logo

সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৩ পৌষ, ১৪২৫

header-ad

বেলজিয়ামের পরাজয়ের নেপথ্যে প্রত্যাশার চাপ

ক্রীড়া প্রতিবেদক | আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৮

রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে গত মঙ্গলবার সেন্ট পিটার্সবুর্গ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় ফ্রান্স-বেলজিয়াম। এদিন সামুয়েল উমতিতির হেড থেকে আসা একমাত্র গোলে জয় পায় ফ্রান্স।

সেন্ট পিটার্সবুর্গে ফাইনালে উঠার এ ম্যাচে অঁতোয়ান গ্রিজমান দারুণ সব সুযোগ তৈরি করেছিলেন। ফরাসি সেনসেশন কিলিয়ান এমবাপের গতির ঝলকও ছিল। তবে ব্যবধানটা গড়লেন উমতিতি। বার্সেলোনার এ ডিফেন্ডারের গোলেই উড়তে থাকা বেলজিয়ামের গতিরোধ হয়। ফাইনালে পৌঁছে যায় ফ্রান্স। বেলজিয়ামকে ভাবতে হয় তৃতীয় হতে হবে!

এটি বিশ্বকাপে ফ্রান্সের তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠা। এর আগে ১৯৯৮ সালে একবার দলটি চ্যাম্পিয়ন হয়, আর ২০০৬ সালে ইতালির কাছে ফাইনালে হেরে যায়। অপরদিকে এটি ছিল বেলজিয়ামের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। দেশটির সোনালি যুগের এ দলটির ওপর যে আশা ছিল এ ম্যাচে সেই আশার প্রতিফলন তারা ঘটাতে পারেনি। যে কারণে সেমিফাইনালের বৃত্তেই সীমাবদ্ধ থাকতে হলো লুকাকু-হ্যাজার্ড-ব্রুয়েনদের।

বিশ্বকাপে বরাবরই ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, স্পেনকে ফেভারিট দল মনে করা হয়। কিন্তু এবারের আসরে সময় যত গড়িয়েছে ধীরে ধীরে ছিটকে গেছে টুর্নামেন্টের ‘ফেভারিট তকমা’ নিয়ে খেলতে আসা দলগুলো।

কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলকে বিদায় করে দিয়ে বেলজিয়াম দ্বিতীয়বারের মতো জায়গা করে নিয়েছিল সেমিফাইনালে। ফেভারিট হিসেবে শুরু না করলেও তাই পারফর্ম করে সেই তকমা লেগে গিয়েছিল বেলজিয়ামের গায়েই। তবে ৩২ বছর পর সেমিফাইনাল খেলতে আসা দলটিকে থামতে হয়েছে এখানেই। এর আগে ’৮৬ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ ছিল আর্জেন্টিনা। আর এবার তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স।

অনেকেই মনে করছেন একের পর প্রত্যাশা বাড়তে ছিল বেলজিয়ামের। আর এর চাপেই ভেঙে পড়ে দলটি। রাশিয়া বিশ্বকাপে ফেবারিট বলে কিছু নেই, এ ধারণাকে বাস্তবে প্রমাণ করা দলগুলোর অন্যতম বেলজিয়াম। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অপরাজেয় দলটি চূড়ান্ত পর্বেও হারেনি। ২৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকা বেলজিয়ামের কাছে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে হেরেছে ব্রাজিল। এসব নিয়ে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির তুঙ্গে ছিল দলটি। শেষ ম্যাচে তার ভারেই নুয়ে পড়েছে দলটি।

ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম পুরনো দ্বৈরথ ফ্রান্স-বেলজিয়াম লড়াই। এর আগে ৭৩ বার মুখোমুখি হয় ইউরোপীয় পড়শি দেশ দুটি। জয়ে এগিয়ে বেলজিয়াম। ৩০ ম্যাচে জয়লাভ করেছে রেড ডেভিলরা। আর ২৪ ম্যাচ জয় পেয়েছে ফ্রান্স। বাকি ১৯ ম্যাচ থেকেছে অমীমাংসিত।

