logo

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৫ আশ্বিন, ১৪২৭

header-ad

‘পালকি’ এখন আর চোখে পড়ে না

শেখ মো. রতন, মুন্সীগঞ্জ | আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৬

মুন্সীগঞ্জে পালকি এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। কালের বিবর্তনে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন বাহনটি আজ বিলুপ্তির পথে।

আধুনিক যানবাহন আবিষ্কৃত হওয়ার আগে অভিজাত শ্রেণির মানুষ পালকিতে চড়েই যাতায়াত করতেন। মুন্সীগঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বিয়ে ও অন্যান্য শুভ অনুষ্ঠানে বর-কনের জন্য পালকি ব্যবহারের প্রথা চালু ছিল।

এখানে অনেকের স্মৃতিতে এখনও জ্বলজ্বল করছে পালকিতে চড়ার মজার অভিজ্ঞতা। এই জেলার সিরাজদিখানের ৭০ বছরের বৃদ্ধা আম্বিয়া বেগম বলেন, ‘২০ বছর বয়সে পালকিতে চড়ে বাপের বাড়ি ছেড়ে স্বামীর বাড়িতে এসেছি। বয়স হয়ে গেছে। এখনও মনে পরে সেই দিনের কথা। গ্রামে বিয়ে হলেই বর-কনেকে পালকিতে করে গান গাইতে গাইতে নিয়ে আসতো দেখে খুব আনন্দ পেতাম। এখন আর সে পালকি দেখা যায় না।’

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পূরা বাজারে থাকা বংশ পরম্পরায় পালকি চালক গমরেস বলেন, ‘আমাদের বাপ দাদারা প্রাচীনকাল থেকে পালকি দিয়ে বিবাহের সময় বর-কনেকে বহন করতেন। আমরা এক কালের কলকাতার লোক ছিলাম কাজের তাগিদে বংশের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে আমরাও পালকি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করার জন্য বাংলাদেশে চলে আসি। এখন আর আগের মতো বিবাহ অনুষ্ঠনে আমাদেরকে ডাকা হয়না। অনেক কষ্ট করে সংসার চালাতে হয় আমাদের। মাসে দুই-একটা বিবাহে আমাদের ডাক পড়ে। যা পাই তা দিয়ে কোনমতে সংসার চালাই।’

দুই দুয়ারি পালকির বর্ণনা দিতে যেয়ে গমরেস বলেন, সবচেয়ে ছোট ও সাধারণ পালকিকে আমরা ডুলি বলতাম। এটা দুজনেই বহন করে। সবচেয়ে বড় পালকি বহন করে চার থেকে আটজন বেহারা লাগে। এখনও ছোট পালকি ছিটে ফোঁটা দেখতে পাওয়া যায়। তাও একান্তই কোন পালকিওয়ালার সখের কারণে। কিন্তু বড় পালকি হারিয়ে গেছে চিরতরেই।’

পালকির বর্ণনায় তিনি আরও বলেন, ‘পালকি সচরাচর তিন ধরনের হয়ে থাকে যেমন, সাধারণ পালকি, আয়না পালকি এবং ময়ূরপঙ্খি পালকি। সাধারণ পালকি আয়তাকার। চারদিক কাঠ দিযে আবৃত এবং ছাদ ঢালু। এর দুদিকে দুটি দরজা। কোন কোনটিতে জানালাও থাকে। ময়ূরপঙ্খি পালকির আয়তন সবচেয়ে বড়।’

তিনি বলেন, ‘কিছু পালকিওয়ালার ব্যাক্তিগত সখের কারণে টিকে থাকা পালকিও এদের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাবে। হয়তোবা পালকি তখন কেবল বই-পুস্তকেই খুঁজে পাওয়া যাবে।’