাশেষ না হতেই সাইরেন বাজিয়ে পাড়ে ভিড়ল ফেরী। মানুষের এদিক সেদিক ছুটাছুটি আর কর্ম চঞ্চলতা বেড়ে যায় কিন্তু এই মানুষ দু'টি একে অপরকে ছাড়ে না। ঘাটে নেমে একটি চায়ের দোকানে বসে মধ্য বয়সী সাংবাদিক একটি সিগারেট ধরিয়ে একটান দিয়ে বলল -হ্যা বল, তোমার কথা বল। সব শুনে সাংবাদিক হতবিহ্ববল হয়ে গেলেন। বলল এখন কি করবে? উত্তর জানিনা। আমার সাথে ঢাকা চলো। দেখি তোমার জন্য কিছু করা যায় কিনা। ইমন বলল কিছুই করতে হবেনা স্যার যদি পড়ার একটু সুযোগ করে দেন তো সাড়া জীবন কৃতজ্ঞ থাকবো। Lets move.
★★★

লালমাটিয়ার বাসায় ফিরে নিঃসন্তান দম্পত্তির নিরিবিলি ঘরে যেন এক টুকরা আলো নিয়ে এলেন সাংবাদিক জামান সাহেব। তার স্ত্রী এত ভাল মানুষ যে তার কথা বলে শেষ করা যাবে না। তার সেই মায়া আর ভালবাসার ঋণে দায়বদ্ধ হয়ে গেল ইমন।
বার বছর পরের কথা। ইমন ঢাকা ম্যাডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করে স্কলারশীপ নিয়ে আমেরিকা থেকে হার্ট স্পেশালিস্ট হয়ে দেশে ফিরেছেন। ডাক্তারি বিদ্যায় এরই মধ্যে নাম কাম যশ ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে। দেশের সেরা সেরা হাসপাতালে তার জন্য ভিআইপি কত রোগি অপেক্ষা করে ঘন্টার পর ঘন্টা। সাত দিন আগে সিরিয়াল দিতে হয় ডাঃ ইমন হাওলাদারের। কিন্তু সে অতীত ভুলেনি। তাইতো সপ্তাহে একদিন করে বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের হাসপাতালগুলোতে নাম মাত্র ভিজিটে রোগী দেখন। যাতে গরীব মানুষের একটু উপকার হয়।
এর মধ্যে আরো অনেক ঘটনা ঘটে গেছে। বাড়ি ছাড়ার এক বছরের মধ্যে তার মা মারা যায় যা সে জানতে পারে অনেক পরে। বাবা তার মাকে ছেড়ে যে মহিলাকে নিয়ে সংসার করছিলেন সেই তারাও এখন আর নেই। বাবা মারা যান মাছ ধরতে গিয়ে। আর এক ঝড়ে মারা যায় সৎ মা। ঐ ঘরের একটা ছেলে আছে। বাজারে ছোট একটা দোকান করে খায়। সাংবাদিক পরিবার ইমনকে এতো মায়া মমতা যত্ন আর ভালবাসায় আজকের ইমনকে গড়ে তুলেছেন যে তারা যে তার সত্যিকারের বাবা নন তা ইমনের বিশ্বাস করতেই কষ্ট হয়। তারা তার বিয়ে ঠিক করেছেন। আজ মেয়ের পরিবার বাসায় আসবে। কথা ফাইনাল করতে। বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর একমাত্র মেয়ে বুয়েট থেকে ট্রিপলই করা সুন্দরী স্মার্ট মেয়ে। মেয়ে নিজেই ওকে পছন্দ করেছে। তাই আজ ইমনের ছুটির দিন। ব্যালকুনিতে বসে দোল চেয়ারে দোল খেতে খেতে অনেকদিন পর তার মনের চোখে অতীতের মায়াবী পর্দাটা কেন জানি দুলে ওঠছে বার বার। খুব করে মনে পড়ছে গ্রামের কথা, বন্ধুদের কথা, কলেজ জীবনের সেই দিনগুলির কথা, নদীর জোয়ার-ভাটার কথা, নীরার কথা।
