logo

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০ | ৬ কার্তিক, ১৪২৭

header-ad

একসূত্রে গাঁথা ষড়যন্ত্র এবং প্রিয় বাংলাদেশ

কাফি কামাল | আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

প্রিয় বাংলাদেশ, তোমার বিরুদ্ধে চলছে আজ চতুর্মুখী ষড়যন্ত্র। আরাকানে রোহিঙ্গাদের বাঙালি সন্ত্রাসী আখ্যায়িত, বাংলাদেশের পাঠ্যবইয়ে রোহিঙ্গাদের চট্টগ্রামী (বাংলাদেশী) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া ভ্রমণকাহিনী প্রকাশ; গণহত্যার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূল; রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়া; বর্মীদের হেলিকপ্টারের বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘন; রোহিঙ্গা নির্মূলে বার্মাকে কয়েকটি প্রভাবশালী দেশের সমর্থনদান ও আন্তর্জাতিক ফোরামে বর্মীবর্বরদের পক্ষাবলম্বন; বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীকে কথিত হত্যা প্রচেষ্টার সংবাদ; রাখাইনে মুসলিম রোহিঙ্গাদের হাতে নিহত হিন্দুদের গণকবর আবিষ্কার-সবই একসূত্রে গাঁথা।

বাংলাদেশ রাষ্ট্র, বাংলাদেশের মানুষ ও বাংলাদেশের পঁচাশিভাগ মানুষের ধর্ম নিয়ে অব্যাহত ভাবে প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে কিছু গ্রুপ (Government of Republic of Jummaland/ Republic of Jummaland/ Jummaland(CHT)/ Monogeet Jumma) সহ অনেকেই। Government of Republic of Jummaland পেইজ থেকে ঠিক বার্মা সেনাবাহিনী ও সু চি সরকারের অনুকরণে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। আরাকান অশান্তের জন্য তারা সরাসরি বাংলাদেশ সরকার ও সেনাবাহিনীকে দায়ী করছ। ভাবুন একবার।

বাংলাদেশের কিছু পেইড বুদ্ধিবিক্রেতা নানাভাবে এসব ষড়যেন্ত্রর সঙ্গে জড়িত। কিছু তথাকথিত প্রগতিশীল, আর কিছু ধান্ধাবাজ ধর্মজীবীও নিজ নিজ লাইনে এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িয়ে যায় এবং সমর্থন করে। দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে বুঝে না বুঝে বা বিভ্রান্ত হয়ে বাংলাদেশের বহু মানুষ ষড়যন্ত্রকারীদের পুতুল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকটেও সেটা দেখা গেছে প্রবলভাবে। তাই যে কোন বিষয়ে প্রচারণার আগে অন্তত একবার ভাবুন-আপনার প্রচারণা কি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যাচ্ছে?

এবার আসুন দুটো প্রোপাগান্ডা একটু কাটাছেঁড়া করি।

এক. ভারতের সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক তার প্রতিবেদনে দাবি করেছেন, ‘২৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। ঘটনার সঙ্গে তার নিরাপত্তারক্ষীরা জড়িত।’

এ কথা বলার সুযোগ নেই যে প্রধানমন্রীর জীবন শতভাগ নিরাপদ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এমন একটি খবর সুবীর ভৌমিক বার্মার মিজিমা ও ভারতের নিউজ এইটিনে দিলেন কেন? যখন বাংলাদেশের সঙ্গে এতবড় একটা অন্যায় করল বার্মা। তাহলে কি সাহসী প্রধানমন্ত্রীকে ভয় দেখানো হচ্ছে?

বিশেষ দ্রষ্টব্য : এই ধরনের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। কিন্তু তার আগেই এমন একটি অসমর্থিত সূত্র নির্ভর স্পর্শকাতর সংবাদ অদূরদর্শীতার মাধ্যমে কিছুক্ষণ প্রচার করে ফেলেছে খোদ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা-বাসস।

দুই. মিয়ানমারের রাখাইনে হিন্দুদের একটি গণকবর খুঁজে পেয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। মিয়ানমার সেনাবাহিনী তাদের ওয়েবসাইটে বলছে, রাখাইন প্রদেশে একটি গণকবর খুঁজে পেয়েছে। গণকবরটি খুঁড়ে মোট আটাশটি মৃতদেহ বের করে এনেছে, এদের সবাই হিন্দু ধর্মাবলম্বী, বেশীরভাগই মহিলা। সেনাবাহিনী বলছে, বাঙালী মুসলমান জঙ্গিরা এইসব হিন্দুদেরকে হত্যা করেছে।

দেখুন, খবরটা দিচ্ছে কে? মিয়ানমার সেনাবাহিনী। যখন মিয়ানমার সেনাবাহিনীই ওই এলাকায় সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সেখানে যেতে দিচ্ছে না। তাহলে আপনি সত্যমিথ্যা খতিয়ে দেখবেন কি করে? উদ্দেশ একটাই হিন্দু-মুসলমান জটিলতা তৈরি করে রোহিঙ্গাদের থেকে মনোযোগ ফেরানো।

ভুলে যাবেন না এ খবরটি দিয়েছে বিবিসি। যারা কিছুদিন আগে একটি সরেজমিন সচিত্র প্রতিবেদনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী কিভাবে হিন্দু নারীকে দিয়ে বাড়িতে আগুন দেয়ার পাতানো ছবি প্রচার করেছিল তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল।

ইতিহাস ঘেটে দেখুন গত দুশো বছরেও আরাকানে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা-ফেসাদ হয়েছে কিনা। আমি আপনি রোহিঙ্গাদের মাঝে হিন্দু-মুসলমান যত বিভেদরেখা টানি না মগদের কাছে দুটোই এক-বাঙালি কালা।

আগামী দিনগুলিতে এমন প্রোপাগান্ডা আসতেই থাকবে এটা নিশ্চিত বলা যায়। অতএব সাবধান প্রিয় বাংলাদেশ।

ফেমাসনিউজ২৪/আরআর/আরইউ