logo

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৮ আশ্বিন, ১৪২৭

header-ad

মুক্তিযুদ্ধের স্থাপনা ও কিছু কথা

আলিম-উর-রহিম | আপডেট: ২৩ মার্চ ২০১৭

 

আমাদের জাতীয় জীবনে মার্চের তাৎপর্য এক অনন্য প্রেরণা যোগায়। এটি এমনই একটি মাস, যে মাসে এদেশের আপামর মানুষ বর্বরোচিত অত্যাচারে কেঁদেছিল, নিহত হয়েছিল এবং শেষে ঘুরে দাঁড়িয়ে মুক্তির আশায় মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। যার ফলস্বরূপ নয়মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন দেশ তথা বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। যাঁদের দৃঢ় প্রত্যয় ও ত্যাগে আজকের এ বাংলাদেশ তাঁদের সম্পর্কে আমরা এ প্রজন্ম জেনেছি, কিন্তু আজো তাঁদের অবদানকে হূদয় দিয়ে সবাই সমানভাবে অনুভব করতে পারিনি; এটাই বাস্তবতা। যদি তা পারতাম, তাহলে কিভাবে একুশে ফেব্রুয়ারির মতো একটি মহান শহীদ দিবসে শহীদ মিনারের মর্যাদা আমাদের দ্বারা (এ প্রজন্ম) ক্ষুণ্ন হয়!

এবছর একুশে ফেব্রুয়ারির একটি ঘটনা। সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে আমি শহীদ মিনারে গিয়েছিলাম। শহীদ মিনারের দুইপাশে ফ্লাড লাইটের আলো জ্বলছিল। বেদিতে কিছু মানুষের জটলা। প্রথমে দূর থেকে দেখে মনে হয়েছে কোনো অনুষ্ঠান হচ্ছে। সামনে গিয়ে দেখতে পাই মূল বেদির উপরে তরুণ-তরুণীর ভিড়। তারা সবাই সেখানে সেলফি জ্বরে আক্রান্ত। সবচেয়ে যেটি বড় কথা, তাদের সবার পায়ে ছিল জুতো। জুতো পরেই তারা বেদিতে অবলীলায় উঠছে, নামছে, ছবি তুলছে, হই-হুল্লোড় করছে। তাদেরকে দেখে মনে হয়েছিল, তারা কোনো সং-এর বেদিতে এসেছে; শহীদ মিনারে নয়। এ তো গেলো একটিমাত্র ঘটনা। এমন আরো কত ঘটনাই আছে; যা হয়তো প্রতিনিয়ত ঘটছে। জাতীয় স্মৃতিসৌধ কিংবা বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের ভেতরে অশালীন সংস্কৃতির চর্চা আমরা শুনে থাকি। কিন্তু যে নির্দিষ্ট প্রতীককে কেন্দ্র করে আমরা শ্রদ্ধা নিবেদন করি সেই প্রতীকের উদযাপন দিবসের দিনে তার বেদিতে এমন ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত; এবার যা শহীদ মিনারে দেখেছি।

স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠতে পারে- সেদিন শহীদ মিনারের বেদিতে তাদের (জুতো পায়ে) অবাঞ্ছিত অবস্থানের জন্য দায়ী কি প্রশাসন? প্রশাসনের অন্যমনস্কতা বা শহীদ মিনারকে অন্তত শহীদ দিবসে পর্যবেক্ষণে না রাখার কারণে এমনটি হয়েছে; এটি না হয় তর্কের খাতিরে মেনে নেওয়া গেল। কিন্তু যারা জুতো পায়ে বেদিতে উঠেছিল তাদের চেতনা কোথায় ছিল? সকালে যেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা ভালোবাসা প্রকাশ করা হলো, বিকেলে সেটা উবে গেল কেন? তাছাড়া, সবকিছুই প্রশাসনকে কেন ফিরাতে হবে? আমাদের নিজেদের ন্যূনতম বোধশক্তি কেন জাগ্রত হবে না যে, আধুনিকতার নামে নিজেদের মর্মমূলে আঘাত দেওয়া যায় না। সেদিন যারা শহীদ বেদিতে ঐ অবস্থায় ছিল তাদের একজনকে সে সময় ডেকে জিজ্ঞেস করলে সাথে সাথেই সে নিজের ভুল বুঝতে পেরে লজ্জা পেয়েছিল। আর এই বিষয়টিই আমাদের শক্তি। আমরা আমাদের শিকড়কে ভুলবো না, ভুলতে পারি না। যেটা হয় তা হলো- বিদেশি সংস্কৃতির মোহে পড়ে মাঝে মাঝে আমরা ভুল করে অনেক কিছু করে ফেলি। আর তা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্থাপনার সংখ্যা হাতেগোনা। শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ, বুদ্ধিজীবী কবরস্থান ইত্যাদি স্থাপনাগুলোর মর্যাদা রক্ষায় সকল অবস্থায় আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। এবারের স্বাধীনতা দিবসে এই হোক কামনা।

লেখক : শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, গণ বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার।

ফেমাসনিউজ২৪/আরইউ