logo

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০ | ৬ কার্তিক, ১৪২৭

header-ad

জামায়াতের দুঃসময় ও রাজনীতিতে নানা ভাবনা

ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান | আপডেট: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

রাজনীতির মাঠে যতই বিরোধিতা করা হোক না কেন, এটা সত্য যে বর্তমানে দেশে যে কয়টি রাজনৈতিক দল রয়েছে এর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলটি বেশ পুরনো। সেই ১৯৪১ সালের ২৬ আগস্ট দলটির জন্ম পাকিস্তানের লাহোরে। এর প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবুল আলা মওদুদী, বাংলাদেশ তথা নিখিল পাকিস্তানের রাজনীতিতে এক বহুল আলোচিত-সমালোচিত ব্যক্তি।

প্রতিষ্ঠার পর প্রায় পৌনে শতবর্ষ কেটে গেলেও দলটি মাত্র একবার অন্যদের গড়া সরকারের মন্ত্রীসভায় দুইজন নেতা যোগদান ছাড়া আর কখনো ক্ষমতায় যাওয়া তো দূরের কথা ক্ষমতার কাছাকাছিও যেতে পারেনি। এছাড়া দেশের জনগণের সমর্থনও সেভাবে আদায় করতে পারেনি।

এরপরও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সর্বদা বড় ফ্যাক্টর হিসেবেই কাজ করছে এই দলটি।কেননা, মহান মুক্তিযুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকার কারণে মাত্র কয়েক বছর বিরতিতে প্রায় অধিকাংশ সময় জুড়েই জাতীয় সংসদে কমবেশী জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেছে তারা। সংসদে যেমন তেমন মাঠে-ময়দানে আন্দোলন সংগ্রামে সর্বদাই বড় ফ্যাক্টর তথা বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে তারা। আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ প্রায় সব দলই তাদের সাথে আটবেঁধে একসাথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। যা কোনোভাবেই অস্বীকার যাবে না।

কখনো কখনো এই জামায়াতই সরকার গঠনের ক্ষেত্রে কিংবা সরকার পতনে বড় নিয়ামক হিসেবেও অন্যদের কাছে দেখা দিয়েছে। মাঠের রাজনীতিতেও খুবই সুংগঠিত একটি রাজনৈতিক শক্তি, যাদের সারা দেশে রয়েছে অনেক নেতাকর্মী-সমর্থক। জামায়াত শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের কাছ থেকে শোনা কথা জানি না কতটা সত্য, এই দলটির মতো মতাদর্শের প্রতি এতটা আনুগত্যশীল জনশক্তি নাকি বাংলাদেশের আর কোনো রাজনৈতিক দলের নেই। এছাড়াও রাজনীতির মাঠে আন্দোলন কিভাবে করতে হয় সেটাও নাকি আওয়ামী লীগ-বিএনপি একসময় জামায়াতের কাছ থেকেই শিখেছে, যা পরবর্তীতে তারা বাস্তবে প্রয়োগ করে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।

বিগত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচন (৫ জানুয়ারি বাদে)এবং সবশেষ গেল উপজেলা-পৌর ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চিত্র বিশ্লেষণেও দেখা যায় জামায়াতে ইসলামীর শক্ত অবস্থানের কথা।এছাড়া রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা (দলকানা ব্যতীত) বিশ্বাস করেন, দেশের ১৭-১৮ কোটি জনগোষ্ঠীর প্রায় ৫ থেকে ১০ ভাগ কম-বেশি জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত অথবা দলটিকে সাহায্য ও সমর্থন করে থাকে। শত জুলুম-নির্যাতনেও দমাতে পারেনি তাদের। কোনো না কোনভাবে তারা সক্রিয় থেকেছে। সেদিক থেকে তাদের শক্তি ও সক্রিয়তায় দলটি প্রতিষ্ঠার সুদীর্ঘ ইতিহাসে বর্তমান সময়ের মতো এতটা সুবিস্তৃত এবং সংগঠিত কোনোকালেই ছিল বলে আমার মনে হয় না। এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এর সমর্থকগোষ্ঠী।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তাদের প্রভাব একেবারেই কম বলা যাবে না। ফলে এই দলটিকে কোনোভাবেই একপাশে রেখে দেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি অন্যদলগুলো। এ কারণে যখন যার যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু ব্যবহার করে পরবর্তীতে ছুড়ে মেরেছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি যে তাদের কখনো বুকে টেনে নিবে না এটা জেনেও তারা নিজেরা বারবার ব্যবহৃত হয়েছে দাবার গুটি হিসেবে।এমনটিই লক্ষ্যনীয় বিগত দিনের রাজনীতির চিত্র থেকে।

বলা যায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমল থেকে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ভালোই সুখে ছিল এই দলটি ও তাদের নেতাকর্মিরা। এমন কি স্বৈরশাসক এরশাদ ও বিগত ১৯৯৬-২০০১ আওয়ামী লীগের আমলেও তারা বেশ স্বাচ্ছন্দেই রাজনীতি করেছে। কিন্তু দুঃসময় নেমে আসে মূলতঃ ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই।

