logo

শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ | ৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

মখমলের কাপড়ে ৩২ বছরের সাধনায় আল কোরআন লিখলেন নাসিমা

ধর্ম ডেস্ক | আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০১৮

বয়স তার ষাটের কোটা পেরিয়ে। মনোবল ভাঙেনি তার। ৩২টি বছরের সাধনায় পবিত্র আল কোরআন লিপিবদ্ধ করার মহান কর্মযজ্ঞে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন তিনি। নাম তার নাসিমা আখতার (৬২)।

এমন নিরন্তর সাধনার অধিকারীনি হলেন পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের গুজরাত অঞ্চলের বাসিন্দা। পবিত্র কোরআনখানি মসজিদে নববীর প্রাঙ্গণে অবস্থিত আল-কোরআন মিউজিয়ামে উপহার দিয়েছেন তিনি। এর আগে কোরআনের কপিটি পাকিস্তানের শীর্ষ স্থানীয় ওলামা-মাশায়েখের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে নেন তিনি।

টানা ১৫ বছর কলম দিয়ে মখমলের কাপড়ের ওপর আল কোরআনের আয়াত নিয়মতান্ত্রিকভাবে লিখে গেছেন নাসিমা আখতার। এরপর ১৭ বছর কোরআনের আয়াত লিখিত কাপড়গুলো সযত্নে সেলাই করেন। এরপর গত ২১ সেপ্টেম্বর আল-কোরআন মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের কাছে তা হস্তান্তর করেন তিনি।

আল-কোরআন মিউজিয়ামের মুখপাত্র ও জনসংযোগ ব্যবস্থাপক আবদুর রহমান আল-বান্না জানান, ১০ খণ্ডে লিখিত বৃহৎ এ কোরআনটি দেখলেই বোঝা যায়, তিনি এটির পেছনে কী পরিমাণ সাধনা ও সময় ব্যয় করেছেন।

নাসিমা আখতার ১৯৮৭ সালের আগস্ট মাসে ৩০ বছর বয়সে এভাবে কোরআন লিখতে শুরু করেন। ৩২ বছরের দীর্ঘ সাধনায় গত জানুয়ারিতে লিপিবদ্ধের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করেন।

তিনি মখমলের যে কাপড়ে আল কোরআন লিখেন সেটির দৈর্ঘ্য ৩০০ মিটার। পুরো কোরআনে ব্যবহৃত কাপড়ের দৈর্ঘ্যের পরিমাণ ২৫ হাজার মিটার। ফলে পুরো আল কোরআনকে ১০ খণ্ডে এবং প্রতি খণ্ডে তিন পারা করে বিন্যাস করা হয়েছে।

প্রতি পারা লিখতে খরচ করা হয়েছে ২৪ পৃষ্ঠা করে। তবে শেষ পারাটি লিখতে ব্যয় হয়েছে ২৮ পৃষ্ঠা। প্রতি পৃষ্ঠায় ১৫ লাইন করে আল কোরআনের আয়াত রয়েছে। বাঁধাইকৃত ও সুবিন্যস্ত আল কোরআনটির দৈর্ঘ্য ৫৬ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ৩৮ সেন্টিমিটার। পুরো দশ খণ্ডের সম্মিলিত ওজন ৫৫ কেজি।

আল কোরআনখানি লেখার মহৎ এ কাজটি করতেন রাতের শেষ তৃতীয়াংশে এবং জোহর ও আছরের মধ্যবর্তী সময়ে। নাসিমা আখতার প্রতিটি আয়াত লিখতেন পূর্ণাঙ্গ পবিত্রতা ও মনোযোগের সঙ্গে।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম