logo

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৫ আশ্বিন, ১৪২৭

header-ad

বলতে দ্বিধা নেই, পুরোনো বই কিনি

অপূর্ব চৌধুরী | আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

এদেশে নতুন বইয়ের দাম বেশি, কারণ শুরুতে হার্ডকভার ছাপায়৷ অক্ষরগুলো বড় থাকে, কাগজ দামি, মলাট যেন পাথর শক্ত৷ খরচ বেশি, তাই দাম বেশি৷ প্লেনের ফাস্ট ক্লাসের মতো! আমার মতো দরিদ্রদের জন্যে পেপারব্যাক, এগুলো কিছুদিন গেলে ছাপায়৷ নরম মলাট, ছোট হরফ, চিপে চিপে বাঁধাই, ফিনফিনে পাতা, এবং দাম কম, যেন প্লেনের ইকোনোমি ক্লাস৷ কিন্তু নিজে পেপারব্যাকের চেয়েও গরিব!

বলতে দ্বিধা নেই, পুরোনো বই কিনি, সেকেন্ডহ্যান্ড বইয়ের দোকানে ঢু মারি৷ আমাজনে অনেক ভালো কিন্তু দুষ্প্রাপ্য বই, যা ইংল্যান্ডেও খুঁজে পাই না, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া থেকে পুরোনো বই কিনে নেই৷ জানি যে ভালো বইগুলো আড়ালে থাকে, চিকনা চাকনা হয়, অবহেলার, বাণিজ্যের নয়! কিন্তু বইয়ের দোকানের সামনে থাকে বাণিজ্যের বই, প্রচারেও থাকে বাণিজ্যের লোভনীয় গুঁড়ো দুধ! যা খাওয়ালে বিক্রেতার পকেট পুষ্ট হয়, ক্রেতার পেট খারাপ হয় কিনা জানি না! দুটো ব্যাপারে নিজের স্বভাব উদার! আবার একই স্বভাব পরস্পরের শত্রু! বলছি, কি করে হয় এমন! স্বভাব দুটো হলো খাবার-দাবার আর বই৷ দুটোর পেছনে কৃপণতা নেই, পকেটে ধনের কূপ না থাকলেও৷

ছাত্রাবস্থা থেকে নিজের একটি ভালো আয় ছিল, তাই কেউ কখনো এক কাপ চা খাওয়াতে পারতো না, বাকিদের খাওয়াতাম, এখনো তাই! আবার কেউ কেউ সুযোগ পেয়ে পাছায় বিলের সিলও মারতো, এখনো মারে এই গো বেচারাকে সুযোগ পেলে! একই ভাবে বইও! একই বই তিনবার কিনেছি, আগের দু'বার কেউ মার্ক টোয়েন'কে ফলো করে আর ফেরত দেয় নি!

ভালো বই পাশে থাকলেও মনে হয় ভালো একটি বন্ধু৷ এখন দেখা গেলো একটি বইয়ের দোকান, তারপাশে একটি কফির দোকান৷ পেটে ক্ষুধা, চিন্তায় পড়ি, আগে খাবো নাকি একটা বই কিনবো! যে মানুষটি মিশেলিন রেস্টুরেন্টে দু'শো পাউন্ড ডিনার বিল দিতে চিন্তা করে না, সে মানুষটি দু' পাউন্ডের কফির হিসাব করি তখন৷ চিন্তা করি যে, এখন কফি খেলে তো শেষ, এর চেয়ে এই দু' পাউন্ড বাঁচিয়ে একটা বইয়ের খরচের সাথে যুক্ত করলে একটি ভালো বই কিনতে পাবো৷ এক কাপ কফি ফুরিয়ে যাবে, একটি ভালো বই গোটা একটি ক্যাফে হয়ে পাশে পাশে থাকবে!

ফেমাসনিউজ২৪/আরইউ