logo

মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০ আশ্বিন, ১৪২৫

header-ad

আগামী মাসে পথশিশুদের বিশ্বকাপ

স্পোর্টস ডেস্ক | আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০১৮

আগামী জুন মাসে রাশিয়ায় ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে যাচ্ছে। এর আগে মে মাসে রাশিয়াতেই শুরু হচ্ছে পথশিশুদের বিশ্বকাপ। ২৪টি দেশের দুশ'র বেশি শিশু এতে অংশ নেবে।

এবার তৃতীয়বারের মতো এই বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় এবং ২০১৪ সালে ব্রাজিলে এই বিশ্বকাপের আয়োজন করা হয়েছিল।

প্রথম বিশ্বকাপের দলগুলো ছেলে আর মেয়েদের একসঙ্গে করে তৈরি করা হয়েছিল। পরের বিশ্বকাপে ছেলে আর মেয়েদের আলাদা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

সেবার ছেলেদের বিভাগে বুরুন্ডিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তাঞ্জানিয়া। আর মেয়েদের গ্রুপে সেরা হয়েছিল ব্রাজিল। তারা ১-০ গোলে ফিলিপাইনকে হারিয়েছিল।

পথশিশুদের অধিকার সম্পর্কে বিশ্বকে সচেতন করতে এমন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা ‘স্ট্রিট চাইল্ড ইউনাইটেড’। খেলার পাশাপাশি ওই সময়ে শিশুদের অধিকার নিয়ে সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

এবারের পথশিশু বিশ্বকাপে ভারত, ব্রাজিল, মেক্সিকোসহ ২৪টি দেশ অংশ নিচ্ছে। মেক্সিকোর নারী দলের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন খালিদা পপাল। একসময় তিনি আফগানিস্তানের নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন।

সেসময় নারী ও মেয়েদের মধ্যে ফুটবল প্রসারে কাজও করেছেন। কিন্তু তা করতে গিয়ে পুরুষদের বাধার মুখে পড়েছিলেন।

পুরুষরা বলতেন, ফুটবল মেয়েদের খেলা নয়, মেয়েদের উচিত রান্নাঘরে থাকা আর বাসনকোসন ধোয়া। এরপর একসময় তালেবানের হুমকি পেয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন পপাল।

এখন বাস করছেন ডেনমার্কের কোপেনহাগেনে। সেখানে ‘গার্ল পাওয়ার অর্গানাইজেশন’ নামে একটি সংগঠন চালু করেছেন। এই সংস্থা ফুটবল ও খেলাধুলার মাধ্যমে অভিবাসী, এলজিবিটি সম্প্রদায়ের মানুষসহ সংখ্যালঘুদের সমাজে ভালোভাবে ‘ইন্টিগ্রেটেড’ হতে সহায়তা করে।

এছাড়া পথশিশুদের বিশ্বকাপের আয়োজক স্ট্রিট চাইল্ড ইউনাইটেডের দূত হিসেবেও কাজ করছেন পপাল।

তার এখনকার জীবনযাপনের সঙ্গে পথশিশুদের জীবনের মিল খুঁজে পান পপাল।
তিনি বলেন, পরিবার, পরিচয়, নেটওয়ার্ক ছাড়া বাস করার মানে আমি জানি।প্রশিক্ষণ নেয়া মেয়েদের জন্যও পপালের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে।

১৫ বছরের জাজমিন বলছে, তার (পপাল) ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অনেকটা আমাদের মতো। খুবই কঠিন। কিন্তু তারপরও তিনি এগিয়ে গেছেন এবং আমার মতো, ফুটবলার হতে চেয়েছেন।

জাজমিনসহ প্রায় একশ'র বেশি শিশুকে সহায়তা দিয়ে থাকে মেক্সিকোর বেসরকারি সংস্থা ‘কাসা আলিয়াঞ্জা’৷ এদের অনেকেই সহিংসতা, যৌন হয়রানি ও পাচারের শিকার হয়েছে। বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া নারী দলের সদস্যরা এই সংস্থা থেকে সহায়তা পেয়ে থাকে।

জাতিসংঘের হিসাবে, বর্তমানে সারাবিশ্বে প্রায় দেড়শ' মিলিয়ন শিশু রাস্তায় বাস করছে।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম