logo

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৫ আশ্বিন, ১৪২৭

header-ad

কিছু প্রশ্ন

কে এম মুত্তাকী | আপডেট: ০১ মার্চ ২০১৭

ঘটনা ১

২০১১ সালের ১৩ই অগাস্ট ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মানিকগঞ্জের জোকা এলাকায় বিপরীতগামী যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাসে থাকা তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে। মামলার রায়ে বাসচালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

ঘটনা ২

২০০৩ সালের ২০ জুন সাভারের ঝাউচর এলাকায় ট্রাকচাপায় নিহত হন খোদেজা বেগম। এ ঘটনায় তার স্বামী নুরু গাজী বাদী হয়ে সাভার থানায় ট্রাকচালক মীর হোসেন ও তার সহকারী ইনতাজ আলীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ওই দুজনের বিরুদ্ধে ২০০৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। আদালত ২০০৫ সালের ৪ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে গতকাল আদালত চালক মীর হোসেনের মৃত্যুদণ্ড এবং ইনতাজকে খালাস দেন।

প্রথম ঘটনায় কেন জমির হোসেনকে যাবজ্জীবন?

বেপরোয়া গতিতে বাস চালিয়ে নরহত্যার অভিযোগে যাবজ্জীবন রায় দেওয়ার ঘটনা শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসেই নয়, সম্ভবত ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা হতে পারে। আদালত এ ঘটনাকে ‘সড়ক দুর্ঘটনা’ বলেননি। আদালতের পরিভাষায় এটা হলো ‘কালপাবল হোমিসাইড নট অ্যামাউন্টিং টু মার্ডার।’ এর মানে হলো, ‘দণ্ডনীয় নরহত্যা, কিন্তু খুন নয়।’ এ ঘটনা আমাদের চেনা-জানা অর্থে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নয়। দণ্ডবিধির যে বিধির আওতায় খুনখারাবির বিচার হয়, সেই ধারাটিই এবার প্রয়োগ করা সম্ভব হয়েছে। এর মূল কারণ হলো আদালতে বাদীপক্ষ প্রমাণ করেছে যে কোনো ঘাতক যখন বন্দুক হাতে কাউকে গুলি করে হত্যা করে, সেভাবে ঘাতক বাসটির চালক তার বাসটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। বন্দুক দিয়ে মানুষ মারা যায়। বাস দিয়েও মানুষ মারা যায়। তাই বন্দুক দিয়ে মারলে খুনের সাজা। আবার বাস দিয়ে মারলেও খুনের সাজা। বাসচালক এতটাই বেপরোয়া ছিলেন যে তাকে ছুটে যেতেই হবে। সামনে যা-ই পড়ুক, তাতে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ ছিল না। সুতরাং তিনি যা করেছেন, তাতে তার খুনে ‘ইনটেনশন’ পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। মানুষ খুন করাই তার উদ্দেশ্য ছিল না। উদ্দেশ্য এটাও ছিল যে সামনে মানুষ পড়ুক বা অন্য কোনো জীবজন্তু পড়ুক, কিছুতেই তার কিছু যায়-আসে না, মানুষ পড়লে মরবে, কেউ আহত হলে হবে।

দ্বিতীয় ঘটনায় কেন মীর হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড?

মামলার আসামি মীর হোসেন ও বাদী নুরু গাজীর বাড়ি সাভারের ঝাউচর এলাকায়। মীর হোসেন ধলেশ্বরী নদীর পাড় থেকে ট্রাকে করে মাটি এনে বিক্রি করতেন। ঘটনার পাঁচ দিন আগে থেকে নুরু গাজীর পারিবারিক রাস্তা দিয়ে ট্রাকে করে মাটি নিয়ে যেতে থাকেন মীর হোসেন। নুরু নিষেধ করলেও তিনি তা মানেননি। ঘটনার দিন বাধা দিলে আসামি মীর হোসেন ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রাকচাপা দিলে খোদেজা ঘটনাস্থলে মারা যান।

ঘটনার দিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে মামলার সাক্ষী সলিম মিয়া আদালতে বলেন সেদিন বাদীর স্ত্রী খোদেজা ট্রাকের সামনে গিয়ে মীর হোসেনকে বলতে থাকেন, রাস্তা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন না। তখন মীর হোসেন বলেছিলেন, যদি তাকে বাধা দেওয়া হয় তাহলে গাড়ির নিচে চাপা দিয়ে মেরে ফেলবেন। এ নিয়ে আসামি ও বাদীর স্ত্রীর সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে মীর হোসেন ট্রাকচাপা দিয়ে খোদেজাকে হত্যা করেন।

