logo

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৫ আশ্বিন, ১৪২৭

header-ad

ডুব বিতর্ক ও একজন হুমায়ূন

শফিকুল ইসলাম সোহাগ | আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

কালে-ভদ্রে হুমায়ূন আহমেদ দ্বিতয়টি আর কেউ হবেন কি না সেটা সময়ই বলে দিবে। তবে বাস্তবতা হল, কেউ কখনও কারো মতো হয় না। স্রষ্টা প্রত্যেকটা মানুষের আলাদা আলাদা ডিএনএ গঠনরূপ দিয়েছেন। হুমায়ূন আহমেদ যেভাবে জীবনকে দেখেছেন, এঁকেছেন সেভাবে অন্যকেউ হয়তবা আঁকবেন না কিংবা আঁকতে পারবেন না। হিমু কিংবা মিসির আলীর স্রষ্টা হুমায়ূন আহমেদ অনেকটা কাল এদেশের মানুষকে সাহিত্যের মধ্যে ডুবিয়ে রেখেছেন। বইপড়াও যে একটা আর্ট হতে পারে, উপন্যাসও যে একটা জীবনের অংশ হতে পারে, এটা হুমায়ুন থেকেই আমরা এ যুগের পাঠকরা শিখেছি, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

সম্প্রতি মোস্তফা সারওয়ার ফারুকীর তৈরী করা ‘ডুব’ নিয়ে খুব বিতর্ক হচ্ছে। বলা হচ্ছে, এতে হুমায়ুন-গুলতেকিনের সংসার ভাঙ্গার প্লটকে পুঁজি করে পরিচালক শাওনকে ছোট করেছেন। যদি তাই হয়, তবে অবশ্যই ব্যাপারটি দুঃখজনক হবে। আমি একজন হুমায়ুনভক্ত হিসেবে আমার কিছু প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।

১. হুমায়ূন আহমেদ কাঁচা লোক ছিলেন না । একজন রসবোধসম্পন্ন উঁচুমানের বুদ্ধিজীবি ছিলেন। তিনি জেনেশুনেই মেয়ের বয়সী শাওনকে বিয়ে করেছিলেন। শাওনেরও তাতে সম্মতি ছিল। গুলতেকিন আহমেদ নিজেও বুঝে শুনে ডিভোর্স দিয়েছেন। হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকা অবস্থায় কখনও প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন এটা নিয়ে কোন কথা বলেন নি কিংবা হুমায়ূন আহমেদ নিজেও এটা নিয়ে কথা বলেন নি। তাহলে তাঁর মৃত্যুর পর “বায়োপিক”বানানোর নাম করে ফারুকী কেন শুধু এ বিতর্কিত ব্যাপারটাইকেই হাইলাইটস করতে চাচ্ছেন? এতে অন্য কোন ধান্দা আছে কি?

২. ‘বায়োপিক’ বলতে আমরা আমজনতা যেটা বুঝি সেটা হল, টোটাল জীবনের জলছবির সারাংশ। কিন্তু কলকাতা বেইজড কিছু পত্রিকা মারফত জানা গেল, পুরো জীবন নয়, শুধু ব্যক্তি হুমায়ূনের একান্ত পারিবারিক ও ব্যক্তিগত অংশটাকেই এখানে স্থান পেয়েছে। অনেক বড় বড় মনীষিদের ব্যক্তিগত জীবনেও এমন বিতর্কিত ঘটনা আছে। কথা হচ্ছে, যেখানে হুমায়ূন আহমেদ এ দেশের একটা সম্পদ, সেখানে এমন একজন মানুষের ‘বায়োপিক’ বানাতে হলে আরও পড়াশোনা ও গবেষণার দরকার ছিল না? উত্তর কে দেবে?

৩. মোস্তফা সারওয়ার ফারুকীর ‘পিঁপড়া বিদ্যা’ আমার মতো অনেক দর্শককেই হতাশ করেছে। আবার ‘টেলিভিশন’ আশান্বিত করেছে। তিনি অবশ্যই একজন ভালো পরিচালক, সন্দেহ নেই। কিন্তু ‘স্পার্টাকাস-৭১’ বানানো এক জিনিস, আর কিংবদন্তী হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে ‘বায়োপিক’ বানানো আরেক জিনিস। হুমায়ূন শুধু লেখক নন, আবেগেরও নাম।

৪. ছবিটা এখনও রিলিজ হয় নি। ‘কান নিয়ে গেছে চিলে’ অবস্থা আমাদের। যে যেমনভাবে পারছেন, অভিনেত্রী ও হুমায়ূনপত্নী শাওনকে গালিগালাজ করছেন। কেন ভাই? উনি কি আপনার কোনো ক্ষতি করেছেন? হুমায়ূন আহমেদকে ভালোবাসেন, ভালো কথা, তাই বলে তাঁর স্ত্রীকে গালি দিয়ে আপনার লাভ কি? ভালোবাসা ভালো, অন্ধ ভালোবাসা ভালো না, আমরা কবে বুঝব?

‘ডুব’ নিয়ে বিতর্কের অবসান হোক। ছবিটা দ্রুত আলোর মুখ দেখুক। আমরা হুমায়ূন ভক্তরা অপেক্ষায় আছি। প্রিয় হুমায়ূন, যদি মন কাঁদে, তবে চলে এসো, এক বরষায়...!

লেখকঃ হুমায়ূনভক্ত,বর্তমানে বেলজিয়ামের গেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণারত।

ফেমাসনিউজ২৪/আরইউ