logo

রবিবার, ২২ জুলাই ২০১৮ | ৭ শ্রাবণ, ১৪২৫

header-ad

ওয়ালশের ঘরে বাংলাদেশের কঠিন পরীক্ষা

ক্রীড়া প্রতিবেদক | আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৮

জ্যামাইকার সাবিনা পার্কে আজ বৃহস্পতিবার সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে ব্যর্থতার পর এটি সাকিবদেও জন্য বড় পরীক্ষা। দলের বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশের নিজের ঘরে ঘুরে দাঁড়ানোর পরীক্ষা।

অ্যান্টিগা থেকে জ্যামাইকা, বাংলাদেশ দলের জন্য বাস্তবতা একই। ক্যারিবিয়ার আরেকটি দ্বীপ। কিন্তু কোর্টনি ওয়ালশের জন্য এটি ঘরে ফেরা। এখানেই তার জন্ম, এই আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠা।

জ্যামাইকার হয়ে খেলেই ওয়েস্ট ইন্ডিজে সুযোগ পাওয়া আর বিশ্ব ক্রিকেট মাতানো। ঘরে ফেরার আনন্দ আছে ওয়ালশের। আছে আশাও। অ্যান্টিগার মতো জ্যামাইকায়ও থাকবে সবুজ উইকেট। বোলিং কোচের বিশ্বাস, তার দেশে ভালো করবে তার দল বাংলাদেশ।

এদিকে প্রথম টেস্টে বাজে পারফরম্যান্সের দায়টা নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন ক্রিকেটাররা। জ্যামাইকায় সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ক্রিকেটাররা তাই ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া। এমন কথাই বারবার বলেছেন তারা। তামিম ইকবাল ও নুরুল হাসান সোহান জানিয়েছেন, অ্যান্টিগার দুঃস্বপ্ন দ্রুতই ভুলতে চান তারা। এবার বাংলাদেশ দলের বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশও জানালেন একই আশাবাদের কথা। মজার ব্যাপার হচ্ছে, বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর এ লড়াইটা হবে ওয়ালশের চৌহদ্দিতেই।

জ্যামাইকার সাবিনা পার্কে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এ টেস্ট বাংলাদেশের সিরিজ বাঁচানোর। সঙ্গে ব্যাটসম্যানদের ভালো করার চ্যালেঞ্জও আছে। আগের টেস্টে ব্যাটসম্যানদের নিদারুণ ব্যর্থতায় এক ইনিংস ও ২১৯ রানের ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। ওয়ালশ এ ব্যর্থতাটুকু মেনে নিচ্ছেন।

জ্যামাইকার স্থানীয় এক টিভি চ্যানেলকে তিনি বলেছেন, ‘প্রথম টেস্ট খারাপ হয়েছে। আমরা ভালো করতে পারিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভালো খেলছে। তবে দ্বিতীয় টেস্টে আমরা ভালো খেলার ব্যাপারে আশাবাদী।’

এ সাবিনা পার্কেই ২০০১ সালে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলেছিলেন ওয়ালশ। এটি তার নিজের জন্মভূমিও। ৫১৯ উইকেটের পাহাড়ে উঠে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এ কিংবদন্তি। সাবিনা পার্ক তাই ওয়ালশের ক্যারিয়ারের জন্য বিশেষ স্মৃতি। সেই স্মৃতি দলের পেসারদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়ে তাদের উদ্দীপ্ত করেছেন কিনা, এ প্রশ্নের জবাবে ওয়ালশ বলেন, হ্যাঁ, ওদের এই টেস্ট উপভোগ করতে বলেছি। বলেছি এটা পেসারদের জন্য বড় সুযোগ। নিজেদের প্রমাণ কর। আমি এ টেস্টের দিকে তাকিয়ে আছি।

প্রথম টেস্টে বড় ব্যবধানে হারায় এ ম্যাচে তাই এমনিতেই চাপে আছে বাংলাদেশ দল। ওয়ালশের কাছে এ ম্যাচটা বাংলাদেশ দলের জন্য বড় পরীক্ষা। ভুলগুলো শুধরে নিয়ে নিজেদের খেলাটা খেলতে হবে।

অ্যান্টিগার মতো সাবিনা পার্কেও পেসবান্ধব উইকেটের প্রত্যাশা করছেন ওয়ালশ, অবশ্যই অ্যান্টিগার মতো উইকেট প্রত্যাশা করছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের সুবিধামতোই উইকেট বানাবে। এখানেও সিমিং উইকেটের প্রত্যাশা করছি।

এক সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছিল পেস বোলিংয়ের স্বর্গরাজ্য। গতিময় ও বাউন্সি উইকেটে ব্যাটসম্যানদের হাড়ে কাঁপন জাগাতেন ক্যারিবিয়ান ফাস্ট বোলাররা। ওয়ালশের ক্যারিয়ার শেষ হতে হতে সেসব হয়ে পড়ে ক্ষয়িষ্ণু। পরে তো হারিয়েই যায়। চিরায়ত চরিত্র হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উইকেটগুলো হয়ে পড়ে মন্থর ও একঘেয়ে।

তবে এ মৌসুমে ব্যতিক্রম। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ছিল গতিময় ও বাউন্সি উইকেট। বাংলাদেশের বিপক্ষে অ্যান্টিগা টেস্টেও উইকেট ছিল একই রকম।

উইকেটের হারিয়ে ফেলা আচরণের প্রত্যাবর্তনে খুশিই ওয়ালশ। ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাওয়া নিয়ে কপট আক্ষেপও করলেন। নিজের ঘরের মাঠ জ্যামাইকাতেও একই রকম উইকেট থাকবে, ধারণা করছেন বাংলাদশের বোলিং কোচ।

জ্যামাইকার সবচেয়ে বিখ্যাত সন্তানদের একজন ওয়ালশ। সাবিনা পার্কের একটি প্রান্তের নামকরণ করা হয়েছে তার নামে। বছর পর বছর দাপিয়ে বেড়িয়েছেন এ মাঠে। এখানকার নাড়ি-নক্ষত্র তার জানা। মাঠের সবকিছু চেনা হাতের তালুর মতোই। এ মাঠকে জানতে তার চেয়ে ভালো আর কে আছেন! বাংলাদেশের জন্য এ টেস্ট তাই বড় সুযোগ।

ফেমাসনিউজ২৪/আরআর/আরইউ