কেমন আছে সব অতীত? নীরা? হঠাৎ একটা বিষন্নতা চেপে ধরে তাকে। দোল চেয়ারটা থেমে যায়। নিশ্চুপ নীরবতা। আই ফোনের সফট্ রিংটোনে নীরবতা ভাঙে। জ্বী, আচ্ছা আচ্ছা, আমি এখনই আসছি। ফোনে কথা বলতে বলতে চট জলদি রেডি হয়ে হাসপাতালের উদ্দ্যেশে রওয়ানা দিল। মা, একটা জরুরী অপারেশনের রোগী এসেছে। আমি যাচ্ছি।
মা বলল আরে, তুইনা আজকে ছুটি নিয়েছিস। দেখ্তো, একটু বাদেই মেয়ে পক্ষের লোকজন আসবে। ওরা কি বলবে? দেখোতো, আমি কি করি এখন। সব ঠিকাছে মা। তোমরা আছো না। তোমরাই আমার সব। তোমরা যা বলবে আমি সব মেনে নেব। শুধু মেয়ে পক্ষ মানলেই হয়। বিয়ের চেয়ে একজন মানুষের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা অনেক বড়। বলতে বলতে নিজের প্রাইভেট কারটি নিজেই ড্রাইভ করে সরাসরি হাসপাতালে পৌছালো ইমন।
দ্রুত রোগীর আপডেট আর হিস্ট্রি নিয়ে টেস্টগুলো দেখে বোর্ড মিটিংয়ে হাজির হলেন। কয়েকজন নামকরা ডাঃ ইমনকে দেখে যনো আশ্বস্থ্য হলেন। অালোচনার শেষে ডাঃ ইমনের সিদ্ধান্তের প্রতিPvPvhpflvpv+&pvা দুই পর বের হয়ে এলে সবুজ মুখের এপ্রোন নেকাবটা খুলার আগেই তার হাত জড়িয়ে ধরে বাচ্চাদের মত হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলেন রোগীনির বাবা। ডাক্তার সাহেব প্লিজ আমার মেয়েটিকে বাঁচান। ইমন তাকে শান্ত্বনা দিতে গিয়ে তার চোখ যেন শক্ত হয়ে গেল। তবু নিজেকে চেপে গিয়ে বলল - অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছে বাদ বাকী উপরওয়ালার হাতে। বলেই রুমে ঢুকে পড়ল। সাথের লোকজন ঐ ব্যক্তিকে বলল আপনি ওয়েট করুন।
একা একা ইমন চিন্তা করছে এ আমি কি দেখলাম। নীরা এতটা অসুস্থ্য, নীরার বাবা আজ এতটা অসহায়! ইমন আর বাসায় ফিরেনি। সারা রাত হাসপাতালে জেগেই কাটিয়ে দিলেন। ভোরের দিকে চেয়ারে বসেই কখন চোখটা লেগে এসেছিল টের পাননি। সকাল দশটার দিকে নার্সের ডাকে তার সম্বিত ফিরল। স্যার, প্যাশেন্টের সেন্স ফিরেছে। হ্যা, চল দেখি।
অনেকগুলো মেশিনে নীরার হার্টবিট চলছে। এক সপ্তাহের মধ্যে ইমন অনবরত রোগিনীর খোঁজ রেখেছেন এবং তার পরিচিত বলে সব খুব যত্নে চলছে। একদিন নীরার বাবাকে চেম্বার ডাকলেন। জানতে চাইলেন ওর ব্যাপারে। তখন আমি পৌরসভার চেয়ারম্যান। নীরা হঠাৎ আমার দলের ছাত্রনেতা এবং কলেজের ভিপি এক ছেলেকে ভালবেসে আমাকে না জানিয়ে বিয়ে করে ফেলে। তাদের দুই বছরের সংসার জীবন খুবই অসুখের ছিল। কারণ নীরার হার্টের এই সমস্যাটার জন্য প্রায়ই অসুস্থ্য থাকতো। যুবক ছেলে স্ত্রীকে নিজের মত করে না পাওয়ায় তাকে এভোয়েট করতে থাকে। একসময় নীরা নিজেই অপমান সহ্য করতে না পেরে আমার কাছে চলে আসে। এর বছর খানিক পর এক রাজনৈতিক সহিংসতায় ওর হাজব্যান্ড মারা যায়। এতে মানসিকভাবে আরো ভেঙে পড়ে। আর মাঝে মাঝে আমাকে বলতো বাবা আমি মারা যাবার আগে যদি একজন মানুষের সাথে দেখা করতে পারতাম!
