logo

বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক, ১৪২৫

header-ad

জীবনে একবার হলেও যে নামাজ পড়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রিয়নবী

| আপডেট: ০৭ জুন ২০১৮

‘সালাতুল তাসবিহ’ নামাজ পড়লে পূর্বের গুনাহ বা পাপ মোচন হয় এবং অসীম সওয়াব পাওয়া যায়। রাসূলুল্লাহ সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের চাচা হযরত আব্বাস রাদিল্লাহু আনহুকে এই নামাজ শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন যে, ‘এই নামাজ পড়লে আল্লাহ আপনার আউয়াল আখেরের সগীরা কবীরা জানা অজানা সব গুনাহ মাফ করে দেবেন।’

রাসূলুল্লাহ সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজের চাচাকে বলেন, ‘চাচা জান! আপনি যদি পারেন, তবে দৈনিক একবার করে এই নামাজ পড়বেন। যদি দৈনিক না পারলে, তবে সপ্তাহে একবার পড়বেন। যদি সপ্তাহে না পারেন, তবে মাসে একবার পড়বেন। যদি মাসে না পারেন, তবে বছরে একবার পড়বেন। যদি এটাও না পারেন, তবে সারাজীবনে একবার হলেও এই নামাজ পড়বেন।’

সালাতুল তাসবিহ নামাজের নিয়ম : চার রকাত। প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর যেকোনো সূরা পড়তে পারেন। তবে এই নামাজে বিশেষত্ব এই যে, প্রতি রাকাতে ৭৫ বার করে, চার রাকাতে মোট ৩০০ বার তাসবীহ পড়তে হবে।

‘‘সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার’।’ নিম্নোক্ত উপায়ে পুরো চার রাকাতে মোট ৩০০ বার তাসবীহটি পড়তে হবে-

# ১ম রাকাতে সানা পড়ার পরে তাসবীহ টি ১৫বার পড়তে হবে।

# তারপর স্বাভাবিক নিয়মে সূরা ফাতিহা ও অন্য আরেকটি সূরা অথবা অন্তত তিন আয়াত
পড়ার পরে তাসবীহটি ১০বার পড়তে হবে।

# এরপর রুকুতে গিয়ে রুকুর তাসবীহ পড়ার পরে তাসবীহটি আরও ১০বার পড়তে হবে।

# এরপর কিয়াম এ গিয়ে ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’ পড়ার পরে তাসবীহটি ১০বার পড়তে
হবে ।

# এরপর সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবীহ পরে তাসবীহটি ১০ বার পড়তে হবে।

# প্রথম সিজদা থেকে বসে তাসবীহটি ১০ বার পড়তে হবে।

# এরপর আবার সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবীহ পরে তাসবীহটি ১০ বার পড়তে হবে।

# তারপর একইভাবে ২য় রাকাত পড়তে হবে, কিন্তু ২য় রাকাতে সুরা ফাতিহা পড়ার আগে
তাসবীহটি ১৫বার পড়তে হবে।

# অতপর ২য় রাকাতের ২য় সিজদার পর “আত্তহিয়্যাতু…”, দরুদ আর দোয়া পড়ার পরে সালাম না ফিরিয়ে, ১ম রাকাতের মত ৩য় রাকাত শুরু করতে হবে (তাসবীহটি ১৫বার
পড়ে স্বাভাবিক নিয়মে সুরা ফাতিহা ও অন্য আরেকটি সুরা পড়তে হবে) একই প্রক্রিয়ায় পরবর্তী ২ রাকাত শেষ করতে হবে।

ফজিলতপূর্ণ সর্বাধিক তাসবিহসম্বলিত নামাজ ‘সালাতুত তাসবিহ’। সুতরাং রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে পড়ার মাধ্যমে প্রতিদিনের পড়ার হক আদায় হয়ে যেতে পারে। কেননা লাইলাতুল কদর হাজার রাতের চেয়ে উত্তম। আর লাইলাতুল কদরে এ নামাজ পড়ার অর্থই হলো ১ হাজার সালাতুত তাসবিহ পড়ার সমান।

আল্লাহ তা’য়ালা মুসলিম উম্মাহকে রমজান মাসে তাসবিহ নামাজসহ যেকোনো নামাজ এবং ইবাদত-বন্দেগি যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম