logo

রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১২ আশ্বিন, ১৪২৭

header-ad

এমন বিয়ে যেন কেউ স্বপ্ন না দেখে!

মুহাম্মদ আবুল কালাম | আপডেট: ০৯ জুন ২০১৪

দিনটি ছিল শুক্রবার। কলেজ ছুটি থাকায় নাঈমের আজ আর কলেজে যাওয়া হলো না। তাই মনটাও বেশ খারাপ। খারাপ তো হওয়ারই কথা। কারণ নাঈম যে প্রেমে পড়েছে অল্প ক'দিন হলো। আর এ মুহূর্তে যদি প্রিয়জনের মুখ দেখা না হয়, তাহলে যে ভালোবাসাটাই বিফলে যাবে। যাই হোক মনটা ভালো করতে নাঈম বের হলো সবুজের ভূমি আর কৃষ্ণচূড়ার যৌবনভরা পুষ্প দেখতে।

আঁকা-বাকা স্বর্ণালি পথের মাতৃভূমির রূপ দেখতে দেখতে নাঈম চলে গেল বহুদূর। যেখান থেকে নাঈমের বাড়ির গাছও দেখা যায় না। বহুদূর গেলেও নাঈমের মনে বিন্দুমাত্র ভয় ওকে কাবু করেনি। না করারই কথা। নাঈম যে তার গ্রামের প্রকৃতির মাঝে চলতে গিয়ে দেখতে পেল তার প্রিয়ার সেই মায়াবি হাসি, যা দেখে নাঈম তার প্রেমে পড়েছিলে। প্রকৃতির মাঝে নাঈম খুঁজে পেয়েছিল তার ভালোবাসার তিলোত্তমার মুখটি।

মনের আনন্দে চলতে চলতে পাশের গায়ের একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছিল সে। আর মনে মনে ভাবতে থাকল যদি এই মুহূর্তে তার সঙ্গিনী কাছে থাকতো তাহলে কি মজাটা না হতো। এসব ভাবতে ভাবতেই নাঈম চলে গেল স্বপ্নের জগতে। যেখান থেকে ফিরে আসার কথাই ভুলে গেল সে। নাঈম তার মনের মানুষকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে চলে গেল কল্পনার জগতে। নাঈম স্বপ্ন দেখলো সে ও তার প্রিয়া একসাথে চলে গেছে কক্সবাজার। মনে রাঙানো হৃদয়ে গাথা স্বপ্নগুলো যেন পৃথিবীর সবার সুখের চেয়ে আজ নাঈমের সুখটা একটু বেশি। একটি মাত্র সৌন্দর্যময় কৃষ্ণচূড়া দেখে নাঈম কল্পনার জগতে তার প্রিয়াকে নিয়ে ঘর বাঁধতে শুরু করলো।

নাঈম স্বপ্নে দেখতে পেলো তার প্রিয়াকে নিয়ে পার্কে বসে গল্পগুজব করছে। একে অপরের হাতে হাত রেখে হৃদয়ে থাকা কথাগুলো ভাগাভাগি করছে। নাঈম তার প্রিয়াকে গান শোনাচ্ছে। প্রিয়া তাকে গান শোনাচ্ছে। এভাবেই চলছে নতুন প্রেমে পা দেওয়া তার দিনগুলো। শহরের এমন কোনো চাইনিজ রেস্তোরাঁ নেই যেখানে তার প্রিয়াকে নেয়নি। কি কক্সবাজার আর কিবা সি বিজ- সবখানেই নাঈম তার প্রিয়াকে নিয়ে ঘুরতে থাকলো। প্রিয়ার মায়াবি হাসি নাঈমের স্বপ্ন যেন বাস্তবতার জগতে দেখছে। শপিংমলে থাকা সবচেয়ে সুন্দর পোশাকগুলো কিনে দিচ্ছে তার প্রিয়াকে। প্রিয়াও নাঈমকে তার মনের মতো পোশাকগুলো দিয়ে সাজিয়ে দিচ্ছে। এ এক অকল্পনীয় সুখ। যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

প্রিয়ার রূপ নাঈমকে এতোটাই পাগল করেছে যে নাঈম এক মুহূর্ত যেন তাকে না দেখলে বাঁচতে পারবে না। কে জানে বিধাতা ভালোবাসার মাঝে কি এমন মধু রেখেছেন। আসলে ভালোবাসা যে মানুষকে পাল্টে দেয় তা যে প্রেমে পড়েছে সে ছাড়া তার মর্ম কেউ বুঝবে না। ভালোবাসার মতো সুখ যে পৃথিবীতে নেই, যে ভালোবাসা পেয়েছে সে ছাড়া এর মর্ম কেউ বুঝবে না। যারা হারিয়েছে তাদের কথা না হয় বাদই দিলাম। ভালো-খারাপ এর যেমন এদিক-ওদিক আছে, তেমনি ভালোবাসারও সর্বনাশা নামের দিক রয়েছে। সর্বনাশা নামের পাল্লা আর ভালোবাসার নামের পাল্লার মাঝে যে অনেক ব্যবধান রয়েছে তা সবাই বুঝলেও নাঈমের কিন্তু এখন ও বোঝার মতো জ্ঞান হয়তো হয়নি। যার প্রমাণ মিলে তার স্মরণীয় স্বপ্ন জগতের মাধ্যমে। কে জানে নাঈমের এ স্বপ্ন কি সত্য না মিথ্যা হয়। তা তো এখন বলাও যাবে না। কারণ নাঈম যে এখন রয়েছে অন্য এক জগতে; যে জগত মানুষকে শুধু কোটিপতিই ও সুখপতিই নামে মাত্র দেখতে পায়। তবে এ স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়নি এমন নয়। কেউ কেউ স্বপ্নের মাধ্যমেই স্বপ্নে পাওয়া ধন দিয়ে ধনী হয়েছে।

যাই হোক সবচেয়ে বড় ধনী হলো ভালোবাসা। যে মনের মতো করে ভালোবাসা পায় তার জীবনে ধন না থাকলেও চলে! কেউতো আছে ধন আছে কিন্তু সুখ নেই, ভালোবাসা না থাকায়। নাঈমের মাঝে ভালোবাসা আছে, তাই সে স্বপ্ন দেখতে পেরেছে।

জীবনের প্রথম প্রেম নাঈম চায় তাই হোক তার জীবনের শেষ। তাই বেশ ভালোভাবেই সে প্রিয়াকে নিয়ে স্বপ্নে ঘর বাধতে দেখলো। বাস্তবতা তো হলো অনেক পরে। স্বপ্ন না দেখলে যে সফলতা পায় না, তা নাঈমের বেলায় সে বুঝে। অনেক ঘুরাফেরা হয়েছে আর নয়। এবার তার বিয়ে করতে হবে। তা ছাড়া লুকিয়ে লুকিয়ে বা কয়দিনই প্রেম করা যায়। বেশি দিন চলে গেলে হয়তো আর বিয়ে না হতে পারে, ভাবলো নাঈম। এবার যে করেই হোক প্রিয়তামাকে বলব যে, তার পরিবারের কাছে গিয়ে জানায়।

পরের দিন নাঈম তার প্রিয়তামার সাথে দেখা করে তাকে বিয়ের কথা জানায়। প্রিয়তামাও তার কথাগুলো মন দিয়ে শোনে এবং রাজি হয়। প্রিয়তমা রাজি হওয়ায় নাঈম বেজায় খুশিও হয়েছে। কারণ প্রেম করে সফল হয়েছে হাতেগোনা কয়জন। নাঈমও হয়তো তাদের একজন হতে চলেছে। এদিকে হঠাৎ করেই নাঈমের কাছে একটি শর্ত জুড়ে দিলো তার প্রিয়তমা। শর্ত হলো, নাঈম বা তার পরিবারের কেউ যেন প্রিয়তমার মা-বাবার কাছে প্রস্তাব নিয়ে যায়। প্রিয়তমার এমন শর্ত শুনে নাঈম কিছুটা হতাশা অনুভব করলেও পরে নিজেকে মানিয়ে নেয় এবং প্রিয়তমার বাড়িতে প্রস্তাব নিযে যেতেও রাজি হয়।

প্রিয়তমার বাড়িতে প্রস্তাব নিয়ে যাবে নাঈমের মা। দুজনের কথা শেষ হলো। মনের আনন্দে একে অপরের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে যার যার বাসায় চলে গেল। বাসায় গিয়ে নাঈম তার মাকে সব খুলে জানালো। একমাত্র ছেলে হওয়ায় তার প্রস্তাবও নাঈমের মা মেনে নিলেন। আসলে স্বপ্নটা যেন খোদার এক দান। যা কেউ দেখলে মনে রাখতে পারে, কেউ পারে না। নাঈম প্রেমে পড়েছে মাত্র কয়েক দিন হলো এখনও ভালোভাবে একে অপরের সম্পর্কে ভালোভাবে জানা যায়নি। এরই মাঝে নাঈম স্বপ্ন যোগে বিয়েও করে ফেলছে।

পরের দিন নাঈমের মা তার ছেলের পছন্দ করা মেয়ে দেখতে চলে গেলো নাঈমের প্রিয়তামার বাড়ি। প্রিয়তমাকে দেখে বেজায় খুশি নাঈমের মা। মনে মনে হবু পুত্রবধূকে দেখে প্রসংশা করতে থাকলো। ছেলে এমন মেয়ে পছন্দ করবে ভাবতেও পারেনি নাঈমের মা। প্রিয়তামার মা-বাবার সাথে পরিচয় হলো। নাঈম ও প্রিযতমা একে অপরকে ভালোবাসে এবং পছন্দ করে তা প্রিয়তামার মা বাবাকে জানায়। প্রিয়তামার বাবা-মা ও তা মেনে নেয়। বিয়ের দিন-তারিখ শেষ হলো। নাঈমের পছন্দ মতো বিয়ের কেনাকাটা ও শেষ করলো। অল্প কয়েক দিনের ভালোবাসা এতো সহজে সফল হবে নাঈম কখনও ভাবেনি। গায়ে হলুদ হলো। পরের দিন প্রিয়ার বাড়িতে নাঈম তার পরিবার ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে গেলো।

বরের জন্য যে স্থান তৈরি করা হলো সেখানে গিয়ে নাঈম ও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা গিয়ে বসলো। এরই মাঝে নাঈমের সামনে কাজী এসে বসলো। কাজীকে দেখে নাঈম বেজায় খুশি হলো। কাজী কনের ও ছেলের পক্ষকে বিয়ের কাজে আসার জন্য ডাকলেন। বিয়ের প্রস্তুতি শুরু হলো।

নাঈমকে কাজী কিছু ধর্মীয় কথা জিজ্ঞাসা করে। নাঈম  উত্তর দেয়। কাজীর পক্ষ থেকে এবার নাঈমকে প্রথম 'কবুল' বলার জন্য বলা হয়। নাঈম মনে মনে বিশাল খুশি হলো এবং 'কবুল' বলল। দ্বিতীয় বারও কাজী নাঈমকে বলল 'কবুল' বলার জন্য। নাঈম খুশিতে দেরি না করে বলে দিলো কবুল। তৃতীয়বার যখন কাজী নাঈমকে 'কবুল' বলার জন্য বলল নাঈম মনে একটু বিরক্ত বোধ করলো। আর মনে মনে ভাবলো যদি এতোবারই কবুল বলতে হয় তাহলে প্রিয়ার সাথে কথা বলবো কখন। আর যে আর অপেক্ষা করতে পারছি না। কাজী যে কখন ছাড়বে কে জানে? এরই মাঝে কাজী আবার বলে উঠলো, কই বাবা বল 'কবুল'। নাঈম প্রস্তুত হলো। এই শব্দটি শেষ হলেই প্রিয়ার সাথে দেখা হবে। বাসর ঘর হবে। আরো কত কি। নাম বলা শুরু করল কবু......। এমন সময় নাঈমের মোবাইল বেজে উঠলো! মনে একটু রাগ হলো। ওহ! বলা মাত্রই নাঈম আহ! এ কি দিখছে। চারদিকে তাকিয়ে দেখছে অন্ধকার। চোখে শুধু মোবাইলের আলো দেখা যাচ্ছে। আর মনে মনে ভাবছে কোথায় বিয়ে আর কোথায় প্রিয়া। নাঈমের এতো দীর্ঘসময়ের স্বপ্ন আর সত্য হলো না। কাজীও নেই নিজ পরিবার বন্ধুবান্ধব তো দূরে থাকুক প্রিয়ার পরিবারও নেই।

কী স্বপ্ন দেখলো! যে স্বপ্ন তার প্রায় কয়েক ঘণ্টা কেটে গেলো। এবার মোবাইল কল রিসিভ করলো। অপর প্রান্ত থেকে ভেসে আসলো বন্ধুর রেব সাগরের (সকলের প্রিয় নাম) কণ্ঠ। রেব সাগর বলল, কোথায়? কল রিসিভ করছিস না যে! কত সময় ধরে কল দিলাম, এতো দেরি করলি?
নাঈম কী বলবে ভেবে পাচ্ছে না। তারপরও উত্তর দিয়ে পাশের গ্রামে ঘুরতে আসার কথা বলে।

নাঈম : তা বন্ধু তুমি এই সময় কল দিলে কেন?
রেব সাগর : আমিও তো এই গ্রামে আসলাম, তা তুই কোথায় আছিস বল।
নাইম : আমি বড় কৃষ্ণচূড়া গাছের নিছে বসা।

রেব সাগর : ও তাই, আমি চৌধুরী বাড়িতে আসলাম। আমাদের ক্লাসমেইট এক ছাত্রীর গায়ে হলুদ আজ। তোকে কল দিয়েছি আসার জন্য, আসবি নাকি?

নাঈম মনে মনে ভাবলো আসলাম যখন তখন গিয়ে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানটাও দেখে আসি। তা ছাড়া মনটাও ভালো না। সেখানে গিয়ে আনন্দ করলে হয়তো মনও ভালো থাকবে।

বন্ধু তুই চৌধুরী বাড়ির সামনে আয়। আমি আসছি। এই বলে লাইন কেটে দেয়।

নাঈম চলে গেলো চৌধুরী বাড়ির সামনে। তার বন্ধু রেব সাগরও আসলো নাঈমকে নেওয়ার জন্য। দুজন এক হলো।

রেব সাগর- তা তুই এ গায়ে আসবি আমাকে বললি না যে?

নাঈম- তোকে বলিনি। কারণ আমি যে এতো দেরি করবো ভাবিনি।

রেব সাগর : তা তুই কৃষ্ণচূড়ার নিচে এতো রাত কি করিস?

নাঈম- আর বলিস না বন্ধু, দীর্ঘ সময় ধরে এমন এক স্বপ্ন দেখলাম। যা তোকে সংক্ষেপে বলে শেষ করা যাবে না।
গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরে যাওয়ার সময় সব খুলে বলব।

নাঈম যে প্রিয়ার সাথে প্রেম করে তা রেব সাগরও জানে না। জানবেও বা কোথা থেকে। নাঈম যে প্রেম করছে অল্প কয়েক দিন হলো। যাই হোক যেখানে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান, সেখানে গিয়ে দুজন বসলো।

রেব সাগর- দেখ ওর আজ গায়ে হলুদ। নাঈম কনের দিকে তাকাবে এমন সময় একজন লোক এসে কনের সামনে দাঁড়ালো। নাঈমের আর দেখা হলো না। এরপর সাগর আবার বলল, চল আমরা স্টেজের উত্তর দিক দিয়ে যাই সেখানে দাঁড়ালে হয়তো সহজেই মেয়েটিকে দেখতে পাব।

সাগরের সাথে নাঈম সেই পাশ দিয়ে চলে গেলো। মেয়ের দিকে তাকালো, না এবারও আর দেখা হলো না। এবার কয়েকজন মহিলা এসে দাঁড়ালো নাঈমের সামনে। মনটা খারাপ হয়ে গেলো।

রেব সাগর- বন্ধু তোমার ভাগ্য খারাপ। চল আবার দক্ষিণ দিকে গিয়ে দাঁড়াই। নাঈম সাগরের কথামতো দক্ষিণ দিক গিয়ে দাঁড়ালো। এবার মেয়েটির দিকে আবার নজর দিলো, না এবারও দেখা হলো না। মেয়েটি অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিলো। নাঈম বিরক্ত হয়ে গেল।

নাঈম- চল সাগর, আর কনে দেখতে হবে না। এতোবার তাকালাম একবারও দেখতে পেলাম না।

রেব সাগর- তোর ভাগ্যটাই খারাপ। চল অমারা চলে যাই। দু’জন চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলো। সাগর সামনে নাঈম পিছনে তাদের গ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবে এমন সময় নাঈমের নজর গেলো কনের দিকে। আহ! নাঈম এ কি দেখছে। চোখের দৃষ্টি যাওয়া মাত্রই যেন নাঈমের মনে বিদ্যুৎ চমকে উঠলো। মুখের জবান বন্ধ হয়ে গেলো। প্রিয় বন্ধু সাগরকে ডাকবে সেই শক্তিও যেন নাঈম হারিয়ে ফেললো। সারা দেহ কাঁপতে থাকলো। নাঈমের চোখে যেন কেউ চুম্বক বসিয়ে দিলো। কোনমতেই মেয়েটির মুখ থেকে নাঈম তার চোখ ফিরিয়ে নিতে পারছে না।

এই দিকে সাগর কিছু দূর যাওয়ার পর দেখতে পেলো নাঈম পিছনে নেই। নাঈমকে পিছনে না দেখে সাগর অবাক হয়ে গেলো। দ্রুত সময় পিছনের দিকে আবার চলে আসলো। সাগর এসে দেখতে পেলো নাঈমের অবস্থা খুবই শোচনীয়। কনের দিক থেকে কোনমতেই নজর সরাতে পারছে না। সারা শরীর থর থর করে কাঁপছে নাঈমের। জ্ঞান হারিয়ে ফেলল নাঈম দাঁড়ানো অবস্থায়।

এ অবস্থা দেখে সাগর নাঈমকে একটি চেয়ারে বসালো। কিছুক্ষণ নাঈমের হাত-পা ঘষার পর তার জ্ঞান ফিরে আসে। জ্ঞান ফিরে আসার পর নাঈম ভাবলো এ আমি কাকে দেখলাম? কিছুক্ষণ পূর্বে যাকে বিয়ে করার জন্য তৈরি হলাম যাকে নিয়ে বিয়ের স্বপ্ন দেখলাম সে প্রিয়ার গায়ে হলুদে আমাকে আসতে হলো, মনের অজান্তেই!

সাগর- নাঈম কি হয়েছে তোর? হঠাৎ করে তুই এমন হয়ে গেছো কেনো। শরীর কি তোর অসুস্থ?

নাঈম কিছুক্ষণ চুপ থেকে, না আমার কিছু হয়নি বন্ধু, শুধু এটুকু বলব তুই আমাকে আর কোনো প্রশ্ন করবি না। তোকে বলেছিলাম না যাওয়ার সময় বলবো আমি কি স্বপ্ন দেখেছি? কিন্তু এখন আর বলবো না। শুধু বলব, আমার মতো এমন বিয়ের স্বপ্ন যেন আর কেউ স্বপ্ন না দেখে। 



লেখক পরিচিতি
সদস্য- হাজীগঞ্জ সাতিহ্য পরিষদ।
সাধারণ সম্পাদক- চাঁদপুর পাঠক বার্তা ফোরাম, হাজীগঞ্জ উপজেলা।
সম্মানিত সদস্য- জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, হাজীগঞ্জ শাখা।
সদস্য- যুগান্তর স্বজন সমাবেশ, হাজীগঞ্জ শাখা।
সাহিত্য সম্পাদক- ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম, হাজীগঞ্জ।