নিহত খাদিজার মেয়ে জুলেখা আদালতে বলেন, ট্রাকে করে মাটি নেওয়ার কারণে তাদের রাস্তা নষ্ট হচ্ছিল। তার মা ও বাবা আসামিকে বাধা দেন। মীর হোসেন তখন বলতে থাকেন, ওই রাস্তা দিয়ে তিনি মাটি নেবেনই। ট্রাকের সামনে থাকা মাকে বলেন, ‘সরলে সরবা না হয় গাড়ির নিচে পিষে নিয়ে যাব।’

ধর্মঘটের পক্ষে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের সাফাই

ধর্মঘটের পক্ষে সাফাই গেয়ে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, 'সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করতেই পারেন। এটাকে ধর্মঘট নয় ‘স্বেচ্ছায় অবসর’ বলা যেতে পারে।'

মন্ত্রী অন্য সংগঠনের কর্মবিরতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের পুলিশ পেটালে কলম-খাতা রাস্তায় ফেলে বসে থাকেন—বিষয়টি এ রকমই।

পরিবহনশ্রমিকদের মধ্যে সম্প্রীতি রয়েছে মন্তব্য করে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, আপনাকে যদি আপনার মালিক অবিচার করেন, তবে তো আপনি চাকরি ছেড়ে দিতেই পারেন। তাঁরা একজোট হয়ে গাড়ি না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সম্প্রীতি রয়েছে।

শাজাহান খান বলেন, ‘দুনিয়ার কোথাও দুর্ঘটনার জন্য ফাঁসি বা যাবজ্জীবন দেওয়ার আইন বা বিধান নেই। আমি মনে করি, চালকদের তিন বছর শাস্তি হওয়া উচিত। সারা পৃথিবীতে এসব অপরাধের জন্য বেশি হলে পাঁচ থেকে সাত বছরের শাস্তি হয়। খুন করা হলে ৩০২ ধারার মামলা করতেই পারে। কিন্তু ফাঁসি দিয়ে বা যাবজ্জীবন দিয়ে খুন বন্ধ করা যায় না। এ ধারণাটি তৈরি করছেন বুদ্ধিজীবীরা। একজন মন্ত্রীর সন্তান গাড়ি চালানোর সময় দুর্ঘটনায় পড়ে মারা গেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, একটি কুকুরকে বাঁচাতে ওই চালক (মন্ত্রীর ছেলে) মারা গিয়েছিলেন। তাহলে কি কুকুরের বিচার হতে হবে?’

মন্ত্রী আবারও বলেন, ‘আমি মনে করি, তিন বছরের বেশি শাস্তি হওয়া উচিত নয়। দুনিয়ার কোথাও মৃত্যুদণ্ড নেই। বেশি হলে পাঁচ থেকে সাত বছরের শাস্তি হয়। অবশ্যই আপনি চালকদের সাবধান করতে পারেন। উত্তেজিত নয়। বিচার অবশ্যই হতে হবে। কিন্তু নিয়মকানুন মেনে হতে হবে।’

উল্লেখ্য, শাজাহান খান বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি।

বিএনপির দিকে অভিযোগের আঙুল সাংসদ আসলামুলের

ধর্মঘটে থাকা পরিবহন শ্রমিকদের ঢাকার গাবতলীতে সংহিস বিক্ষোভের জন্য বিএনপির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন ঢাকা ১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক।

তিনি বলেন, 'আমার কাছে মনে হয়েছে যে, বিষয়টা অন্য কারোর হাতে চলে গেছে। আপনারা জানেন, আমাদের দেশে দীর্ঘদিন যাবৎ যে আগুন সন্ত্রাস চলছে, তাদের কোনো দুরভিসন্ধি আছে কি না, অনুপ্রবেশ করেছে কি না শ্রমিকদের এই হরতালে-আমরা সেই বিষয়টি দেখছি।'

দশম সংসদ নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তি ঘিরে ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাস বিএনপির টানা হরতাল-অবরোধে গাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপসহ নাশকতার নানা ঘটনায় দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনা নিয়ে বিএনপিকে ‘অগ্নিসন্ত্রাসের দল’ বলে আসছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

(ফেসবুক পোস্ট থেকে)

ফেমাসনিউজ২৪/আরইউ