logo

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৫ আশ্বিন, ১৪২৭

header-ad

বইমেলা বৃত্তান্ত

রায়হান উল্লাহ | আপডেট: ০৩ মার্চ ২০১৭

কিছু খবর : অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৭ শেষ হয়েছে। এবার বই বিক্রি হয়েছে ৬৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার। মেলার ইতিহাসে যা রেকর্ড। মেলায় ৩৬৪৬টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে কবিতার বই ১ হাজার ১২২টি। তার প্রায় অর্ধেকে রয়েছে, গল্পের বই ৫২০টি, উপন্যাস ৫৭৬টি, প্রবন্ধ ১৬৮টি, গবেষণাধর্মী ৮৭টি, ছড়ার ১১৭টি, শিশুতোষ ১১৮টি, জীবনী ৭১টি, রচনাবলী ৭টি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ৯৭টি। যার ৮৫৮টি মানসম্পন্ন। এছাড়া নাটকের ১৭টি, বিজ্ঞান ৩৮টি, ভ্রমণ ৬৯টি, ইতিহাস ৪১টি, রাজনীতি ১৭টি, চিকিৎসা/স্বাস্থ্য বিষয়ক ২৮টি, কম্পিউটার বিষয়ক ৬টি, রম্য/ধাঁধার বই ১৭টি, ধর্মীয় ১০টি, অনুবাদ ১৮টি, অভিধান ২টি, সায়েন্স ফিকশন/গোয়েন্দা ৩৪টি ও অন্যান্য ৪৬৬টি বই বেরিয়েছে। ‘মোড়ক উন্মোচন’ মঞ্চে ৮৬৭টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মিলে রেকর্ডসংখ্যক ৪১১টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৬৭ ইউনিট স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়। ১০০টি লিটল ম্যাগাজিনকে একাডেমির বর্ধমান হাউসের দক্ষিণ পাশে লিটলম্যাগ চত্বরের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। মেলার নীতিমালা লঙ্ঘন করায় টাস্কফোর্সের সুপারিশের ভিত্তিতে ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

কিছু বিশ্লেষণ : উপরের খবর আশাব্যঞ্জক। এবং অবশ্যই সুখের। তারপরও কিছু কথা থাকে। বর্তমান প্রযুক্তির পরশে এমন খবর দেখে বলা যায় সৈয়দ মুজতবা আলীর কথা বাঙালির মনে ধরেছে, কাগজের গায়ে কালো হরফের প্রেমে পড়েছে তারা। এও বুঝা যায় বাঙালি বইয়ের গন্ধ ছাড়া একদিনও ঘুমাতে পারে না। বই প্রকাশের পরিসংখ্যান দেখে বুঝা যায় কবিতার রেনেসাঁ বইছে। কবি গিজগিজ করছে চারপাশে। তো আমূল বদলে যাবে বাংলাদেশ। এত বই, লেখক ও কবির পরশে দেশটি তুমুল আলোড়ন তুলবে বিশ্বে। বাংলা সাহিত্য বিশ্বকে নতুন করে চিনাবে তার মহিমা।

ফের কিছু খবর : মেলায় সিরিয়াস বইয়ের ক্রেতা বেশি ছিল। নতুন লেখকদের বই তেমন বিক্রি না হওয়ায় হতাশ তারা। পাঠকরা হুমায়ূন আহমেদ, মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ কিছু জনপ্রিয় লেখকের বইয়ের মধ্যেই ডুবে ছিলেন। বাবা-মা সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত লেখকের বইগুলোই কিনে দিয়েছেন। নতুন লেখকদের বই কেবল তাদের পরিচিতজনরাই নিচ্ছে।

ফের কিছু বিশ্লেষণ : খবর ও পরিসংখ্যান মিলছে না। নতুন লেখকের বই পাঠকদের কেন টানতে পারছে না। সমস্যা কোথায়! সমস্যা কি লেখায়? অপ্রিয় সত্য হয়ে যাবে কথাটি, তবুও বাধ্য হয়ে বলতে হচ্ছে- দু’মলাটে নিয়ে আসলেই বই হয় না। পাঠকের হাতে যেতে হয়। পুশিং সেলের বই কেউ কি পড়ে? প্রকাশককে টাকা দিয়ে মানহীন বই সাহিত্যের কী উন্নয়ন ঘটাবে? বাংলা সাহিত্য এসব পরিসংখ্যান ধুয়ে পানি খাবে না। বরং যা হওয়ার তাই হবে। এ হওয়াই ক্ষতির পরিমাণই বেশি। যার আওতাধীন নতুন লেখক থেকে শুরু করে কাগজ, ছাপাখানা, পাঠক এবং সর্বশেষ গুণী লেখকও। শেষের প্রজন্মটি প্রকাশকের কাছে ভিড়তেই সাহস পান না! এভাবে কি সাহিত্য হয়। আর বই না পড়ে শোপিস হিসেবে রাখলে ভিন্ন কথা! যুগের হুজুগ বলে কথা! তবুও বইয়ের লেখক হওয়া চাই! কী করি? দেখি একটি বই বাজারে আনতে হবে? একবছর অন্তত বেঁচে থাকতে হবে!

(ফেসবুক পোস্ট থেকে)

ফেমাসনিউজ২৪/আরইউ