logo

সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৮ আশ্বিন, ১৪২৫

header-ad

এশিয়া কাপে যারা জিততে পারে টুর্নামেন্ট

ক্রীড়া ডেস্ক | আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এশিয়া কাপে ভারতের হয়ে খেলছেন না কোহলি। নিঃসন্দেহে তাঁর অনুপস্থিতি টুর্ণামেন্টের অনেকটা জৌলুস কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু তবু টুর্নামেন্টের আকর্ষণ ধরে রেখেছে ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ।

আগামী শনিবার থেকে বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা ম্যাচ দিয়ে শুরু হতে চলেছে এবারের ছয় দলীয় এশিয়া কাপ। গ্রুপে ভারত-পাকিস্তানের একটি নিশ্চিত খেলা রয়েছে। সুপার ফোরেও তাঁদের আরও একবার মুখোমুখি হওয়ার কথা। কিন্তু দুই দেশেরই ক্রিকেট ভক্তদের আশা ফাইনালেও দেখা হবে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীরই।

ভারত, পাকিস্তান - এই দুই দলই এবারের কাপ জেতার সেরা দাবিদার। এছাড়া বাংলাদেশও কাপ জেতার কালো ঘোড়া হয়ে উঠতে পারে। এশিয়া কাপ শুরুর আগে একবার দেখে নেওয়া যাক কোন দল কোথায় দাঁড়িয়ে আছে। ভারত - রোহিতের নেতৃত্বের পরীক্ষা অধিনায়ক কোহলিকে এই টুর্নামেন্টে বিশ্রাম দিয়েছে ভারত।

কাজেই তাদের সামনে বড় সুযোগ রয়েছে, তাঁর অনুপস্থিতিতে দল কেমন খেলে তা দেখে নেওয়ার। ১৮ সেপ্টেম্বর দুর্বল হংকংয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে এবারের এশিয়া কাপ অভিযান শুরু করবে রোহিত শর্মার ভারত। তারপরদিনই আসল পরীক্ষা, পাকিস্তান ম্যাচ।

একদিনের ক্রিকেটে ব্য়াটসম্যান হিসেবে কী করতে পারেন তা দেখিয়ে দিয়েছেন রোহিত শর্মা। এবার পালা তাঁর অধিনায়কত্বের প্রদর্শনের। শ্রীলঙ্কায় তাঁর নেতৃত্বে ভারত নিদহাস ট্রফি জিতেছিল ঠিকই, কিন্তু সেই শ্রীলঙ্কা ধারে ভারে অনেকটাই পিছিয়ে ছিল। স্নায়ুর চাপের ম্যাচেই রোহিতের অধিনায়কত্বের আসল পরীক্ষা হবে। ইংল্যান্ড সফরে হতাশা জনক ফল হলেও ভারতের এই একদিনের দল খুবই শক্তিশালী। কাপ জেতার লক্ষ্যের পাশাপাশি ভারত এই টুর্নামেন্টে একদিনের দলে মহেন্দ্র সিং ধোনির যথাযথ ব্যাটিং পজিসনও খুঁজে বার করার চেষ্টা করবে।

পাকিস্তান - বিশ্ব মানের পেসার প্রতিভাবান ব্যাটসম্যানে সম্বৃদ্ধ গত কয়েক বছরে প্রচুর ভাঙা গড়ার মধ্য দিয়ে গিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। অবশেষে তাঁরা একটি শক্তিশালী দল খুঁজে পেয়েছে।

একদিকে যেমন এই দলে আছে মহম্মদ আমিরের নেতৃত্বাধীন বিশ্বমানের পেস অ্যাটাক, আবার আছেন ধারাবাহিকভাবে রানের মধ্যে থাকা ওপেনার ফখর জামান'ও। এছাড়া আছেন বাবর আজম, হ্যারিস সোহেলের মতো প্রতিভাবান ব্যাটসম্যানরা। সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন এই দলই কিন্তু আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিল। দলে নেওয়া হয়েছে শারিন আফ্রিদির মতো তরুণ প্রতিভাদেরও।

