logo

শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

৬ লাল কার্ড, তুলকালাম কাণ্ড!

স্পোর্টস ডেস্ক | আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০১৮

ভারতীয় ফুটবলে ঘটলো নজিরবিহীন ঘটনা‌। এক ম্যাচে দু’দল মিলিয়ে ছয় ছয়টা লাল কার্ড। দ্বিতীয়ার্ধে এইট-এ-সাইড ম্যাচের সাক্ষী রইল কলিঙ্গ স্টেডিয়াম। সুপার কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জামশেদপুর বনাম এফসি গোয়া ম্যাচ ঘিরে উত্তপ্ত ছিল পরিবেশ।

মাঠের মধ্যেই দু’দলের ফু্টবলার থেকে কোচিং স্টাফরা ঝামেলা, হাতাহাতিতে জড়ালেন। একটা ম্যাচে ৬টা লাল কার্ড ভারতীয় ফুটবলে আগে কখনও দেখা গেছে কিনা সন্দেহ।

এফসি গোয়ার ব্রেন্ডন ফার্নান্ডেজের একটি গোলকে কেন্দ্র করে ঝামেলার শুরু। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে। গোল লাইন পেরনো বল টেনে নিয়ে গোল করে যান ব্রেন্ডন। ম্যাচের সময় তখন ৪৫+‌২ মিনিট। রেফারি ভেঙ্কটেশ আর সেই গোল বাতিল না করতেই জামশেদপুর ফুটবলাররা ক্ষেপে যান।

তারা ছুটে গিয়ে রেফারির কাছে গিয়ে এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতে থাকেন। তারপর রেফারি সেই গোল বাতিলও করে দেন। গোল বাতিল হলেও ঝামেলার আগুনে জল পড়েনি।

বিরতিতে ড্রেসিংরুমে ফেরার সময় রিজার্ভ বেঞ্চের সামনে সুব্রত পালকে দেখা যায় বিপক্ষের ব্রেন্ডনের সঙ্গে কথা বলতে। কিন্তু দেখা যায়, ব্রেন্ডন খুব বিশ্রীভাবে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, সুব্রতকেও ধাক্কা মারেন ব্রেন্ডন। তা দেখে জামশেদপুরের গোলরক্ষক কোচ ববি মিম্‌স ধাক্কা মারেন ব্রেন্ডনকে। ছিটকে পড়েন ব্রেন্ডন। ব্যস, তারপরই আরও উত্তেজিত হয়ে পড়েন জামশেদপুরের কোচিং স্টাফরা। তারা আঙুল উঁচিয়ে তেড়ে যায় বিপক্ষের দিকে।

দু’দলের পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছিল, কলিঙ্গ স্টেডিয়াম যেন রণক্ষেত্র। মাঠে ছেড়ে ড্রেসিংরুমে ঢোকার সময়ে টানেলের মধ্যেও দু’দলের ফুটবলারদের মধ্যে আরও এক দফা ঝামেলা, কথা কাটাকাটি হয়।

বিরতিতে ম্যাচ কমিশনার সঞ্জয় কুমার রেফারিদের নিজের ঘরে ডেকে, আলোচনা করে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেন। দু’দলকে লাল কার্ড দেখানো ফুটবলারদের নাম জানিয়ে দেয়া হয়।

তিনজন করে দু’দলের মোট ৬ জনকে লাল কার্ড দেখানো হয়। এফসি গোয়ার ব্রেন্ডন ফার্নান্ডেজ, ব্রুনো পিনহেইরো এবং সের্জিও মারিন। জামশেদপুরের সুব্রত পাল, বেলফোর্ট এবং আনাস এডাথোডিকা। অর্থাৎ, এফসি গোয়া–৩, জামশেদপুর–৩।

এটা হলো এ দিনের ম্যাচের লাল কার্ডের স্কোরবোর্ডের ছবি! দ্বিতীয়ার্ধে দু’দলের আটজন করে ফুটবলার খেলেন। জামশেদপুর কোচ স্টিভ কপেল বলেন, সারাবিশ্বেই টানেলের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আজ দু’দলেরই প্রায় সব ফুটবলার, কোচিং স্টাফরা ঝামেলায় জড়িয়েছিলেন।

'তাহলে দুটো দলের নির্দিষ্ট ৬ জনকে কীভাবে লাল কার্ড দেখানো হলো? আশ্চর্যজনক ঘটনা। এটাকে কোনোভাবে ফুটবল ম্যাচ বলা যায় না'।

ডেরেক পেরেরা বলেন, ব্রেন্ডনের গোলের পর আমরা সেিলব্রেট করতে শুরু করে দিয়েছিলাম। তারপর রেফারির গোল বাতিলের সিদ্ধান্তে আমরা প্রচণ্ড হতাশ হয়ে পড়ি। রেফারিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, গোলটা বাতিল হল কেন?

ফেডারেশনের সচিব কুশল দাস বলেন, আমি এখনও পুরো ঘটনা জানি না। আগে রিপোর্ট পাই, তারপর বলবো।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা ৫-১ জিতে সুপার কাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে যায় এফসি গোয়া। প্রথমার্ধের ৩৪ মিনিটে ব্রেন্ডনের গোলে ১-০ এগিয়ে ছিল গোয়া। বিরতির পর আর দাঁড়াতেই পারেনি জামশেদপুর।

৬৯, ৭৭, ৭৮, ৮৯ মিনিটে যথাক্রমে কোরোমিনাস (‌পেনাল্টি), মনবীর সিং ও হুগো বৌমাসের জোড়া গোল। অতিরিক্ত সময়ে অসীম বিশ্বাসের সান্ত্বনা গোলে ১-৫ জামশেদপুরের।

তবে এ দিনের গণ্ডগোলের জেরে সোনায় সোহাগা ইস্টবেঙ্গলের। কারণ শেষ চারের লড়াইয়ে এফসি গোয়ার মুখোমুখি হবে খালিদ জামিলের দল। ১৬ তারিখের ম্যাচে লাল কার্ডের জন্য খেলতে পারবেন না ব্রেন্ডন, ব্রুনো, সের্জিও।

গোদের ওপর বিষফোঁড়া মতন হুগো, প্রণয় হালদার জোড়া হলুদ কার্ডের জন্য সেমিফাইনালে নেই। শেষ চারের লড়াইয়ের আগে কাজ অনেকটাই সহজ হয়ে গেল ইস্টবেঙ্গলের।‌
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম