logo

রবিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৭ | ৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৪

header-ad

এভ্রিলের কান্না এবং অদৃশ্য মুকুট

শামীমুল হক | আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০১৭

মা আমেনা, বেশ কদিন ধরে তোমাকে নিয়ে দেশজুড়ে চলছে হইচই। তোমার দিকে দৃষ্টি গোটা মিডিয়ার। এরই মধ্যে তুমি ফেসবুক লাইভে কাঁদলে। তোমার কান্না দেখে আমি বসে থাকতে পারলাম না। তাই চিঠি লিখতে বসলাম। সেই লাইভে তুমি দেশবাসীর কাছে নানা প্রশ্ন রেখেছ। বলেছ, কয়টা মেয়ে পারবে তোমার মতো পরিবার থেকে ত্যাজ্য হয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে। তোমাকে নিয়ে সমালোচনা করার অধিকার কে দিয়েছে সে বিষয়টিও জানতে চেয়েছ সবার কাছে। তোমার কথা বলার বাচনভঙ্গি সত্যিই সবাইকে আকর্ষণ করার মতো। সত্যিই আমি তোমার সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলতে চাই-আমেনা থেকে কজন পারে এভ্রিল হতে। কজন মেয়ে পারে মাফিয়া গার্ল হতে। কজনই পারে হাইস্পিড লেডি বাইক রাইডার হতে।

আর তোমার কথা অনুযায়ী মাত্র ১৬ বছর বয়সে তুমি বাল্য বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলে। বিয়ের ভিডিওতে দেখেছি তুমি হাসিমুখে নিজের স্বামীকে মিষ্টি খাওয়াতে। বড়দের সালাম করতে। আবার স্বামীর সঙ্গে পিতার বাড়ি ছাড়তে। সেসব দেখেতো মনে হয়নি তোমাকে জোড় করে বিয়ে দেয়া হচ্ছে। বরং যে কেউ বলবে একজন আদর্শ গৃহিনী হিসেবে তুমি নতুন জীবনকে স্বাগতই জানাচ্ছিলে। সে যাই হোক-তুমি ফেসবুক লাইভে বলেছ, একদিনও সংসার করোনি। কিন্তু তোমার সাবেক স্বামীতো বলে অন্য কথা। কয়েক মাস ঘর-সংসার করেছ। হয়তো বনিবনা না হওয়ায় তুমি ডিভোর্সি হয়েছ। এটা কোনো অন্যায় নয়। এটা ইসলামের সবচেয়ে নিকৃষ্টতম জায়েজ কাজ। যে কাজটি মা তোমার বেলায় হয়েছে।

তোমার কথায় বুঝতে পেরেছি-এরপরই তুমি তোমার জীবনকে নিয়ে ভাবতে থাক। পিতা-মাতার ত্যাজ্য কন্যা হয়ে তুমি যেমন জীবনকে নতুন করে সাজাতে নেমে পড়েছ তেমন এ ত্যাজ্য কথা শুনতে কার ভালো লাগে বল? আর আমাদের সমাজে পুত্রকে ত্যাজ্য করার কথা বহু আগে শুনতাম। বেশ কবছর ধরে পুত্র সন্তানকেও ত্যাজ্য করার কথা তেমন একটা শোনা যায় না। আমার মনেও প্রশ্ন জাগে একজন মেয়ে কোন পর্যায়ে গেলে তার পিতা-মাতা ত্যাজ্য করার মতো সিদ্ধান্ত নেয়। এ প্রশ্নটি তোমার প্রতি রইল। তুমি কেঁদে কেঁদে বলেছ ছোটবেলা থেকেই কোনো বাধা-বিপত্তির কাছে মাথা নত করোনি। কিন্তু আমরা কী দেখলাম। বাধাতো দূরের কথা হাসিমুখে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে। এটা কি তোমার বাধার নমুনা।

তুমি বলেছ, ১৬ বছর বয়সে বিয়ে মেনে নিতে পারনি। ঠিক আছে, কিন্তু মিস বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় তাহলে কেন এ তথ্যটি গোপন করলে? তুমি বলেছ সকল নির্যাতিত মেয়েদের পাশে দাঁড়াতে তুমি বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে এসেছ। আর তাই শপথও নিয়েছ বাল্য বিয়েরোধে কাজ করবে? আমার প্রশ্ন গত চার বছরে কটি বাল্য বিয়ে তুমি ঠেকিয়েছ?

মাগো, মিস বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার পর তোমাকে অনেকেই প্রতারক, চোর, বাটপার বলায় কষ্ট পেয়েছ। কিন্তু যখন তোমার কাছে এ লেখা লিখছি, তখন চলছিল অন্তর শোবিজের সংবাদ সম্মেলন। সেখানে তোমার খেতাব কেড়ে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আর এ ঘোষণার মাধ্যমে মানুষের কথা-প্রতারক, চোর, বাটপারকেইতো সমর্থন করা হলো। এটা নিশ্চয় তুমি স্বীকার করবে।

মাগো মনে রাখবে, আমেনা থেকে সহজে এভ্রিল হওয়া যায়। নিজেকে পাল্টে নেয়া যায়। কিন্তু নিজের সম্মান কি বাড়ানো যায়। তুমি বলেছ, যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন অসহায় মেয়েদের নিয়ে কাজ করবে। তোমার এ কথায়ও আপত্তি জানাচ্ছি। কারণ তোমার কাছ থেকে কোনো অসহায় মেয়ে কিছু শিখবে বলে মনে করি না। যদি শেখে তাহলে শিখবে প্রতারণা আর বাটপারি। এমনটা কি তুমি চাও? আমার বিশ্বাস এ ঘটনার পর তুমি সেটা চাইবে না।

