logo

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৭ আশ্বিন, ১৪২৭

header-ad

কে বিবেকশূন্য?

মু. মিজানুর রহমান মিজান | আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০১৭

 

কে বিবেকশূন্য? মুষ্টিমেয় কিছু পাগল আর মানসিক অসুস্থতায় ভোগা রোগীদের বাদ দিলে আমরা সবাই বিবেকবান এ কথা জোর দিয়ে বলা যায়। যে বা যারা অন্তত ভালো-মন্দ কিংবা উচিত-অনুচিত নিজেনিজে আলাদা করতে পারেন তাকে বা তাদেরকেই বিবেকবান মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতে পারি, তবে প্রাথমিকভাবে কি এখান থেকে বলা যায় না যে, কে বিবেকবান আর কে বিবেকহীন? নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি উচিত-অনুচিতের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন কি না। যদি প্রশ্ন করে থাকেন তাহলে প্রশ্নের উত্তরের জন্য অপেক্ষা না করেই আপনি আপনাকে একজন বিবেকবান মানুষ হিসেবে আবিষ্কার করতে পারবেন। কারণ আপনি নিজেকে প্রশ্ন করাটা উচিত মনে করেছেন। এ তত্ত্ব থেকে ঢালাওভাবে সকলেই বিবেকধারী একেকজন মানুষ; কিন্তু প্রশ্নটা হলো- আমরা কি সুস্থ বিবেকের অধিকারী? আবার অনেক সময় দেখা যায়, আবেগের কাছে বিবেক মূল্যহীন হয়ে পড়ে।

ভালো-মন্দের বিচারক্ষমতা দ্বারা যে বিবেক নির্ধারিত হয় সে ব্যাপারে সকলেই একই বিন্দুতে থাকবেন নিঃসন্দেহে তা বলা সম্ভব, ভিন্ন বিন্দুতে থাকবেন ভালো-মন্দ আলাদা করা নিয়ে অর্থাত্ কোনটা ভালো ও কোনটা মন্দ সেটা নির্ধারণে ভিন্ন ভিন্ন মত থাকবে। এ ভিন্নতা হতে পারে ব্যক্তি, সমাজ, এলাকা, সময়, ঘটনা ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে। কাউকে যদি প্রশ্ন করা হয়- জনৈক লোক তার স্ত্রীকে রোজ মারধর করে, কাজটি কি ঠিক করে সে? উত্তরদাতার কাছ থেকে প্রত্যাশিত বা অনুমিত একমাত্র উত্তর হলো—না, এটা নির্যাতন। তবে উত্তরটি ঘুরে যেতে পারে যদি উত্তরদাতা হীনসমাজের অংশ বা হীনমানসিকতার অধিকারী হয়। নির্যাতনের ফলে কোনোক্রমে যদি ওই স্ত্রী মারা যায় তবে বেশিরভাগ মানুষই চাইবে অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড আর অপরাধীর পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা চাইবেন, সাজা হোক কিন্তু মৃত্যুদণ্ডাদেশ বা কারাভোগের মেয়াদ যেন বেশি না হয় এবং মানবাধিকার নিয়ে যারা কাজ করেন তারাও ঠিক এটাই বলতে পারেন। অথচ সবাই জানেন যে, খুনির শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কিংবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। গণপরিবহনে যারা চলাফেরা করে তাঁদের দেখা যায়, গাড়িতে ওঠার জন্য কতই না যুদ্ধ করে, অন্তত ঝুলেঝুলে পারলেও গন্তব্যে ছোটার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। কিন্তু গাড়িতে ওঠার পরেই ভোল পরিবর্তন, এত গাদাগাদি করে ওঠার কী দরকার? মাঝেমাঝে অনেকে চালককেও গালি দিয়ে থাকেন জায়গায় জায়গায় থামানোর জন্য।

বিবেকের কাজ হলো কোনো কিছুর ভালো-মন্দ, সুবিধা-অসুবিধা, সক্ষমতা-অক্ষমতা, নীতির কাছে সঁপে দিয়ে বর্তমানকে ভিত্তি ধরে ভবিষ্যত্ ভাবনাকে বিচার করে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে মানবসত্তাকে সহযোগিতা করা কিন্তু আসল সিদ্ধান্তে আসতে হবে সত্তা নিজেকেই। আমরা প্রত্যেকেই দশের শান্তির কথা বলি, মিলনের কথা বলি, উজ্জ্বলতার কথা বলি, নীতির কথা বলি, সত্যের কথা বলি, সাফল্যের কথা বলি এমনকি এসব কথা শুনতেও পছন্দ করি, কাজের বেলায়ও এসবের তরে নিজেকে সপে দিতে ভালো লাগে কিন্তু যখন দেখা যায়, দশের তুলনায় নিজের থলেটা তেমনভাবে পূর্ণ হচ্ছে না তখনই বিবেক হয়ে ওঠে হিংস্র আর যে শান্তি কিংবা অন্য ইতিবাচক কিছুর জন্য নিজেকে তুলে ধরা হয়েছিল সেসব কিছু একটি অসুস্থ বিবেক এসে ঢেকে ফেলে যেমন করে মেঘ এসে আকাশের নীলকে অদৃশ্য করে দেয়, যা নিতান্তই কষ্টের জন্ম দেয় সাধারণের।

সব সত্যের পরেও একটা সত্য হলো- ভালো কিছু সবাই চেনে এবং সবারই চাওয়া। এই চিনতে পারার ক্ষমতা এবং চাওয়াকে কাজে লাগিয়ে যদি আমরা আমাদের সকলের বিবেককে একত্রে অর্থাত্ আলোচনা ও যুক্তিখণ্ডনের দ্বারা উপযুক্ততার বিচার করে উপযুক্ত কাজ করি তাহলে শুধু ব্যক্তি কি সমাজ নয় বৈশ্বিকক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব ফেলা সম্ভব। আমি আমার সংকীর্ণতা বা দুর্বলতা স্বীকার করে বলছি, আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষের পক্ষে বিবেকের মতো বিশালাকার একটি বিষয়ে কথা বলাটা সহজ বিষয় নয়, বিবেকের পরিধি আমার ভাবনার চেয়েও ঢের বেশি, আমিও হয়তো বিবেকের সঠিক ব্যবহার করি না বা করতে জানি না। তবু একটি অনুরোধ সবার কাছে, দয়া করে নিজের বা অন্যের অশুভ স্বার্থ রক্ষায় বিবেকটিকে গঙ্গাজলে ভাসাবেন না।

লেখক : শিক্ষার্থী, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ঢাকা।

ফেমাসনিউজ২৪/আরইউ