logo

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৫ আশ্বিন, ১৪২৭

header-ad

ফ্লাইওভারে আমার ভয় করে

লুৎফর রহমান হিমেল | আপডেট: ১৩ মার্চ ২০১৭

ফ্লাইওভারের নিচে দিয়ে গেলে আমার ভয় করে খুব। উপর দিয়ে গেলে একটু কম ভয় হয়। গাড়িতে থাকলে এই ভয় লাগার কথাটা আমি প্রায় সময়ই বলি। সহযাত্রী কেউ থাকলে তখন এ নিয়ে হাসাহাসি করে। করুক হাসাহাসি, আমি ত জানি কী পরিমাণ দুর্নীতি-অনিয়ম হচ্ছে এগুলোতে।

গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভার নির্মাণে ৪০০ কোটির প্রকল্প নিয়ে ঠেকানো হয়েছিল ৩ হাজার কোটিতে।

এরপর মানুষ যখন ফ্লাইওভারে উঠে না, সে অবস্থায় দেখা গেল নীচে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। যাতে টোল দিয়ে উপর দিয়ে যেতে লোকজন বাধ্য হয়, সেজন্যই নাকি ময়লাগুলো রাতের আঁধারে জড়ো করা হয়। এই দেশ ছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও এমন ঘটে কিনা আমার জানা নেই।

আবার নির্মান প্রতিষ্ঠান ওরিয়ন দফায় দফায় নির্মাণ ব্যয় বাড়িয়ে এই ফ্লাইওভারের নির্মাণ ব্যয় দাঁড় করিয়েছিল মূল ব্যয়ের প্রায় ছয়-সাত গুণ। বিনিয়োগের নামে লুটপাট করা অর্থ তুলতে গিয়ে ফ্লাইওভার ব্যবহারের প্রথম দিন থেকেই নির্ধারিত হারের চেয়ে দ্বিগুণ টাকা টোল হিসেবে আদায় করেছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।

শীর্ষস্থানীয় পত্রিকায় এ নিয়ে কোনোদিন নিউজ দেখিনি আমি।

এরইমধ্যে রাজধানীর মালিবাগে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার চাপা পড়ে একজন নিহত হলেন।

রোববার দিবাগত রাত আড়াইটা এ দুর্ঘটনা ঘটে। দিনের বেলা হলে আরো ভয়াবহ হতে পারতো ব্যাপরটা। চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটের কথা মনে হলে এখনো ভয়ে কেঁপে উঠে মানুষ।

মালিবাগ ট্রাজেডিতে নিহত ব্যক্তির নাম স্বপন (৪৩)। কত অভাগা এই যুবক! বাবা-মায়ের দেয়া নামটাও মিথ্যে করে দিয়ে, তাদের স্বপ্ন চুরমার করে গার্ডারের নিচে চাপা পড়ে মারা পড়লেন তিনি। স্বপন নামটা এখন মিথ্যে হয়ে গেছে তার।

সকল স্বপ্ন এভাবে ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে, স্বপনের পরিবারের ভেবেছিল কোনোদিন?

(ফেসবুক পোস্ট থেকে)

ফেমাসনিউজ২৪/আরইউ