logo

মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮ | ২ শ্রাবণ, ১৪২৫

header-ad

বিশ্বকাপে পাকিস্তান আছে!

ক্রীড়া ডেস্ক | আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৮

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে এ মুহূর্তে পাকিস্তান আছে ২০১ নম্বরে। ১৯৪ নম্বরে আছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশই যেখানে বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখতে পারে না, সেখানে পাকিস্তানের কথা আসল কীভাবে?

তারপরও ১৯৯০ সাল থেকে প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপে মাঠে ছিল পাকিস্তান! ম্যারাডোনা থেকে রোমারিও, জিদান থেকে মেসি-কেউই পাকিস্তানের সঙ্গ এড়াতে পারেননি! অবাক ব্যাপার।

পাকিস্তানের পাঞ্চাব প্রদেশের উত্তরের একটি শহর শিয়ালকোট। আর এ শহরেই তৈরি হয়েছে রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্যবহার করা সব ফুটবল। শিয়ালকোটে তৈরি ফুটবল নিয়েই যুদ্ধে মেতেছিলেন মেসি-রোনালদো-নেইমাররা।

ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার খবর, শুধু রাশিয়া বিশ্বকাপ না, শিয়ালকোট বরাবরই পৃথিবীর ফুটবল তৈরির কারখানা। ১৯৯০ সাল থেকে প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপেই ফুটবল গেছে শিয়ালকোট থেকে। শুধু ফুটবল বিশ্বকাপ না, এ মুহূর্তে শিয়ালকোটে বানানো ফুটবলেই খেলা হয় চ্যাম্পিয়নস লিগ, জার্মান বুন্দেসলিগা ও ফরাসি লিগ। সারা পৃথিবীর ৪০ শতাংশ ফুটবলই তৈরি হয় শিয়ালকোটে।

অ্যাডিডাসের কাছ থেকেই এবারের রাশিয়া বিশ্বকাপের ফুটবল ‘টেলস্টার ১৮’ তৈরির স্বত্ব পেয়েছে পাকিস্তানের ফরওয়ার্ড স্পোর্টস। প্রতি মাসে এ কোম্পানি বানায় ৭ লাখ ফুটবল। ২০১০ সাল পর্যন্ত বিশ্বকাপ খেলা হতো হাতে সেলাই করা ফুটবলে। তখনো ফুটবল যেত পাকিস্তান থেকেই। কিন্তু সেলাই করা ফুটবলে এখন আর খেলা হয় না। এখন এসেছে থার্মো বন্ডেড ফুটবল। তবে নতুন প্রযুক্তিতেও সেরা ফুটবল তৈরি হয় সেই শিয়ালকোটেই।

আনন্দবাজার পত্রিকাটি আরও জানায়, শিশুশ্রম ব্যবহার করার অভিযোগে ২০০৬ সালে শিয়ালকোটের সব স্বত্ব বাতিল করেছিল ক্রীড়া-সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক সংস্থা নাইকি। অভিযোগ ছিল, সেলাইয়ের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে শিশুদের ছোট ছোট হাত। তবে থার্মো-বন্ডেড ফুটবলে সেই ঝামেলা নেই। নতুন প্রযুক্তিতে অনেকটাই কমেছে শিশুশ্রমের ব্যবহার।

শিয়ালকোটে ফুটবল তৈরির শুরু অনেকটা কাকতালীয়ভাবেই। ভারতে বসবাসকারী ব্রিটিশদের কাছে ফুটবল বরাবরই ছিল জনপ্রিয় খেলা। তাদের জন্য জাহাজে করেই ইংল্যান্ড থেকে ফুটবল আসত ভারতে। অনেক সময়ই ফুটবল আসতে দেরি হত। ১৮৮৯ সালে শিয়ালকোটের এক ব্রিটিশ সেনা তার খারাপ হয়ে যাওয়া ফুটবলটি সারাতে দেন স্থানীয় মুচিকে। তার কাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকে একটি ফুটবল বানানোর স্বত্ব দেন তিনি। শিয়ালকোটে বানানো প্রথম ফুটবল সেটিই। তারপর থেকেই শুরু ফুটবল মাঠে শিয়ালকোটের একক আধিপত্য।

ফেমাসনিউজ২৪/আরআর/আরইউ