সেই ১৯০৪ সাল থেকে লড়ে আসছে ফ্রান্স-বেলজিয়াম। শতাব্দী প্রাচীন লড়াই হলেও বিশ্বকাপে মাত্র দুবার মুখোমুখি হয়েছে তারা। প্রতিবারই জিতেছে ফরাসিরা। ১৯৩৮ বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডে বেলজিয়ানদের ৩-১ গোলে হারায় ফ্রান্স। আর ১৯৮৬ বিশ্বকাপে তাদের ৪-২ গোলে হারিয়ে তৃতীয় হয় ’৯৮ চ্যাম্পিয়নরা।

পরিসংখ্যানের এতসব হিসাব ভাঙতে পারলেন না লুকাকো-হ্যাজার্ডরা। খেলটির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ম্যাচটা খুব একটা দৃষ্টি সুখকর ছিল না। তাতে অবশ্য ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমের কিছু যায় আসে না। ম্যাড়মেড়ে ম্যাচ খেলেই বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স। ইতিহাস কিংবা বাস্তবতা ম্যাচের ফলই মনে রাখে!

উদ্ভাবনী কৌশলে ব্রাজিলকে হারিয়ে উড়তে থাকা বেলজিয়াম কোচ রবার্তো মার্টিনেজকে প্রত্যাশার আকাশ থেকে দেশমই নামিয়ে এনেছেন মাটিতে। পুরো টুর্নামেন্টে ফর্মে থাকা লুকাকু এদিন আটকে থাকলেন পাভার-উমতিতির হাতে, জাপানের বিপক্ষে গোল করা ফেলাইনিও বুঝিয়ে দিলেন তাকে দিয়ে প্রতিদিন গোল করানো যাবে না। নিষ্প্রভ থাকলেন কেভিন ডি ব্রুইনাও। এক এডেন হ্যাজার্ডই দলকে একা টানার চেষ্টা করে গেলেন, কিন্তু তিনি ব্যর্থ। উমতিতির হেডে ফাইনালে জায়গা পাকা করে নিল ফরাসিরা। আর এ ম্যাচে কৌশলের লড়াইয়ে হেরে গেল বেলজিয়াম।

বেলজিয়ামের এ দলের খেলোয়াড়দের বলা হয় ‘সোনালি প্রজন্ম’। বলা হয়, প্রতিটি পজিশনেই বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে তাদের। হ্যাজার্ড, ডি ব্রুইনা, দেম্বেলে, কোর্তোয়া, ভার্তোনে, অল্ডারভেইরেল্ড, কোম্পানি, লুকাকু, মার্তেন্স, ফেলাইনি, ভারমায়েলেন, উইটসেল, তিয়েলেমান্স, মিউনিয়ের, কারাসকো, চ্যাডলি-দুর্দান্ত কিছু ফুটবলারের হাট বসেছে যেন বেলজিয়াম দলে। এমনসব শক্তি নিয়েও প্রত্যাশার চাপে মেজাজ হারায় দলটি। বোদ্ধারা এমনটাই বলছেন।

ফাইনালে এখন ক্রোয়েশিয়ার অপেক্ষা করছে ফরাসিরা। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের অধিনায়ক হয়েই এ শিরোপা জিতেছিলেন দেশম। কোচ হিসেবেও সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তির আশা করছেন তিনি। আর ফ্রান্সে বইছে আনন্দের ফল্গুধারা। বিপরীতে বেলজিয়ামের প্রত্যাশা শেষ ম্যাচটি জিতে অন্তত তৃতীয় হওয়ার। প্রত্যাশার চাপে কতটা ভেঙে পড়লে আশা এতটা নিচে নামে!

ফেমাসনিউজ২৪/আরআর/আরইউ