logo

মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০ আশ্বিন, ১৪২৫

header-ad

গুপ্তহত্যার সমান ভ্রুণ হত্যা

ফেমাসনিউজ ডেস্ক | আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০১৮

সমাজে গর্ভপাত বা ভ্রুণ হত্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ক্লিনিকগুলোতে তরুণীদের ভিড় লেগেই থাকে। অধিকাংশ গর্ভপাতই নষ্ট চরিত্রের ফল। কেউ করে দরিদ্রতার ভয়ে। ক্রমবর্ধমান এ সমস্যাটি হয়ে উঠেছে একটি সামাজিক ব্যাধি।

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, ভ্রুণের বয়স যখন হয় ৪৩ দিনের কম, তখন ভ্রুণ একটি রক্তপিণ্ড হিসেবে মায়ের গর্ভে অবস্থান করে। এ সময় পর্যন্ত তার কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রকাশ পায় না। এ অবস্থায় ভ্রুণটিকে মানুষের শরীরের একটা অঙ্গ হিসেবে ধরা হয়। আর মানুষের প্রতিটি অংশের মালিক আল্লাহ তায়ালা। অতএব শরীরের অন্য অঙ্গের মতো এই অঙ্গটিও নষ্ট করা অন্যায়, পাপ।

যদি স্তন দানকারিনী গর্ভবতী হয়ে দুধ বন্ধ হওয়ার ও বাচ্চা মারা যাওয়ার আশঙ্কা হয়, এ অবস্থায় গর্ভে বীর্য জমাট রক্ত কিংবা গোশতের টুকরাকারে থাকলে এবং কোনো অঙ্গ প্রকাশ না পেলে চিকিৎসার মাধ্যমে গর্ভপাত করানো যাবে। (ফতওয়ায়ে কাজিখান : ৩/৪১০)

ভ্রুণের বয়স যখন ৪৩ দিন হয়ে যায়, তখন থেকে তার প্রয়োজনীয় ওরগান যেমন, ফুসফুস, নাক, হাত ও বিশেষ কিছু হাড় ইত্যাদি প্রস্তুত হওয়া শুরু হয়। অতএব তখন থেকে শুরু করে চার মাস পর্যন্ত গর্ভপাতের মাধ্যমে বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় ভ্রুণটি নষ্ট করে ফেলা কোনোভাবে ঠিক নয়। (আদ্দুররুল মুখতার : ১০/২৫৪)।

ভ্রুণের বয়স যখন ১২০ দিন বা চার মাস হয়ে যায়, তখন আল্লাহ তায়ালা তার রুহ দান করেন। আর রুহ আসার পর বাচ্চা নষ্ট করা কোনো মানুষকে হত্যা করার শামিল। তাই এ সময় ভ্রুণ হত্যা সর্বসম্মতিক্রমে অন্যায়। (ফতহুল আলিয়্যিল মালিক খ. ১/৩৯৯)।

আধুনিক যুগে ভ্রুণ হত্যা জাহেলি যুগে কন্যা সন্তানকে জীবন্ত সমাধিস্থ করার মতোই। তখন বাবা নিজ মেয়েকে গর্তে পুঁতে ফেলত আর এখন আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে মায়ের পেটেই শিশুকে মেরে ফেলা হচ্ছে।

এ দুই হত্যার মধ্যে কোনো তফাৎ নেই। এ জন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) ভ্রুণ হত্যাকে ‘গুপ্তহত্যা’ বলে উল্লেখ করেছেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘স্মরণ কর ওই দিনকে, যেদিন জীবন্ত সমাধি দেয়া নিষ্পাপ বাচ্চাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমাকে কোন অপরাধের কারণে হত্যা করা হয়েছে?’ (সূরা তাকয়ির : ৮)।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি