logo

সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৩ পৌষ, ১৪২৫

header-ad

‘প্রত্যেকটি মানুষের জেগে ওঠা উচিত’ (ভিডিও)

আশরাফুল আলম খোকন | আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০১৮

মেয়েটিকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। এই মেয়েটিই হতে পারত আমার বোন। ভিডিওটাও পুরোপুরি দেখার মতো শক্তি নিজের মধ্যে ছিল না। মনে হয়েছে আমার চোখের সামনে কিছু হায়েনা আমার বোনকে লাঞ্চিত করছে। ভাইয়ের অসহায়ত্ব দেখে বোনটি শুধু করুণ চোখে সব নির্যাতন সহ্য করে যাচ্ছে। এই বুকফাটা কষ্টে অজান্তেই চোখ ভিজে গেছে। 

শুধু ভেবেছি, মানুষ এত অমানুষ হয় কি করে। এরপর আবার দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাকি শিক্ষার্থী ওরা। মেয়েটির পাশের দুইজন পুরুষ শিক্ষককে দেখে মনে হয়েছে হায়েনাগুলোর সামনে যেন আত্মসমর্পণকারী নির্লিপ্ত অসহায় পিতা। হায়েনাগুলো যা করে করুক, শুধু নিজের সন্তানকে যে কোনো অবস্থায় জীবিত অবস্থায় ফেরত চাইছেন তারা।

আমি এখনো বিশ্বাস করি কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত সাধারণ ছাত্রীরা এর সঙ্গে জড়িত নয়। তাদের আন্দোলনের সঙ্গে মিশে গিয়ে সুযোগ নিয়েছে কিছু বর্বর শ্রেণির মেয়ে। যেমনটা করেছে উপাচার্যের বাসভবনে। আক্রমণকারী হায়েনা সদৃশ্য মেয়েগুলোর জন্ম পরিচয়, পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড খুঁজতে যাব না। ওনারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন হয়তো; মেধাবী কোথায়, আমি নিশ্চিত 'মানুষ কোটা'র বিধান থাকলে তারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বারান্দা দিয়ে হাঁটার যোগ্যতা অর্জন করতেন পারত না।

কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সভাপতি ইফ্ফাত জাহান এশার বিরুদ্ধে অভিযোগ সে একজন ছাত্রীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছে। যা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। কারণ ওই মেয়েটি নিজেই ফেসবুকে জবানবন্দিতে বলেছে, রুমের জানালায় লাথি দিয়ে সে তার পা কেটে ফেলেছে। যেই অপরাধ এশা করেনি সেই অপরাধে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মেয়েটিকে সবাই মিলে মেরেছে, গলায় জুতার মালা দিয়েছে। কত জঘন্য ওদের মানসিকতা। সমাজের নিম্নস্তরেও এই যুগে এইরকম ঘটনা দেখা যায় না। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ছাত্রলীগকে জিম্মি করে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বহিষ্কার করানো হয়েছে।

অনেকেই লিখেছেন নারীবাদীরা এখন কোথায়, তাদের বিবেক কি মরে গেছে? আমি বলি, শুধু নারীবাদী কেন প্রত্যেকটি মানুষের জেগে উঠা উচিত, যাদের মধ্যে মনুষ্যত্ব আছে।

(আশরাফুল আলম খোকনের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি