logo

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৫ আশ্বিন, ১৪২৭

header-ad

শুরু করলে সফলতা মিলবেই

জাজাফী | আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০১৭

চারদিকে আজ হতাশার গ্লানি। সবাই হতাশ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ভিতর হতাশাটা মামদো ভূতের মতো চেপে বসেছে। হতাশাগ্রস্ত সেইসব তরুণ ও যুবকের অধিকাংশই মনে করে জীবন বুঝি শেষ হয়ে গেলো। কিংবা যারা এখনো মনে করছে তারা হয়তো জীবনে কিছুই করতে পারবে না তাদেরকে বলতে চাই হতাশ হওয়ার কিছু নেই। শুরু করুন, সফলতা আসবেই। কিভাবে শুরু করবেন সেটাও কিছুটা বলতে চাই। তার আগে ছোট্ট একটা গল্প বলতে চাই।

দুই বন্ধুর গল্প। মনে করি এক বন্ধুর নাম রাকিন, আরেকজনের নাম মুহিন। রাকিন ভাই কোনো মফস্বল শহরের কোনো এক বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ একটা বিষয়ে পড়াশোনা করেন। বিষয়টা ছিল অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের। আজকালতো জানেন, চাকরি ক্ষেত্রে আবেদন করতে গেলেই বোঝা যায় কোন্ সাবজেক্ট দামি আর কোন্টা মূল্যহীন। রাকিন ভাই কোনো টিউশনিও করতেন না। সারাদিন কম্পিউটার নিয়ে পড়ে থাকতেন। কম্পিউটারের প্রতি তার ছিল অগাধ ভালোবাসা। তা বলে তিনি কম্পিউটারে গেমস খেলে বা সিনেমা দেখে সময় নষ্ট করতেন না। তিনি ইউটিউব দেখে দেখে নানা বিষয় আয়ত্ত করতে লাগলেন।

রাকিন ভাইয়ের বন্ধু মুহিন ভাই ভর্তি হন সেরা এক বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিক্ষেত্রে সব থেকে আকর্ষণীয় সাবজেক্টের একটিতে। তিনি একটা নামি-দামি কোচিং সেন্টারে ক্লাসও নিতে শুরু করেন। ফলে টিউশনির বাজারে তার ছিল প্রচুর চাহিদা। মাস শেষে চল্লিশ হাজারেরও বেশি টাকা আয় ছিল তার (অনেকেই টিউশনি থেকে আশি-নব্বই হাজার টাকা আয় করে এই ঢাকা শহরে)। তো মুহিন ভাইয়ের আয় দেখে সবার খুবই ঈর্ষা হতো। ছাত্রজীবনে মুহিন ভাই এতো এতো আয় করছেন সেখানে অন্যরা বাবার কাছ থেকে টাকা এনে পড়াশোনা করছে। কিন্তু ঈর্ষা করতো না শুধু রাকিন ভাই। সে মুচকি হাসি দিতো। রাকিন ভাই যেহেতু কম্পিউটার নিয়ে পড়ে থাকতো তাই তার সামান্য কিছু আয় হতো।

বছর গড়িয়ে গড়িয়ে একদিন রাকিন ভাই বিএসসি শেষ করলেন। তার আর এমএসসি করা হলো না। অন্যদিকে মুহিন ভাই এমএসসি শেষ করে চাকরির আবেদন করতেই একটা কোম্পানিতে চাকরি পেয়ে গেলেন। মাসিক বেতন ৩৫ হাজার টাকা। তিনি যদিও তার ছাত্রজীবনের আয়ের চেয়ে কম বেতনে চাকরি পেয়েছেন তার পরও সবাই খুবই জেলাস। আড্ডায় মুহিন ভাই তার চাকরি ও বেতনের কথা বলতেই কেউ কেউ ঈর্ষান্বিত হলো। শুধু ঈর্ষান্বিত হলেন না রাকিন ভাই। এটা দেখে মুহিন ভাই বললেন- কিরে তুই কিছু বলছিস না যে। শুনলাম এমএসসিটাও করতে পারিসনি। এভাবে আর কতদিন ভবঘুরে হয়ে ঘুরবি।

রাকিন ভাই বেশি কিছু বললেন না। শুধু বললেন, এমএসসির চেয়েও বড় কিছু করে রেখেছি আমি। ক’দিন পর মুহিন ভাই চাকরিতে জয়েন করলেন। কোম্পানির এমডির সাথে তখনো তার দেখা হয়নি, কথাও হয়নি। যদিও কোম্পানি খুব বেশি বড় নয় তবুও কাজের পরিবেশ অনেক ভালো। ঠিক একমাস পর মুহিন ভাই জরুরি কাজে এমডির সাথে দেখা করতে গেলেন। তিনি বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে সিরিয়াল নিয়ে এমডির রুমে ঢুকলেন। এমডি স্যার তখন অন্যদিকে মুখ করেছিলেন। মুহিন ভাইকে বসতে বলে তার দিকে ঘুরে তাকালেন। মুহিন ভাই থ’ হয়ে গেলেন। যে কোম্পানিতে সে চাকরি করে এবং যে এমডির সাথে দেখা করতে এসেছেন তিনি তারই সেই ভবঘুরে বন্ধু রাকিন ভাই। তার মানে সেই আড্ডার আগেই রাকিন ভাই জানতেন মুহিন ভাই তারই কোম্পানিতে জয়েন করছেন।

রাকিন ভাইকে কোম্পানির এমডির চেয়ারে দেখে মুহিন ভাই থ’ হয়ে গেলেন। তখন রাকিন ভাই বললেন উঠে আসার গল্প। তিনি বললেন- আমি যখন ইন্টারমিডিয়েটে পড়তাম তখনই কেউ একজন আমার বুকের মধ্যে স্বপ্ন বুনে দিয়েছিল। তারপর সেই স্বপ্নটাকে পুঁজি করে একটু একটু করে এগিয়েছি। বার বার ফেইলিওর হওয়ার পরও আশা ছাড়িনি, একবার যখন শুরু করেছি তখন শেষ দেখবো বলে লেগে থেকেছি। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষে উঠলাম তখন নিজের সেই অভিজ্ঞতা আর কাজের সাথীদের নিয়ে ছোট্ট করে কোম্পানিটা শুরু করেছিলাম। তখন আমার হয়ে কাজ করতো মাত্র পাঁচজন মানুষ। ছাত্র অবস্থায় তাদেরকে আমি তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে দিতাম। তার সাথে দিতাম বুকভরা স্বপ্ন, একদিন বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখাতাম। এখনো তাদের কেউ কেউ আমার সাথেই আছে। এখন আমার কোম্পানিতে কাজ করে প্রায় দেড়শো মানুষ। যাদের মধ্যে তোর আমার মতো অনেক ইঞ্জিনিয়ার আছে, তাদের কারো কারো বেতন ৫০ হাজারের বেশি।

মুহিন ভাই আর কোনো কথা বলতে পারলেন না। তার কেবলই মনে হতে লাগলো সে বুঝি থ্রি ইডিয়টস সিনেমার একজন কুশীলব। এটা শুধুমাত্র গল্প বলার জন্য গল্প নয়, এটা থেকেই আমাদের শিখে নিতে হবে। আমাদের যেসব তরুণ আজ চাকরি চাকরি করে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে হতাশ, তাদেরকে বলতে চাই হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। শুরু করুন,সফলতা আসবেই।

লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ফেমাসনিউজ২৪/আরইউ