logo

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০ | ৬ কার্তিক, ১৪২৭

header-ad

রাজনীতিতে উন্নয়ন কবে হবে?

শামীমুল হক | আপডেট: ০৩ অক্টোবর ২০১৭

রাজনীতির আকাশ বরাবরই মেঘাচ্ছন্ন। কখনও ঝড়, ঘূর্ণিঝড় আবার কখনও টর্নেডোর পূর্বাভাস। আর এতে আতঙ্কিত দেশের মানুষ। চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে ঘর থেকে বাইরে আসে তারা। আবার ঘরে ফিরে একই উৎকণ্ঠা নিয়ে। ঘুমুতে গেলেও শান্তি নেই। সকালে উঠে আবার কি শুনতে হয়। এরকম এক গুমোটবাঁধা আকাশে হঠাৎ রোদ দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী।

কিন্তু তাদের সে অপেক্ষার পালা কি শেষ হবে? স্বৈরাচারি এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যুগপৎ আন্দোলন করেছিল। তাদের সেই আন্দোলনও একাধিকবার রাজনৈতিক গ্যারাকলে পড়ে। তারপরও ফের এক হয়ে রাজপথে লড়াই করে। একই সঙ্গে আন্দোলন করে। দুই নেত্রীই তখন নানা কৌশলে আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে থাকে। স্বৈরাচারের বুলেটও সে সময় নেতা-কর্মীদের টলাতে পারেনি। এরশাদ এক সময় হার মানে। ক্ষমতা ছেড়ে দেয়। রুপরেখা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চলতে থাকে।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে দেশবাসীকে অবাক করে দিয়ে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ট আসনে জয়লাভ করে। সরকার গঠন করে তারা। এরপর থেকে দুই নেত্রীর দূরত্ব বাড়তে থাকে। বাড়তে থাকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দূরত্ব। বর্তমান সময়ে এসে তা গিয়ে ঠেকেছে দাঁ কুমড়া সম্পর্কে। এরই মধ্যে রোহিঙ্গা সঙ্কট বাংলাদেশের মাথায় এসে চরম ধাক্কা দেয়। বিএনপির তরফে দাবি উঠে জাতীয় ঐক্যের। কিন্তু সরকার সেদিকে ভ্রুক্ষেপ দেয়নি। নিজেদের মতোই এগুতে থাকে। প্রধানমন্ত্রী মমতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে যান রোহিঙ্গাদের মাঝে। রোহিঙ্গাদের কষ্টে তিনি ব্যাথিত হন। যার রেশ জাতীসংঘ অধিবেশনেও দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা চেয়েছেন।

কিন্তু বাংলাদেশের মিত্র বলে সবার আগে যে দেশকে চিহিৃত করা হয় সেই ভারত রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরাসরি বার্মাকে সমর্থন দিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মায়ানমার নেত্রী অং সান সূচির যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মোদি রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের পাশে থাকার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন। চীনও বসে নেই। তারাও মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়েছে। আর রাশিয়াতো আগেই বলে দিয়েছে মিয়ানমার সন্ত্রাস নিমূল করছে। বাংলাদেশের তিন বৃহৎ বন্ধুর এমন আচরণে বাংলাদেশিরা অবাকই হয়েছেন। বিশেষ করে ভারতের ভূমিকায় তারা হতাশ।

কিন্তু বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ জানেন না-ভারত, ভারতই। তারা নিজেদের স্বার্থে সবকিছু করতে পারেন। তারা নিজেদের স্বার্থে বন্ধুকেও এক মুহূর্তে ছিটকে ফেলে দিতে দ্বিধা করে না। ভারতের ডিকশনারীতে আপন বলতে কিছু নেই। তামাশার বিষয় হলো- মিয়ানমার গিয়ে অং সান সূচির সঙ্গে ডিনার করেন। আর বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নেন। আবার দেশে গিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ পাঠান। এ কোন মশকরা কেউ জানেন না।

যে বিষয়ের অবতারণা সে বিষয়ে ফিরে যাই। পৃথিবীর এমন কোন দেশ নেই যে দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সম্প্রীতি নেই। জাতীয় ইস্যুতে তারা এক টেবিলে বসে আলাপ করে। দেশের স্বার্থে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয়। শুধু মাত্র বাংলাদেশ ব্যতিক্রম। যেখানে সরকার সরকারের পথে চলে। বিএনপি বিএনপির পথে। অন্য দলগুলোও জোটের পক্ষে সাফাই গায়। কিন্তু সরকারেই যারাই থাকুক না কেন তারা কাউকে ডেকে জাতীয় কোন ইস্যুতে পরামর্শ নেয়ার প্রয়োজনটুকুও আছে বলে মনে করেন না। আর তাইতো এই দেশকে নিয়ে বিশ্ব খেলতে পারে সহজে। মাঝে মাঝে বৃহৎ দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমঝোতার আভাস পাওয়া যায়। কিন্তু নিমিষেই সেই আভাস মিলিয়ে যায় বাতাসে। যেন মেঘের সঙ্গে কুলোতে না পেরে রোদ হার মানে। আড়ালে চলে যায়। আবার মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে রাজনীতির আকাশ। মানুষ আতঙ্কে রাত কাটায়, দিন কাটায়। অনিশ্চিত এক যাত্রায় বাংলাদেশ। কোথায় গিয়ে ঠেকে এর রেশ- কারও জানা নেই।

তবে উন্নয়নে বাংলাদেশ এগিয়েছে অনেক। গড় আয় বেড়েছে বহু গুণ। গ্রামে গ্রামে আজকাল আর কুঁড়েঘর দেখাই যায় না। সব জায়গায় স্থান করে নিয়েছে ইট, পাথরের দালান কিংবা টিন। মানুষ এখন আর না খেয়ে মরে না। শিক্ষার উন্নয়নে তো বিপ্লব ঘটেছে। কিন্তু সব উন্নয়নই মার খাচ্ছে রাজনীতিতে উন্নয়ন না হওয়ায়। সবার আগে তো প্রয়োজন রাজনীতিতে উন্নয়ন। রাজনীতিতে হানাহানি, খুনোখুনি সব উন্নয়নকে ম্লান করে দিচ্ছে। বিশ্বে বাংলাদেশ সংঘাতপূর্ণ জাতি হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। এবার এসব থেকে মুক্তি পাওয়ার সময় এসেছে। দেশের মানুষ আশা নিয়ে বসে আছেন রাজনীতির নীতি পরিবর্তন হবে। রাজনীতিকরা একে অপরকে শ্রদ্ধা করবেন। জনসভায় দাঁড়িয়ে আর গালাগাল দেবেন না। আক্রমণাত্মক বক্তব্য রাখবেন না। তারা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য হাতে হাত রেখে এগিয়ে যাবেন। দেশের গুরুতর সমস্যায় এক টেবিলে বসে সিদ্ধান্ত নেবেন। একসঙ্গে সমাধানের পথ খুঁজে নেবেন।