আমি জিজ্ঞেস করলে সে নাম বলতো না শুধু বলতো নাহ্, কেউ না।
ধীরে ধীরে ওর অসুখটা বাড়তে থাকে। চিকিৎসা নিতে নিতে আজ শেষ ধাপে আপনার হাতে স্যার। নীরার বার চোখ জলে ভিজে ওঠছিল। তার কাঁধে শান্ত্বনার হাত দিয়ে ইমন বলল, চাচা কাঁদবেন না। তবে ওর অবস্থা ভালনা। এই অপারেশনটা সফল হলে হয়তো মাস তিনেক সময় পাবে। স্যার, আপনি কাঁদছেন?
চাচা, আমাকে স্যার বলবেন না আমি আপনাদেরই সন্তান।
আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না, স্যার।
চাচা,আমি আজকের ডাক্তার ইমন হাওলাদার আপনার এলাকার সখিনা বুড়ির ছেলে। ঐ যে ভিক্ষা করে যে ছেলেটিকে লেখাপড়া করাতো আমি সেই ইমন। মেট্রিক পরীক্ষায় আমি সারা বরিশালে প্রথম হওয়ায় আপনি আমার কলেজের দুই বছরের লেখা পড়ার খরচ দিয়েছিলেন। আর আমার মা চোখে কম দেখতো বলে তাকে একটা চশমার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। চেয়ারম্যান সাহেব আবেগে জড়িয়ে ধরলেন ইমনকে। দু'জনে চোখের পানি মুছে বাস্তবে ফিরলেন। চাচা এখানে কোথায় উঠেছেন?
এক আত্মীয়ের বাসায়।
না,না। আজ থেকে আমার বাসায় থাকবেন। ধানমন্ডি। আর আমাকে যারা রাস্তা থেকে তুলে এনে মানুষ করেছেন সেই মা আর বাবা আপনাকে দেখলে খুব খুশি হবে। থাক বাবা, বৌ মা আবার কি মনে করে।
আমি এখনো বিয়ে করিনি। তবে আমার এই পরিচয়টা নীরাকে বলবেন না। প্লিজ।
জীবনের শেষ ক'টা দিন সাংবাদিক দম্পতি অার ডাঃ ইমনের বাসায় দিন কাটে নীরার। নীরাকে এত যত্ন নিয়ে সেবা করেন মিসেস মমতা যে একদিন নীরে ধীর স্বরে জানতে চাইলেন মা, আপনাকে সবাই মা ডাকে কেন?
আমার কোন সন্তান নাইতো, তাই।
তাহলে ডাক্তার সাহেব। মিসেস মমতা সব বললেন। নীরা যেনো বাক্ শক্তি হারিয়ে ফেললেন। তার বাবাকে ডাকলেন। বাবাকে বললেন বাবা আমি যে মানুষটার সাথে দেখা করতে চেয়েছিলাম তাকে পেয়েছি। বাবা বলল কে?
ডাঃ ইমন? বাবা তুমি জানো?
রাতে ইমন বাসায় ফিরে নীরার রুমে গেল। কী কেমন আছেন? নীরার চাহনিতে কি জানি কি ছিল ইমন বুঝতে পারলো সে ধরা পড়ে গেছে। বিছানায় আধশোয়া অবস্থায় নীরা একটু সোজা হয়ে বসতে চেষ্টা করলো। ইমন সাহয্য করল। নীরা কাঙালের মত ইমনের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর বলল তুমি! তোমাকে আমি অনেক খুঁজেছি, পাইনি। আমার প্রতিটা পরাজয়ের পর আমি ভাবতাম নিশ্চই তোমার অভিশাপে আমার এমনটা হয়। আমি তোমাকে ঘর ছাড়া, মা ছাড়া করেছিলাম, আমার জন্যই তোমাকে পথে নামতে হয়েছিল। প্লিজ, আমাকে তুমি ক্ষমা করে দিও। হয়তো তোমার কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্যই আজ আমি এখানে।
নীরার কপালে আর মাথায় হাত রেখে ইমন বলল প্লিজ নীরা, নিজেকে আর এভাবে অপরাধী ভেবো না তাহলে যে আমিও নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না।
ইমনের হাতের স্পর্শে যেন নীরার মনে আর শরীরে খেলে যায় এমন এক অনুভূতি যা কাউকে বোঝানো যায় না দেখানো যায় না শুধু উপলব্ধি করা যায়। তার মনের আকাশে উঠে সাত রঙে রাঙা রঙধনু যার রঙে একদিন ইমন চেয়েছিল রাঙা হতে।