বাংলাদেশ - টুর্নামেন্টের কালো ঘোড়া ক্রিকেটে বাংলাদেশের ধারাবাহিক উন্নতির সাক্ষর বহন করছে এই টুর্নামেন্ট। ২০১৬-তে তারা এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছিল। তবে সেইবার টুর্নামেন্ট খেলা হয়েছিল টি২০ ফর্ম্যাটে। তবে ২০১২ সালে ৫০ ওভার ফর্ম্যাটে খেলা এশিয়া কাপের ফাইনালেও কিন্তু পৌঁছেছিল তারা। দীর্ঘদিনের অধিনায়ক মাশরাফি মোর্তাজার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের এই দলটির বোলিং লাইনআপ কিন্তু আবু ধাবি ও দুবাইয়ের স্লো পিচের জন্য বেশ শক্তিশালী। ব্যাটিংয়ে তাদের প্রধান ভরসা তামিম ইকবাল। নিজেদের দিনে অভিজ্ঞ মাহমুদুল্লা, মুস্তাফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানও ম্য়াচ উইনার হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখেন। কাজেই বিশেষজ্ঞরা এবারের এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দলকে কালো ঘোড়া বলছেন।

শ্রীলঙ্কা - ধারাবাহিকতার অভাবই রোগ শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা অবসর নেওয়ার পর দলটি এখনও ট্রানজিশন পিরিয়ডে রয়েছে। সুসংহত দল এখনও গড়ে ওঠেনি। এর সঙ্গে রয়েছে বেতন সংক্রান্ত বিবাদ, ক্রিকেট প্রসাসনের অন্তর্দ্বন্দ্ব ইত্যাদি সমস্যা। তবে দলটিতে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, উপল থরঙ্গা, তিসারা পেরেরা, লাসিথ মালিঙ্গার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা আছেন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন আকিলা ধনঞ্জয়, দাসুন শনক, কাসুন রাজিথার মতো তরুণরা। কিন্তু, তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা ধারাবাহিকতার অভাব। এই টুর্নামেন্টে ধারাবাহিকতা দেখাতে পারলে শ্রীলঙ্কারও ভাল কিছু করে দেখানোর সম্ভাবনা থাকবে।

আফগানিস্তান- নিজেদের প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ সদ্য টেস্ট খেলার ছাড়পত্র পেয়েছে আফগানিস্তান। তাঁদের স্পিনার রশিদ খান অবশ্য তাঁর ব্যক্তিগত দক্ষতায় সারা ক্রিকেট বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছএন। বিভিন্ন দেশের টি২০ লিগে খেলেন তিনি। ককিন্তু এই টুর্নামেন্টে আফগান খেলোয়াড়রা দেখাতে পারেন রশিদ খানই তাঁদের একমাত্র ক্রিকেট পরিচিতি নয়। তাঁদের ব্যাটসম্যান মহম্মদ শাহজাদও যথেষ্ট প্রতিভাবান। এই টুর্নামেন্টে একটি বা দুটি ম্য়াচ জিতে অনেক হিসেব বদলে দিতে পারে তারা।

হংকং - একদিনের আন্তর্জাতিক খেলার ছাড় পাওয়া লক্ষ্য হংকংয়ের ক্রিকেটারদের কেউই সম্পূর্ণ পেশাদার ক্রিকেটার নন। তাঁদের দলের বেশিরভাগ খেলোয়ারই ভারতীয় বংশোদ্ভূত। আইসিসি এই টুর্নামেন্টে তাদের একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার জন্য অস্থায়ী ছাড়পত্র দিয়েছে। স্থায়ী অনুমতি আদায় করাটাই তাদের লক্ষ্য।

ফেমাসনিউজ২৪.কম/কেআর/এস