২০০৮ সালের নির্বাচনের আগেই নির্বাচনী ইশতিহারে মহাজোট ৭১’র যুদ্ধাপরোধীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর ক্ষমতায় এসে মহাজোট সরকার ঠিকই ২০১০ সালের মার্চ মাসে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে যুদ্ধাপরাধের বিচারের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে।

এরপরও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আমলে নেয়নি দলটি। তাদের ধারণা ছিল,বিচার প্রক্রিয়া একটা পর্যায়ে যেতে না যেতেই এরই মধ্যে তারা সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম হবে। কিংবা মহাজোট সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে ক্ষমতার পট পরিবর্তন হয়ে যাবে।কিন্তু তাদের সে ধারণা যে ভুল ছিল তা ক্রমেই স্পষ্ট হতে থাকে। ইতোমধ্যেই দলটির আধ্যাত্মিক গুরু সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত হয়ে রায় কার্যকরের আগেই কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন,বিচার প্রক্রিয়া শেষে দলের পাঁচ শীর্ষ নেতার ফাসিঁ কার্যকর এবং দলের আরো কয়েকজন নেতাসহ অধিকাংশ শীর্ষ নেতার বিচার শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে অন্যান্য নেতাদেরও।

শুধু তাই নয়, দলটির নিবন্ধনও ইতোমধ্যে সরকার কৌশলী প্রক্রিয়ায় (হাইকোর্টের কোর্টের রায়ে) বাতিল করে দিয়েছে।এখন আপিল বিভাগে চূড়ান্ত হলেই সরকার দলটি নিষিদ্ধ ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে সরকার যে এক্ষেত্রে কৌশলী ভূমিকা নিয়েছে তা সহজেই অনুমেয়।

ফলে সবমিলেই আজ বড়ই দুঃসময় পার করছে দলটি ও এর নেতারা। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর গেল পৌনে শত বছরে দলটি এই সময়ের ন্যায় ইতোপূর্বে আর কখনো এতটা সঙ্কটে পড়েছে বলে আমার জানা নেই। দমন-নিপীড়ন আর নির্যাতনে এত নেতাকর্মীকেও আর কখনো হারাতে হয়নি তাদের। দলটির নেতাদের ভাষ্য মতে, গেল ৭ বছরে তারা প্রায় সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে হারিয়েছেন, অনেক নেতাকর্মি আহত-পঙ্গু হয়েছে, আবার অনেক নেতাকর্মী জেল-জুলুম ভোগ করেছেন। এখনো তা অব্যাহত রয়েছে।এছাড়া দলটি গেল ৫-৬ বছর ধরে সেভাবে প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিও পালন করতে পারছে না। দৃশ্যত সরকার ক্রমেই তাদের একঘরে ফেলেছে।

এতো শক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কেন আজ দলটির করুণ পরিণতি সেটি নিয়ে ভাবনা যেমন দলের ভেতরে রয়েছে তেমনি বাইরেও রয়েছে। শোনা কথা, জানিনা কতটুকু সঠিক- বিগত ৭ বছরে খোদ দলের ভেতর থেকেই দলীয় সংস্কারের দাবি উঠে একাধিকবার। এমন কি প্রয়াত জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানও নাকি বর্তমান পরিস্থিতিতে দলকে সংস্কারের বেশ কয়টি প্রস্তাব রেখে জেল থেকে দলের নেতাকর্মীদের কাছে খোলা চিঠি লিখেছিলেন। দলটির নামে বাংলাদেশ শব্দটি শেষ থেকে প্রথমে আনা এবং গঠনতন্ত্রে সামান্য কিছু পরিবর্তন এনে নিবন্ধন রক্ষা করা ছাড়া তেমন কিছুই সংস্কার হয়নি। আমলে নেয়া হয়নি বাস্তব পরিস্থিতির কোনো কিছুই।

এই পরিস্থিতিতে দলের কট্টরপন্থীরা হয়তো বরাবরের মতোই বলবেন, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনদের পরীক্ষা, ইসলামী আন্দোলনে এ ধরনের পরীক্ষা আসবেই। দলের কট্টরপন্থীদের এমন মত থাকলেও যারা দলীয় গন্ডির বাইরেও প্রচলিত রাজনৈতিক ধারায় দল ও দেশের রাজনীতি নিয়ে একটু অন্যভাবে ভাবেন এমন তরুণ নেতারা বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দলীয় কৌশলগত ব্যর্থতা, অদূরদর্শী চিন্তার অভাব এবং নেতাদের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে না পারার কারণকেই দায়ী বলে মনে করেন।

কেননা, রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছুই নেই, একসময় এই জামায়াতই আওয়ামী লীগের সাথে আটবেঁধে তৎকালীন বিএনপি বিরোধী আন্দোলন করেছে। পরবর্তীতে আবার বিএনপির সাথে আটবেঁধে আওয়ামী সরকার বিরোধী আন্দোলন করছে।

প্রসঙ্গত, গেল বছরের ১ আগস্ট হাইকোর্টের একটি রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন থেকে দলটির নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে সংসদকে জানায়। সেই বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, আপিলের দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দ্রুত শুনানির আবেদন করার জন্য বাদীপক্ষকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তিনি জানান, জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়টি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল হয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে এ তথ্য দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।এছাড়া নির্বাচন কমিশনার সচিব সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, জামায়াতের নিবন্ধন বাতিলের জন্য কোনো গেজেট প্রকাশের দরকার নেই। অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশেই দলটির নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। তবে হাইকোর্টের দেয়া ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে দলটি। এতে তারা জয়ী হলে আবার নিবন্ধন দেওয়া হবে।

সরকারপক্ষের লোকজন যাই বলুক না কেন, তবে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের অভিমত,আইনগতভাবে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। নেতাদের ভাষ্য হলো, এরপরও যদি সরকার দলটিকে নিষিদ্ধ করে, তাহলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় তখনই ঠিক করা হবে। নিষিদ্ধ হওয়ার আগেই দলকে নিজেরা নিষিদ্ধ করতে চায় না। সরকার নিষিদ্ধ করলে তখন সিদ্ধান্ত নেবে জামায়াত।

এদিকে জাতীয় নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিএনপি-আ.লীগের পাশাপাশি জামায়াত-শিবিরের নেতারাও জনসংযোগে পিছিয়ে নেই। ঘরোয়া পরিবেশেই তারা জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে এমন পরিস্থিতি জামায়াত আগামী নির্বাচনে কিভাবে অংশ নিবে,এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। দলের ভিতরেও এ নিয়ে চিন্তা-ভাবনার কমতি নেই বলে জানা যাচ্ছে। তবে এ নিয়ে চিন্তিত নন, জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। তারা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম এমনটিই দাবি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতার।

তবে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনে অংশ নিয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বড় মাথা ব্যথা। কেননা, বর্তমানে জামায়াত যতই নাজুক পরিস্থিতিতে থাক না কেন, ভোটের রাজনীতিতে জামায়াত শক্ত অবস্থানে। কারণ জামায়াতের ভোট ব্যাংকে কেউ কখনো হাত দিতে পারে না। জামায়াতের ভোট ব্যাংকে ভোট বাড়ে বরং কখনো কমে না। আগামী নির্বাচনেও জামায়াত যে আওয়ামী লীগ বিএনপির জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে একটা বড় ফ্যাক্টর সেটা অন্যদের বোধগম্য না হলেও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা ঠিকই ভাবছেন। আর যে কারণে জামায়াতকে দমাতে এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বিচ্ছিন্ন করতে যতসব কৌশল ক্ষমতাসীনদের।

তবে জামায়াতকে নিয়ে বিএনপিতে ভাবনা কম নেই। আবেগী নেতাকমীরা যাই বলুক না কেন,বিএনপি চেয়ারপারন বেগম ঠিকই জামায়াতকে বুঝতে ভুল করেননি। কেননা, গেল ১০ বছরে বিএনপি থেকে জামায়াতকে বিচ্ছিন্ন করতে কম ধাক্কা যায়নি ম্যাডাম জিয়ার ওপর। এরপরও তিনি জামায়াতে ইসলামকে জোট থেকে বাইরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিতে রাজি হননি। ফলে আগামী নির্বাচনেও বিএনপি যে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চায় তা অনেকটাই স্পষ্ট। তবে সেটা কোন প্রক্রিয়ায় তা এখনো পরিস্কার নয় কারো কাছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত তিনবার নিষিদ্ধ হয় জামায়াত। প্রথম নিষিদ্ধ হয় ১৯৫৯ সালের ৮ অক্টোবর। ওই সময় আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করলে জামায়াতসহ সব দলের রাজনৈতিক তৎপরতা বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৬২ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত এ ফরমান বলবৎ ছিল। এরপর ১৯৬৪ সালের ৬ জানুয়ারি আইয়ুব খান জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে। সে বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান সুপ্রিমকোর্টের রায়ে জামায়াত আবার প্রকাশ্যে রাজনীতি করার অধিকার পায়। সর্বশেষ ১৯৭২ সালে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হয়।

ফলে বলা যায়- এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার বিষয়টি জামায়াতে ইসলামীর জন্য নতুন নয়, এর আগেও তারা এ ধরনের পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে ফের রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সেদিক বিবেচনায় এবার দেখার বিষয় বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় কোন পথে হাঁটে জামায়াত। তবে আগামী দিনে চলার পথ যে তাদের জন্য মসৃণ হবে না সেটা সহজেই অনুমেয়। কেননা, সরকার যেভাবে আটঘাঁট বেঁধে জামায়াত-শিবির উৎখাতে নেমেছে তাতে সহজেই সঙ্কট কাটিয়ে উঠা তাদের জন্য বেশ কঠিন হবে। তবে তাই বলে যে সরকার জামায়াত-শিবির নির্মূলে শতভাগ সফল হবে সেটাও আমি অন্তত বিশ্বাস করি না। ফলে আমাদেরকে আরো কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে সরকারের দমননিপীড়নের কৌশল মোকাবেলায় জামায়াতে ইসলামী কতটা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে আবার রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

লেখক: শিক্ষা, সমাজ ও রাজনীতিবিষয়ক গবেষক।