logo

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৮ আশ্বিন, ১৪২৭

header-ad

স্বাপ্নিক রাজনীতিবিদরা ইতিহাস সৃষ্টি করেন

তপু রায়হান | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০১৭

 

একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সূচনায় দিশেহারা জাতিকে পথ দেখানোর জন্য তখন দরকার ছিল রাষ্ট্রনায়কোচিত দূরদৃষ্টির। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে হাল ফিরে পায় দিশেহারা জাতি। কোনো ব্যক্তির একদিনের ঘোষণায় কোনো দেশ অতীতেও স্বাধীন হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না। স্বাধীনতা সংগ্রাম বা যুদ্ধের জন্য জনগণকে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুত করতে হয়েছে। তেইশ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে দুইবার ফাঁসির মঞ্চে গিয়ে এবং এগার বছর আট মাস কারা নির্যাতন ভোগ করে বঙ্গবন্ধু বাংলার মানুষকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। জনগণের অন্তর্নিহিত শক্তির ওপর অপার আস্থা-বিশ্বাস, মানুষের প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা, মমত্ববোধ, সহমর্মিতা দিয়ে কিভাবে ভালোবাসা আদায় করে নিতে হয় তিনি জানতেন। তিনি অনুভব করতে পারতেন প্রতিটি মুক্তিকামী বাঙালির প্রাণের স্পন্দন।

দেশের জন্য স্বপ্ন দেখেন রাজনীতিবিদরা। এ স্বপ্নে আদর্শ, বাস্তবতা, দূরদর্শিতা ও দর্শন থাকে। এরকম স্বপ্ন যাঁরা দেখেন তাঁরাই স্বাপ্নিক। সেই স্বাপ্নিক রাজনীতিবিদরাই ইতিহাস সৃষ্টি করেন। অবিসংবাদিত রাজনীতিবিদ হিসেবে বাঙালি জাতির জন্য এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অথচ সবচেয়ে দুঃখজনক ও লজ্জার কথা হলো স্বাধীনতার চেতনাকে পরিবর্তন ও ইতিহাসকে বিকৃত করার ধারাবাহিক অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে সমাজের তথাকথিত কিছু মানুষ। ফলে আজ যদি নতুন প্রজন্মের কেউ জানতে চায় যে আমাকে আমার দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস শোনাও কিংবা একটা বই এনে দাও যেখানে আমার দুঃখিনী মায়ের আর্তনাদ আছে, যেখানে ভাইয়ের রক্তে ভেজা চিঠির কথা লেখা আছে, যেখানে আমার বাংলাদেশের জন্মকথার লাল দাগগুলো কাল হয়ে আছে, তবে কী শোনাব আমরা? কী দেবো তাদের জানার জন্য?

মহান স্বাধীনতা দিবস সমগ্র দেশবাসীর লালিত স্বপ্ন ও অঙ্গীকারে ভাস্বর। এ দিবস দারিদ্র্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ, এদিন আমাদের আত্মপরিচয়ের গৌরবে উজ্জ্বল, ত্যাগে ও বেদনায় মহীয়ান। শুধুমাত্র ঘটা করে পালনের মধ্যদিয়েই সবকিছু শেষ হয় না। গৌরবময় এদিনটি পালনের মধ্যদিয়ে আমাদের কর্তব্য হয়ে ওঠে স্বাধীনতার স্বপ্ন ও সাধ আমরা কতটুকু পূরণ করতে পেরেছি? জাতীয় জীবনে আমাদের অর্জনই বা কতটুকু সেটি উপলব্ধি করার। এসব দিক দিয়ে এ দিনটি আত্ম-সমালোচনার ও আত্মজিজ্ঞাসার। একথা ভুলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই যে স্বাধীনতা অর্জন করার থেকে রক্ষা করা কঠিন কাজ। আজ বিশ্বের দিকে দিকে উত্কর্ষ সাধনের প্রতিযোগিতা। আমাদেরও এগিয়ে চলতে হবে সেই অব্যাহত ধারায়। স্বাধীনতার চেতনাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জিত হলেই কেবল বাস্তবায়িত হবে প্রকৃত স্বাধীনতার রূপরেখা। দূর করতে হবে অশিক্ষা, কুশিক্ষা, বেকারত্ব, দারিদ্র্য তবেই আমরা মাথা তুলে দাঁড়াতে পারব। তাই আসুন সবরকম বিভেদ বিচ্ছেদ ভুলে সংকীর্ণ স্বার্থ চিন্তা জলাঞ্জলি দিয়ে সোনার বাংলা গড়ার কাজে ব্রতী হই।

লেখক :শিক্ষক, ইংরেজি বিভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

ফেমাসনিউজ২৪/আরইউ