logo

সোমবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৮ | ৩০ আশ্বিন, ১৪২৫

header-ad

‘শহিদুলই আমাকে প্রাণে বাঁচিয়েছিলেন’

তসলিমা নাসরিন | আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০১৮

দৃক গ্যালারি ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা শহিদুলকে স্মৃতিচারণ করেছেন আলোচিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে ফৌজদারি আইনে আমার নামে মামলা হলে সেই সময় শহিদুল আলম আমাকে বাড়িতে লুকিয়ে রেখে প্রাণে বাঁচিয়েছিলেন।’

তসলিমা তার স্ট্যাটাস শুরু করেছেন এভাবে- ‘১৯৯৪ সালে জুন মাসে খালেদা জিয়ার সরকার আমার বিরুদ্ধে ‘মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছি’ এই অভিযোগ করে বাংলাদেশ ফৌজদারি আইনের ২৯৫/এ ধারায় মামলা করেছিল। গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেছিল। তখন আমার শুভাকাংখীরা উপদেশ দিয়েছিলেন, আমি যেন আত্মগোপন করি।

কারণ ধর্মান্ধ পুলিশ অথবা জেলের ভেতর ধর্মান্ধ কয়েদিরা আমাকে খুন করতে পারে, ধর্মীয় অনুভূতি বলে কথা!’তসলিমা নাসরিন লিখেছেন, ‘আমার ওই চরম দুঃসময়ে আমাকে আশ্রয় দেয়ার সাহস ঢাকা শহরে প্রায় কারোরই ছিল না। রাস্তায় তখন প্রতিদিন আমার ফাঁসির দাবিতে মিছিল করছিল লক্ষ লক্ষ মৌলবাদি।’

‘সেই সময় হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁদের বাড়িতে আমাকে লুকিয়ে রেখে আমাকে প্রাণে বাঁচিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একজন শহিদুল আলম। নিচের ছবিগুলো ওঁরই তোলা। আমি আজ তার দুঃসময়ে তাকে চরম অসম্মান আর হেনস্থা থেকে বাঁচিয়ে আনতে পারছি না। সে ক্ষমতা আমার নেই।’

তসলিমা বলেন, ‘আমি শুধু এইটুকু বলতে পারি, শহিদুল আলমের মতো সভ্য, শিক্ষিত, নির্ভীক মুক্তচিন্তককে ভিন্ন মত প্রকাশের জন্য আজ যে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ তার নয়, এ গোটা দেশের লজ্জা। আজ শহিদুল আলমের দুঃসময় নয়, আজ বাংলাদেশের দুঃসময়।’

উল্লেখ্য, দৃক গ্যালারি ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা শহিদুলকে গত রোববার রাতে গ্রেফতার করার পর সোমবার আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় গোয়েন্দা পুলিশ। কিন্তু শহিদুলকে ডিবি হেফাজতে নির্যাতন করার অভিযোগ এনে রিমান্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মঙ্গলবার হাইকোর্টে রিট করেন তার স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ।

ওই আবেদন শুনে আদালত দ্রুত শহীদুলকে ডিবি হেফাজত থেকে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। সেই সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে শহীদুলের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। সে অনুযায়ী বুধবার সকাল ৯টার দিকে শহীদুল আলমকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেয়া হয়।

বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত একটি মেডিকেল বোর্ড কেবিন ব্লকের পাঁচ তলার একটি কক্ষে শহীদুল আলমকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত শনি ও রোববার ঝিগাতলা এলাকায় সংঘর্ষের বিষয়ে কথা বলতে বেশ কয়েকবার ফেসবুক লাইভে আসেন অধিকারকর্মী আলোকচিত্রী শহিদুল। ওই আন্দোলনের বিষয়ে আলজাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের সমালোচনাও করেন।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি