logo

বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮ | ১ কার্তিক, ১৪২৫

header-ad

হিজরি সন ও হিজরতের তাৎপর্য

ধর্ম ডেস্ক | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

হিজরত হলো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাওয়া কিংবা স্থান ত্যাগ করা। আর এটি প্রিয়নবি (সা.) এর জীবনে ঐতিহাসিক তাৎপর্যমণ্ডিত ঘটনা।

ইসলামে হিজরত হলো- দাওয়াতি কাজ প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে মহান আল্লাহ তাআলার নির্দেশে প্রিয়নবি (সা.) এর পবিত্র জন্মভূমি মক্কা ছেড়ে চিরশান্তির শহর মদিনায় চলে যাওয়া।

পবিত্র নগরী মক্কা থেকে মদিনায় চলে যাওয়ার ঘটনাই ইসলামের ইতিহাসে ঐতিহাসিক হিজরত হিসেবে পরিচিত। ইসলামের প্রচার ও প্রসারে আল্লাহর নির্দেশে প্রিয়নবি (সা.) ও তার প্রিয় সাহাবিদের মাতৃভূমি মক্কা ত্যাগ করে মদিনায় চলে যাওয়ার এ ঘটনা হিজরতকে স্মরণ করেই হিজরি সালের গণনা শুরু হয়।

প্রিয়নবি (সা.) ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভ করেন। আর মক্কার সেই সব লোকদের ইসলামের দিকে আহ্বান করেন, যারা তাকে জীবনের শুরু থেকে নবুয়ত লাভের আগ পর্যন্ত আল-আমিন তথা বিশ্বাসী হিসেবে জানত। কিন্তু তখনই তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করে।

হিজরি সন ও হিজরতের ইতিহাস মুসলিম উম্মাহকে প্রিয়নবি ও তার সাহাবাদের স্মৃতি বিজড়িত ইসলামের প্রতি তাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ইসলামের বিধানের প্রতি তার অনুসারিদের আনুগত্যকে বাড়িয়ে দেয়।

ইসলামের দুষমনরা যখন প্রিয়নবিকে (সা.) হত্যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তখনই আল্লাহ তাআলা প্রিয়নবিকে সে কথা জানিয়ে হিজরতের নির্দেশ দেন।
আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমতে প্রিয়নবি (সা.) কাফের-মুশরেকদের সব ষড়যন্ত্রকে বানচাল করে প্রিয় সহচর হজরত আবু বকরকে (রা.) নিয়ে মদিনার বিপরীত দিকে গারে সাওর তথা সাওর গুহায় অবস্থান গ্রহণ করেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর নির্দেশে ৬২২ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর মোতাবেক ২৭ সফর পবিত্র নগরী মক্কা থেকে মদিনার উদ্দেশ্যে হিজরত শুরু করেন। বহু চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করে প্রিয়নবি ২৩ সেপ্টেম্বর ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মোতাবেক ৮ রবিউল আওয়াল কুবায় পৌঁছেন। ২৭ সেপ্টেম্বর ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মোতাবেক ১২ রবিউল আওয়াল চিরশান্তির শহর মদিনায় পৌঁছেন তিনি।

ইসলামের ইতিহাসে প্রিয়নবির দেশ ত্যাগের এ ঘটনার ঐতিহাসিক স্মৃতিবহন করছে হিজরি সন। হিজরতের পর থেকেই ইসলামের প্রচার ও প্রসার বাড়তে থাকে। রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে ইসলাম। আর প্রিয়নবি (সা.) হন মদিনার রাষ্ট্রপ্রধান। বিশ্বব্যাপী শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে তিনি ঘোষণা করেন ‘মদিনার সনদ’। এ সবই হিজরতের ফলাফল।

সর্বোপরি ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে হিজরতের গুরুত্ব বিবেচনা করেই ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.) হিজরি সাল গণনা শুরু করেন। এ হিজরি সাল ইসলাম ও মুসলমানদের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত নিজস্ব সাল। হিজরি সাল অনুযায়ী মুসলিম উম্মাহর ইবাদত-বন্দেগি তথা রমজানের রোজা, ঈদ, হজ, কুরবানিসহ নানা বিষয় নির্ধারিত হয়।

মুসলিম উম্মাহ বর্তমানে ১৪৩৯টি হিজরি বছর অতিক্রম করেছে। আগামীকাল থেকে শুরু হবে ১৪৪০ হিজরি বর্ষ।

নতুন হিজরি বর্ষে মুসলিম উম্মাহ ইসলামের ইতিহাসের সেসব আত্মত্যাগের স্মৃতিকে নিজেদের হৃদয়ে জাগ্রত করে ইসলামের বিধান পালনে একনিষ্ঠ হোক।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/আরআই/আরবি