logo

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৭ আশ্বিন, ১৪২৭

header-ad

বাঙালির পহেলা বৈশাখ ও ইলিশ

মিলন কৃষ্ণ বিশ্বাস | আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০১৭

 

আর একদিন পরে বাংলার নতুন বছর শুরু হবে। ভোজনবিলাসী বাঙালির কাছে ঐদিন বেশি কদর পাবে ইলিশ। তাছাড়া আবহমানকাল থেকে বাংলার মানুষের ইলিশের প্রতি একটু বেশিই দুর্বলতা। পহেলা বৈশাখ আসলে ধুম পড়ে পান্তা ইলিশ খাওয়ার। এ সময় ইলিশের দাম হোক হাজার টাকা, তাতে কী আসে যায় ? এইদিন ইলিশ পাতে না থাকলে পহেলা বৈশাখের আনন্দ যেন অপূর্ণ থেকে যায়। জনপ্রিয়তা আর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিচারে আমাদের দেশের জাতীয় মাছ এই ইলিশ। এই ইলিশ সম্পর্কে এবার আমাদের এমন কিছু তথ্য জানা উচিত যেগুলো আমাদের পহেলা বৈশাখে জাটকা ইলিশ ধরা ও এ সময় কী এমন কাজ করলে বড় সাইজের ইলিশ পাওয়া যাবে।

আমাদের দেশের ধরা পড়া জাটকার ৩০-৪০% এপ্রিল মাসে এবং ১২-১৫% মার্চ মাসে অর্থাত্ এ দুই মাসে প্রায় ৪৫-৬৫% জাটকা ধরা পড়ে। ইলিশ মাছ সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ে মেঘনা, আন্দারমানিক, পদ্মা ইত্যাদি নদীতে। ইলিশ তো সাগরের মাছ তবে কেন নদীতে পাওয়া যায় ? এমন প্রশ্ন আসতে পারে। হ্যাঁ, ইলিশ মাছের জীবনচক্র দারুণ মজাদার। এদের জীবনচক্র সম্পন্ন করতে স্বাদু ও নোনা উভয় পানির দরকার। ইলিশ পরিপক্ব হলে প্রজননের সময় ডিম দেওয়ার জন্য নদীতে আসে। নদীতে ডিম ছেড়ে এবং ডিম ফুটে পোনা হওয়ার কিছুদিন পর এরা আবার সাগরে চলে যায়।

পহেলা বৈশাখে ইলিশের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এলাকায় জেলেরা নির্বিচারে আইন অমান্য করে জাটকা নিধন করছে। তাহলে প্রশ্ন আসে যে, `কেন তারা জাটকা সম্পর্কে জানার পরও এমন কাজ করে?'

সরেজমিনে দেখা যায় যে, এই জাটকা রক্ষার জন্য যখন জেলেদের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে, তখন সরকার জেলেদেরকে ক্ষতিপূরণ ভাতা দেয়। কিন্তু এই ভাতা জেলেরা সঠিকভাবে পায় না এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় নেতারা এই টাকা ভাগ করে নেয়। ফলে জেলেরা পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরতে যায় এবং অসাধু কর্মকর্তারা জেলেদেরকে ধরে টাকা আদায় করে বা পুলিশে সোপর্দ করে পত্রিকায় ছাপায় যে, নিষিদ্ধ সময়ে যাতে কেউ মাছ ধরতে না পারে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ খুব সজাগ। কিন্তু এর পিছনে বাস্তবতা ভিন্ন। ফলে অবৈধভাবে জাটকা নিধন ঠিকই চলে এবং এসব বিষয় থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। যদি এ রকম কার্যক্রম চলতে থাকে, তাহলে ইলিশের উত্পাদন দিন দিন কমে যাবে।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে যে, `তাই বলে আমরা কি পহেলা বৈশাখে ইলিশ খাবো না?' অবশ্যই খাবো, তবে এর জন্য কিছু সচেতনতা দরকার। আমরা জাটকা খাবো না, তবে বড় ইলিশ খাবো। এখন প্রশ্ন আসতে পারে যে, এ সময়ে বড় ইলিশ কীভাবে ধরবো ? এর জন্য প্রয়োজন জালের ফাঁসের সাইজের পরিবর্তন করা। জালের আদর্শ ফাঁসের সাইজ ৪.৫ সে.মি। কিন্তু আমাদের দেশের জেলারা এর থেকে ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার করে যেখানে জাটকাসহ ছোট পর্যায়ের অন্য মাছও ধরা পড়ে। যদি আমরা জাটকা না খেয়ে বড় সাইজের ইলিশ খেতে চাই, তাহলে এই মৌসুমে ৪.৫ সে.মি এর চেয়ে বড় সাইজের ফাঁসের জাল ব্যবহার করতে হবে। এর ফলে জালে শুধু বড় সাইজেরই মাছ ধরা পড়বে। আর ছোট সাইজের জাটকা জালের ফাঁস দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারবে। যদি এই পদ্ধতি ঠিকভাবে অবলম্বন করা হয়, তবে দেশে ইলিশের উত্পাদন দিন দিন বাড়বে। রহমান এবং তার দল (Rahman etal.) ২০১৩ সালে দেখেছেন যে, ১০ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ করায় জাটকার প্রাচুর্যতা ৭০% বেড়েছে।

তাই আসুন, বৈশাখের আনন্দে সবাই একসঙ্গে আনন্দে মাতি তবে কেউ জাটকা ধরবো না, মারবো না। এটা আমাদের জাতীয় সম্পদ।

লেখক : শিক্ষার্থী, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

ফেমাসনিউজ২৪/আরইউ