logo

সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৫

header-ad

ফ্রান্সের ৯৮’র অনুপ্রেরণা ১২ বছর পর

ক্রীড়া প্রতিবেদক | আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৮

রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে গত মঙ্গলবার সেন্ট পিটার্সবুর্গ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় ফ্রান্স-বেলজিয়াম। এদিন সামুয়েল উমতিতির হেড থেকে আসা একমাত্র গোলে জয় পায় ফ্রান্স।

ফাইনালে উঠার এ ম্যাচে অঁতোয়ান গ্রিজম্যান দারুণ সব সুযোগ তৈরি করলেন। কিলিয়ান এমবাপে আবারও দেখালেন গতির ঝলক। তবে ব্যবধানটা গড়ে দিলেন সামুয়েল উমতিতি। বার্সেলোনার এ ডিফেন্ডারের গোলেই উড়তে থাকা বেলজিয়ামকে থামিয়ে ফাইনালে পৌঁছে যায় ফ্রান্স।

টানা ২৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর হারের স্বাদ পেল বেলজিয়াম। ‘সোনালি প্রজন্মরা’ পেল না প্রথম ফাইনালের স্বাদ।
এটি বিশ্বকাপে ফ্রান্সের তৃতীয়বারের মতো ফাইনাল খেলা। এর আগে ১৯৯৮ সালে একবার দলটি চ্যাম্পিয়ন হয়, আর ২০০৬ সালে ইতালির কাছে ফাইনালে হেরে যায়।

আগামী রোববার মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে শিরোপা লড়াইয়ে ১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যে বিজয়ীরা।

যে দলই আসুক ফ্রান্স কাপ জেতার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে। আর এতে তাদের অনুপ্রেরণা অবশ্যই ৯৮-এর স্মৃতি। জিনেদিন জিদান জাদুতে নিজ দেশে আয়োজিত বিশ্বকাপ জিতেছিল ফ্রান্স। ২০ বছর আগের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে চায়বে দলটি। অন্যদিকে ২০০৬-এর আসরেও জিজুর কল্যাণেই দলটি উঠেছিল ফাইনালে। যদিও রানার্সআপ হয়েই সেবার সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল দলটির। ১২ বছর পর আবার দলটি ফাইনালে। এবার অবশ্যই কাপ নিতে চাইবে দলটি।

বিশ্বকাপে সুখস্মৃতি বলতে এ দুটিই সেরা ফ্রান্সের জন্য। তবে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স দলের স্ট্রাইকার ডেভিড ত্রেজেগের মতে এবারের বিশ্বকাপ জেতার বেশ ভালো একটা সম্ভাবনা রয়েছে ২০১৬ সালের ইউরোর রানার্সআপ এ দলটির। এক সাক্ষাৎকারে ত্রেজেগে বলেন, আমার মতে, বিশ্বকাপ জেতার মতো অবস্থাতেই রয়েছে তারা।

এদিকে সেমিতে বেলজিয়ামের হারের পেছনে ফ্রান্সের স্যামুয়েল উমতিতি আর দেশমের অবদান দেখছেন বোদ্ধারা। ম্যাচে দেশম ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পনা সাজিয়েছেন। খেলোয়াড়দের দিয়ে দাবার ঘুঁটির মতো চাল দিয়েছেন। সেটা কাজেও এসেছে উমতিতির হাত ধরে। এ বার্সা ডিফেন্ডারের একমাত্র গোলেই খুন হয়েছে বেলজিয়াম।

এবার চাওয়া ২০ বছর পর আরেকটি খুন। ১২ বছর আগে ফাইনাল খেলার সুখস্মৃতি শুধুই না। ওইবার সুখ-অসুখে পরিণত হয়েছিল। এবার চাওয়া সুখস্মৃতির রেশ যেন থাকে।

অন্যদিকে ফ্রান্স রাশিয়া বিশ্বকাপ ঘরে তুলবে এমনটা ভাবার পেছনে বোদ্ধারা দলটির নানা সামঞ্জস্যতা সামনে আনছেন। কোচ দিদিয়ের দেশমের হাতে এবার একগুচ্ছ অসামান্য প্রতিভা রয়েছে। গোলে হুগো লোরিস (টটেনহ্যাম), মাঝ মাঠে এনগোলো কান্টে (চেলসি), পল পগবা (ম্যান ইউ) এবং আন্তোয়ান গ্রিজম্যান (অ্যাটলেটিকো)। সম্মুখভাগে ক্ষিপ্র গতির ডেমবেলে (বার্সা) এবং এমবাপে (পিএসজি)।

যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্য চরম হুমকি তৈরি করবে ফ্রান্স। এখন রাশিয়া বিশ্বকাপে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ তো একটি দলই। বুধবার মস্কোতে রাত ১২টায় অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের জয়ী ক্রোয়েমিয়া। ফ্রান্স এ ফুটবল মহাযজ্ঞে যে গতিতে এগিয়েছে তাতে ক্রোয়েশিয়া তাদের আটকাতে পারবে না বলেই মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা। সব উত্তর মিলবে আগামী রোববার মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে, রাত ৯টায়।

ফেমাসনিউজ২৪/আরআর/আরইউ