তুমি বলেছ, ডিভোর্সি মেয়েরাও পারে সেটা সমাজকে দেখাতে চেয়েছিলে। কিন্তু তুমি যে পদ্ধতিতে দেখাতে চেয়েছিলে সেটা যে ভুল ছিল এটাতো ইতিমধ্যে প্রমাণই হয়ে গেছে। তবে তোমার একটা কথা আমার খুব ভালো লেগেছে। যত কষ্টই পাও সুইসাইড করবে না বলে জোড় গলায় বলেছ। আরও বলেছ তুমি হাল ছেড়ে দেবে না। তোমার এই ইচ্ছাকে আমি শতভাগ সমর্থন করি। কিন্তু বিরোধীতা করি তুমি যে পথে এগিয়ে যাচ্ছ সে পথকে। তুমি সবার উদ্দেশে আরও বলেছ, আপনারা আমাকে বুঝলেন না। চিনতে পারেননি। এটা ঠিকই বলেছ মা এভ্রিল। চিনতে পারলেতো তুমি মিস বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় অংশই নিতে পারতে না। আর তোমার জন্য অন্তর শোবিজকে এত নাকানি-চুবানি খেতে হতো না। তুমি মিস বাংলাদেশ মুকুট সম্পর্কে বলেছ, সে মুকুট হারিয়েছ দুঃখ নেই। তুমি অদৃশ্য মুকুট নিয়েই সন্তুষ্ট। একইসঙ্গে তুমি কথা দিয়েছ সব সময় নিজেকে প্রেজেন্ট করে যাবে।

মা আমেনা, তোমাকে বলছি, পৃথিবীতে বেঁচে থাক আমেনা হয়ে। এভ্রিল হতে যেও না। তোমার বয়স মাত্র ২০ বছর। বাকি জীবনতো পড়ে আছে তোমার সামনে। আগে জানতাম তুমি সাহসী। প্রতিবাদী। এসব কারণেই বন্ধুরা নাকি তোমাকে ‘মাফিয়া গার্ল’ বলে ডাকে। তোমার ফেসবুক আইডিতেও মাফিয়া গার্ল হিসাবে নিজেকে মেলে ধরেছ। আচ্ছা একটা প্রশ্ন করি তোমাকে। বলতো মাফিয়া কথাটি কি আমাদের দেশে কিংবা গোটা বিশ্বে পজেটিভ অর্থে বলা হয়? উত্তর হলো না। তাহলে নেগেটিভ শব্দে নিজেকে বন্ধু মহলে পরিচয় করার মানে কি? আর শখ হিসাবে বেছে নিয়েছো বাইক রাইডার। এটা কোনো শখ হলো। তুমি হাইস্পিড লেডি বাইক রাইডার হলে সমাজের কি উপকার হবে? বলতে পার? তারপরও বলি তোমার ইচ্ছা অনুযায়ী লেডি বাইকার হিসেবে বিশ্ব দরবারে নিজেকে তুলে ধরতে চেয়েছিলে। সেখানেই থাকতে তুমি। সেটা না করে কেন সুন্দরী প্রতিযোগিতায় তথ্য গোপন করে নাম লেখালে। তথ্য গোপনে কি এমন বাহাদুরি আছে? বলতে পার মা আমেনা?

শুনেছি হাই সিসি মোটরসাইকেল চালানো তোমার শখ। আর এ কাজেই তুমি স্বাধীনতা খুঁজে পাও। শুধু তাই নয়, এটিকে তুমি দেখ নারী স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবেও। তোমার এমন চিন্তা আমাদের মতো ক্ষুদ্র মানুষকে চিন্তায় ফেলে দেয়। এটা যদি হয় নারী স্বাধীনতার প্রতীক তাহলে নারী স্বাধীনতার অর্থইযে মা বদলে ফেলতে হয়। যাই হোক তোমার অল্প বয়স। এখনো নিজেকে শুধরে নেয়ার সময় আছে। নিজেকে শুধরে নাও। দেখবে ভবিষ্যতে কোনো কাজে বাধাগ্রস্ত হবে না।

সবেশেষে মাগো একটি কথাই বলতে চাই, বন্ধুদের নিষেদ করো তোমাকে মাফিয়া গার্ল যেন না ডাকে। তাদের বলো এমন শব্দ ব্যবহার করতে যা শোনতে শ্রুতিমধুর লাগে। আর যা হয়ে গেছে এর জন্য নিজেকে দায়ি করে শুধরে যাও। ভালো থেকো। অনেক ভালো। অদৃশ্য মুকুট নিয়ে এগিয়ে যাও বহুদূর।

এ সংক্রান্ত আরো খবর : 

নতুন ঘোষিত মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের দ্বিতীয় রানার আপ চমকও বিবাহিত!

অবশেষে বিয়ের কথা স্বীকার করে অঝোরে কাঁদলেন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ (ভিডিওসহ)

এভ্রিল আমার সুখের সংসার তছনছ করে দিয়েছে, সাক্ষাৎকারে জান্নাতের 'স্বামী'

‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ জান্নাতুল নাঈমের বিয়ের কাবিন ছিল ৮ লাখ টাকা (দেখুন বিয়ের ভিডিও)

‘লাভেলো মিসওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’র প্রতিযোগী কে এই জান্নাতুল নাঈম? (প্রথম পর্ব)

‘চলে যাচ্ছি, বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে লড়ে যাব’

জেসিয়াকে অভিনন্দন জানালেন এভ্রিলের সাবেক স্বামী

‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ এভ্রিলের মুকুট এখন জেসিয়ার মাথায়

ফেমাসনিউজ২৪/এসএস/আরইউ