logo

শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৭ আশ্বিন, ১৪২৫

header-ad

ইংল্যান্ডের লাকি ওয়েস্টকোট

ক্রীড়া ডেস্ক | আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৮

ইংল্যান্ডের তরুণ ফুটবল দলটা সেমিফাইনালে উঠবে তাই বা কে ভেবেছিল? কত সমালোচনা দল ঘোষণার পর। কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকার এটাকে ভবিষ্যতের দল বলে এ বিশ্বকাপে কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন।

কিন্তু ‘মিস্টার ওয়েস্টকোট’ তা ভাবেননি, বিশ্বাসও করেননি। সেই ওয়েস্টকোটেই এখন ইংল্যান্ড উন্মাতাল। ওয়েস্টকোটের ঢেউ গিয়ে লেগেছে হুলিগানিজম ভুলে রাশিয়ায় বিশ্বকাপ জয়ে বিভোর ইংলিশ ফ্যানদেরও মাঝে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বুধবার ফাইনালে ওঠার লড়াই করবে যখন থ্রি লায়ন্স তখন ইংলিশ পাব বা লুঝনিকি স্টেডিয়ামে নিশ্চিতভাবেই ‘ওয়েস্টকোট’-এর সমারোহের দেখা মিলবে।

গ্যারেথ সাউথগেট। ইংল্যান্ডের কোচ। ভালোবাসেন ‘ওয়েস্টকোট’ পরে ডাগআউটে দাঁড়াতে। তাকে মানায়ও খুব। স্মার্টনেসের সঙ্গে ইংলিশ দলের সাফল্যে কোচের ওই ওয়েস্টকোট এখন একটি বিরাট ব্র্যান্ড ও ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইংলিশ দল মানেই যেন ওয়েস্টকোট। তাদের লাক বা ভাগ্য যেন ওই ওয়েস্টকোটেই!

১৯৬৬ বিশ্বকাপ নিজের দেশে আয়োজন করে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইংল্যান্ড। ওই একবারই। রাশিয়ার আগে শেষবার তারা সেমিফাইনালে খেলেছিল তাও ঢের আগে। ১৯৯০ ইতালি বিশ্বকাপে। আর ওয়েস্টকোট কোচ সাউথগেটের দল তো দুর্দান্ত কুশলী ও কৌশলী খেলায় ফুটবলের জন্মভূমি এবং ফুটবল বলতে ইংল্যান্ডকে জীবন্ত করে তুলেছে।

এর সঙ্গেই কোচ সাউথগেটের ‘ওয়েস্টকোট’ হয়ে গেছে আইকনিক। ফ্যাশনে দারুণ প্রয়োজনীয় এ সময়ে। এ গ্রীষ্মের সবচেয়ে সেরা পোশাক। ইংল্যান্ড দলের অফিসিয়াল টেইলর মার্ক অ্যান্ড স্পেনসারের এ ওয়েস্টকোটের স্টক এর মধ্যে প্রায় শেষ। শুধু মামা সাইজ বা একেবারে বিশাল সাইজের এবং সবচেয়ে ছোট সাইজের কিছু মিলছে অনলাইনে।

শুধু ইংল্যান্ডে? সাউথগেটের এ ওয়েস্টকোট যেন বৈশ্বিক ব্র্যান্ড ও ট্রেন্ড হয়ে উঠেছে এ বিশ্বকাপ থেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের ওয়েস্টকোট পরে ছবি পোস্ট করতে দেখা যাচ্ছে। বাদ যাচ্ছে না ঘরের পোষা প্রাণীটাও। তার জন্যও ওয়েস্টকোট! এমনকি ঘরের পুতুলটাও এখন ওয়েস্টকোট পরা! বিভিন্ন সেলিব্রেটিরাও ওয়েস্টকোট পরে ছবি তুলে সেটা ইংল্যান্ডের জন্য তাদের সমর্থন হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছেন। ইংল্যান্ডের বাইরে অনেক দেশ যারা এ দলটির ফুটবল পছন্দ করে তারাও মজেছে ওয়েস্টকোট ম্যানিয়ায়।

ইংল্যান্ডের অফিস বা কাজের জায়গাগুলোতে ওয়েস্ট কোট পরা মানুষ এখন বেশি। পথে ঘাটেও সহজেই চোখে পড়ছে। রাশিয়ান পুলিশও ওয়েস্ট কোট পরা কাউকে দেখলেই বুঝে নিচ্ছেন তিনি ইংলিশ কিংবা ইংল্যান্ড দলের ফ্যান। চট করে একটা সেলফি তুলে নিতেও ভুল হচ্ছে না তাই।

‘ইটস কামিং হোম’ ইংল্যান্ডের গানটা ওয়েস্টকোটের সুবাস নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। কলম্বিয়া ও সুইডেনকে হারানোর পর পথেঘাটে এ সুর কান না পাতলেও শোনা যাচ্ছে। কিন্তু সেই ওয়েস্টকোটের লাক গতকাল বুধবার রাতে মস্কোতে ইংলিশদের জেতাতে পারেনি। 

ফেমাসনিউজ২৪/আরআর/আরইউ