logo

বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৯ ফাল্গুন, ১৪২৪

header-ad

তোমরা একে অপরের দোষ খুঁজতে যেও না : আল কোরআন

ধর্ম ডেস্ক | আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০১৮

সুরা হুজুরাতের কয়েকটি আয়াতের ব্যাখ্যা : সুরা হুজুরাতের ১১ ও ১২ নম্বয় আয়াতে সামাজিক শিষ্টাচার প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলছেন: 'হে ঈমানদাররা, তোমাদের কেউ যেন অপর কাউকে উপহাস না করে।

কারণ, সে উপহাসকারীর চেয়ে ভালো হতে পারে এবং কোনো নারী অপর নারীকেও যেন উপহাস না করে। কারণ, সে উপহাসকারিণীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতে পারে। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না বা একে অপরের দোষ খুঁজতে যেও না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। কেউ ঈমান আনার পর তাদের মন্দ নামে ডাকা গোনাহ। যারা এ ধরনের কাজ থেকে তওবা করে না তারাই যালেম।

হে ইমানদাররা, তোমরা অনেক ধারণা বা অনুমান থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয়ই কোনো কোনো ধারণা গোনাহ। এবং গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পেছনে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তারা মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? নিশ্চয়ই তোমরা এ কাজকে ঘৃণা কর। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।'

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছেন, কোনো মু’মিন যেন অন্য কোনো মু’মিনকে উপহাস না করে। কারণ, অন্যকে ঠাট্টা-উপহাস করার উৎস হল নিজেকে বড় ভাবা ও অহংকার করা। আর এ বিষয়টি যুগে যুগে নানা মতভেদ ও সংঘাতের জন্ম দিয়েছে।

দুঃখজনকভাবে আমাদের সমাজে এমন অনেকেই আছেন যারা উপহাস করে নোংরা নাম দেন অন্যদেরকে। আর এভাবে তারা প্রতিশোধ নিতে চান। কেউ অতীতে কোনো অন্যায় কাজে জড়িত হওয়ার পর তওবা করে পবিত্র হওয়া সত্ত্বেও তাকে এমন নামে উল্লেখ করে যা তার কালো অতীতকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ইসলাম এ ধরনের অমানবিক ও নোংরা কাজ নিষিদ্ধ করেছে কঠোরভাবে।

এ জন্যই আল কোরআনের আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ বলছেন, 'কেউ ঈমান আনার পরও তাদের মন্দ নামে ডাকা গোনাহ। যারা এ ধরনের কাজ থেকে তওবা করে না তারাই যালেম।'

ইসলামী বর্ণনায় বলা হয় একজন মু’মিনের সম্মান মহান আল্লাহর ঘর পবিত্র কাবার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যে কোনো মানুষের প্রাণ ও সম্পদের মতো তার মান-সম্মানের প্রতিও হতে হবে শ্রদ্ধাশীল। কারো মান-সম্মানের প্রতি যেকোনো ধরনের আঘাত করা ঠিক নয়। সমাজের নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থেই এই বিধান বা মূল্যবোধ মেনে চলা জরুরি।

আলোচ্য দ্বিতীয় আয়াতে নৈতিক মূল্যবোধ সম্পর্কিত ইসলামী শিক্ষা ও নীতি প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ আরও বলছেন, 'মানুষের প্রতি সুধারণা থাকা উচিত। মুমিনদের উচিত বেশিরভাগ সন্দেহ থেকেই দূরে থাকা। কারণ, কোনো কোনো সন্দেহ হচ্ছে গোনাহ। এ ছাড়াও অন্যদের বিষয়ে গোয়েন্দাবৃত্তি করাও মুমিনদের জন্য শোভনীয় নয়। আসলে সমাজকে সুস্থ রাখার জন্য অন্যদের ব্যাপারে সন্দেহ না করা ও গোয়েন্দাবৃত্তি না করা খুবই জরুরি বিষয়। সুস্থ সামাজিক সম্পর্ক রক্ষার জন্য এই বিধান মেনে চলা অপরিহার্য। অন্যদের সম্পর্কে কুধারণা বা সন্দেহ এমন এক রোগ যা মানুষকে অন্যদের গোপন ও রহস্যময় বিষয়ে অনুসন্ধান চালানোর কুমন্ত্রণা দেয়। তাই ইসলাম এ ধরনের নোংরা কাজ করার অনুমতি দেয় না।'

ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষ তার ব্যক্তিগত জীবনে পরিপূর্ণ নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রাখে। কারো ব্যক্তিগত জীবনের সীমানায় অনুপ্রবেশ তার সম্মানকে পদদলনের শামিল। এ ধরনের অনধিকার চর্চা সমাজের পরিবেশকে করে অশান্ত ও উত্তেজনাময়।

গিবতের কদর্যতা সম্পর্কেও সুরা হুজুরাতে স্পষ্ট বক্তব্য রেখে মহান আল্লাহ বলছেন: 'তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে রাজি হবে?'

পরনিন্দা ও গিবতের মাধ্যমে একজন মুসলমান ভাইয়ের সম্মান নষ্ট করা এবং তার নানা গোপন বিষয় ফাঁস করে দেয়া মৃত ব্যক্তির গোশত খাওয়ার মতই বিভৎস নোংরা কাজ। মহান আল্লাহ এই উপমা ব্যবহার করেছেন যাতে মানুষ বুঝতে পারে যে, গিবত করা বা কারো পেছনে নিন্দা করা খুবই জঘন্য নোংরামি এবং তা মহাপাপ।

ইসলাম সমাজে একতা ও সংহতির ওপর ব্যাপক গুরুত্ব দেয়, যা কিছু এই ঐক্যকে জোরদার করে সেসবই ইসলামের দৃষ্টিতে পছন্দনীয় বিষয়। আর যেসব তৎপরতা ইসলামী ঐক্যকে দুর্বল করে সেসবই ইসলামের দৃষ্টিতে অপছন্দনীয় বিষয়। গিবত ইসলামী সমাজের ঐক্য ও সংহতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। গিবত মানুষের মধ্যে পারস্পরিক কুধারণা, সন্দেহ, আস্থাহীনতা ও তিক্ততা এবং হিংসা ও শত্রুতা সৃষ্টি করে। ফলে সমাজে প্রীতি ও স্নেহের বন্ধনগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই সমাজকে এসব দিক থেকে নড়বড়ে করতে না চাইলে গিবত পরিহার করা অপরিহার্য।

সুরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াতে মানুষের মর্যাদা বা সম্মানের মাণদণ্ড তুলে ধরে মহান আল্লাহ বলছেন:
'হে মানব! আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরকে চিনতে পার। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে সে-ই সবচেয়ে বেশি প্রিয় যে সবচেয়ে বেশি খোদাভীরু। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন।'

মহান আল্লাহ সব মানুষকে একই উৎস হতে সৃষ্টি করেছেন। তাই বংশ, গোত্র, পরিবার, গাত্রবর্ণ, ভাষা বা অন্য কোনো বাহ্যিক পরিচিতি অন্যদের তুলনায় শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হতে পারে না। এসব বিষয় নিয়ে কারো কাছে গৌরব প্রকাশ করাটাও সুস্থতার লক্ষণ নয়। আসলে এসব বিষয় খুবই ক্ষণস্থায়ী বলে মানুষের মধ্যে গৌরবের বা শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হতে পারে না।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম