logo

বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০ | ৬ কার্তিক, ১৪২৭

header-ad

জামায়াত এখন কী করবে?

ড.সরদার এম. আনিছুর রহমান | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০১৭

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নানা কারণেই আলোচিত-সমালোচিত দল জামায়াতে ইসলামী। আর বর্তমানে যে দলটি সবচেয়ে সঙ্কটে পড়েছে এতে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়। একদিকে দলটির শীর্ষ নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে, অন্যদিকে রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া। এরই মধ্যে দলটির প্রায় সব শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বলা যায় দলটি এখন নেতৃত্ব শূণ্য হয়ে পড়েছে।

ইতোমধ্যে দলের আধ্যাত্মিক গুরু সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত হয়ে রায় কার্যকরের আগেই কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন।বিচার প্রক্রিয়া শেষে দলের ৫ শীর্ষ নেতার ফাসিঁ কার্যকর হয়েছে। দলটির নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুস সোবহান ও সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল আজহারুল ইসলামের বিচার প্রক্রিয়াও একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে, আপিলের শুনানি দিন ধার্য্য হয়েছে।আর কয়দিনের মধ্যেই হয়তো জানা যাবে তাদের ভাগ্যেও কী ঘটতে যাচ্ছে। আরো বেশ কয়েকজন নেতার বিচার চলছে।

পর্যায়ক্রমে বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে অন্যান্য নেতাদেরও। শুধু তাই নয়, দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়াও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। দলটির নিবন্ধন এরইমধ্যে সরকার কৌশলী প্রক্রিয়ায় (হাইকোর্টের কোর্টের রায়ে) বাতিল করে দিয়েছে।এখন আপিল বিভাগে চূড়ান্ত হলেই দলটি নিষিদ্ধ ঘোষণা হতে পারে।

সবমিলেই জামায়াতের দুর্দিন। সেই ১৯৪১’র ২৬ আগস্ট লাহোরে দলটি প্রতিষ্ঠিত হবার পর পৌনে শতবর্ষে দলটিকে আর কখনো এতটা সঙ্কটে পড়তে হয়েছে কী না তা আমার জানা নেই। কঙ্কটযুক্ত পথের যেন শেষ নেই।

মধ্যম সারির নেতাদের ভাষ্যমতে, তারা চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছেন। এর আগে আর কখনো এতটা সঙ্কটে পড়তে হয়নি, এতো নেতাকর্মিকেও হারাতে হয়নি তাদের। গেল সাড়ে বছরে তারা সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে হারিয়েছেন, অনেক নেতাকর্মি আহত-পঙ্গু হয়েছেন আবার অনেক নেতাকর্মী জেলজুলুম ভোগ করেছেন।এসব কিছু ইসলামী আন্দোলনের ত্যাগ হিসেবে এতদিন মেনে নিলেও শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির বিষয়টি তারা সহজে মেনে নিতে পারেননি।এটাকে প্রতিপক্ষের রাজনীতি প্রতিহিংসা হিসেবেই দেখছেন।

এসত্ত্বেও যে ধরনের প্রতিক্রিয়া দেলাওয়ার হোসেন সাইদীর মামলার রায়ের পর দলটি দেখিয়েছিল সেটি অন্য নেতাদের বিচারে দেখা যাচ্ছেনা। হরতাল ডাকলেও আগের মত আর নেতাকর্মীরা মাঠে থাকছে না। তাহলে কী জামায়াত দিন দিন নীরব তথা দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, না তারা নতুন কৌশলে এগুচ্ছেন? এমন প্রশ্নই এখন সর্বমহলে আলোচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, এর আগে তাদের নেয়া কৌশল কার্যকর না হওয়ায় তারা নতুন কৌশলে এগুচ্ছেন।

দু’একজন মধ্যম সারির নেতার ভাষ্যেও এমন তথ্যই উঠে এসেছে। তাদের ভাষ্যমতে, সরকারের পাতা ফাঁদে তারা পা দিতে নারাজ। ফলে তারা আগে রাজনীতির সূত্রে ভুল করলেও নতুন করে আর ভুল করে অঙ্কের চূড়ান্ত ফলাফলে গড়মিল করতে চান না। যে কোনো মূল্যেই তারা তাদের রাজনীতির অঙ্কের চূড়ান্ত ফল গড়ে তুলতে চান। তাদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় গুটি কয়েক নেতাকে হত্যা আর দল নিষিদ্ধের মাধ্যমে তাদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে পারবে না সরকার। আদর্শ ও ক্যাডারভিত্তিক দলে কখনো নেতৃত্বের সঙ্কট হয় না। রাজনীতি নিষিদ্ধ করলেও তারা নীরবে সামাজিক বিপ্লবের কথা ভাবছেন, একদিন না একদিন ক্ষমতার পটপরিবর্তনে রাজনীতিতে নতুন উদীয়মান শক্তি হিসেবে আভির্ভুত হবেন তারা। ফলে অন্যেরা যাই বলুক না কেন, নেতারা নতুন সম্ভাবনা দেখছেন।

কেননা, গেল সাড়ে আট বছর ধরে সরকার জামায়াতকে জঙ্গি আখ্যায়িত করে ব্যাপক প্রচারণা চালায় এবং তা প্রমাণের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়। কিন্তু জাতীয় নির্বাচন ও দলের নেতাদের বিচার ইস্যুতে কিছু রাজনৈতিক সহিংসতা ছাড়া জঙ্গিবাদে তাদের সম্পৃক্ততার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করে তা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত বেশ কয়েকটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের পর প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্যদের বক্তব্যে জামায়াতকে দায়ি করলেও তাতেও জামায়াতের সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রমাণ করতে সরকার পক্ষ সমর্থ হয়নি বলেই দলটির নেতারা মনে করেন। ফলে সরকারের বক্তব্যে এটা জনমনে বদ্ধমূল ধারণার সৃষ্টি হয়েছে যে সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

দলটি মাওলানা আবুল আলা মওদুদী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বাংলাদেশ তথা নিখিল পাকিস্তানের রাজনীতিতে এক বহুল আলোচিত-সমালোচিত।প্রতিষ্ঠার পর ৭৫ বছর কেটে গেলেও দলটি মাত্র একবার অন্যদের গড়া সরকারের মন্ত্রীসভায় দুইজন নেতা যোগদান ছাড়া আর কখনো ক্ষমতায় যাওয়া তো দূরের কথা এর কাছাকাছিও যেতে পারেনি। এছাড়া দেশের জনগণের সমর্থনও সেভাবে আদায় করতে পারেনি।এরপরও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সর্বদা বড় ফ্যাক্টর হিসেবেই কাজ করেছে এই দলটি। কেননা, মহান মুক্তিযুদ্ধে বিরোধীতার কারণে দেশ স্বাধীনের পর মাত্র কয়েক বছর বিরতিতে প্রায় অধিকাংশ সময় জুড়েই জাতীয় সংসদে কমবেশী প্রতিনিধিত্ব করেছে তারা।

সংসদে যেমন তেমন মাঠে-ময়দানে আন্দোলন সংগ্রামে সর্বদাই ফ্যাক্টর তথা বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে তারা। আওয়ামী লীগ-বিএনপি, বাম ও জাতীয় পার্টিসহ প্রায় সব দলই তাদের সাথে ঘাটবেঁধে একসাথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। যা কোনোভাবেই অস্বীকার যাবে না। কখনো কখনো এই জামায়াতই সরকার গঠনের ক্ষেত্রে কিংবা সরকার পতনে বড় নিয়ামক হিসেবেও অন্যদের কাছে দেখা দিয়েছে। মাঠের রাজনীতিতেও খুবই সুংগঠিত শক্তি, যাদের সারা দেশে রয়েছে ডেডিকেটেড নেতাকর্মী-সমর্থক।

শোনা কথা জানিনা কতটা সত্য, এই সংগঠনটির মতো দল-আদর্শের প্রতি এতটা আনুগত্যশীল জনশক্তি নাকি বাংলাদেশের আর কোনো রাজনৈতিক দলের নেই। অবশ্য বিগত কয়েকটি জাতীয় এবং উপজেলা নির্বাচনের চিত্র বিশ্লেষণেও দেখা যায়, মোট জনগোষ্ঠির প্রায় ১০ থেকে ১৫ ভাগ জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত কিংবা দলটিকে সমর্থন করে। শত জুলুম-নির্যাতনেও দমাতে পারেনি তাদের। কোনো না কোনভাবে সক্রিয় থেকেছে। সেদিক বিবেচনায় শক্তি ও সক্রিয়তায় দলটি প্রতিষ্ঠার সুদীর্ঘ ইতিহাসে বর্তমান সময়ের মতো এতটা সুবিস্তৃত এবং সংগঠিত কোনোকালেই ছিল বলে আমার মনে হয় না। ফলে যতদূর জানা যায় তাতে, বর্তমানে পরিস্থিতিতে তারা সঙ্কটে থাকলেও পটপরিবর্তনে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরলে তারাই হবে রাজনীতিতে বড় ফ্যাক্টর। কেননা, বর্তমান শক্তি বিবেচনায় তারা যে কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের ভীত নাড়াতে সক্ষম বলেই দাবি করেন নেতারা।

এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এর সমর্থকগোষ্ঠি। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তাদের প্রভাব একেবারেই কম বলা যাবে না। ফলে এই দলটিকে কোনোভাবেই একপাশে রেখে দেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি অন্যদলগুলো। এ কারণে যখন যার যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু ব্যবহার করে পরবর্তীতে ছুড়ে মেরেছে। আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি যে তাদের কখনো বুকে টেনে নিবে না এটা জেনেও তারা নিজেরা বারবার ব্যবহৃত হয়েছে দাবার গুটি হিসেবে। এমনটিই লক্ষ্যনীয় বিগত দিনের রাজনীতির চিত্র থেকে।

বলা যায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমল থেকে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ভালোই সুখে ছিল এই দলটি ও তাদের নেতাকর্মিরা। এমন কি স্বৈরশাসক এরশাদ ও বিগত ১৯৯৬-২০০১ আওয়ামী লীগের আমলেও তারা বেশ স্বাচ্ছন্দেই রাজনীতি করেছে।

কিন্তু দুঃসময় নেমে আসে মূলতঃ ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগেই নির্বাচনী ইশতিহারে মহাজোট ৭১’র যুদ্ধাপরোধীদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর ক্ষমতায় এসে মহাজোট সরকার ঠিকই ২০১০ সালের মার্চ মাসে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে যুদ্ধাপরাধের বিচারের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে। এরপরও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আমলে নেয়নি দলটি। তাদের ধারণা ছিল, বিচার প্রক্রিয়া একটা পর্যায়ে যেতে না যেতেই এরই মধ্যে সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম হবে কিংবা সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে ক্ষমতার পট পরিবর্তন হয়ে যাবে। কিন্তু তাদের সে সূত্র যে ভুল ছিল তা ক্রমেই স্পষ্ট হতে থাকে।

এতো শক্তি সামর্থ্য থাকার পরও কেন আজ দলটির এই করুণ পরিণতি, সেটি নিয়ে ভাবনা দলের ভেতরে চলছে। এতে বিগত দিনে দলের ভেতর থেকেই দলীয় সংস্কারের দাবি উঠে একাধিকবার। এমন কি ফাঁসিতে দণ্ডিত জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানও এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলকে সংস্কারের বেশ কয়টি প্রস্তাব রেখে জেল থেকে দলের নেতাকর্মিদের কাছে খোলা চিঠি লেখেছিলেন।

এরপরও দলটির নামে বাংলাদেশ শব্দটি শেষ থেকে প্রথমে আনা এবং গঠনতন্ত্রে সামান্য কিছু পরিবর্তন এনে নিবন্ধন রক্ষা করা ছাড়া তেমন কিছুই সংস্কার হয়নি। আমলে নেয়া হয়নি নেতাকর্মিদের সংস্কারের কথাও। এই পরিস্থিতিতে দলের কট্টরপন্থীরা হয়তো বরাবরের মতোই বলবেন, এটা মুমিনদের পরীক্ষা, ইসলামী আন্দোলনে পরীক্ষা আসবেই। তবে যারা প্রচলিত রাজনৈতিক ধারায় অন্যভাবে ভাবেন এমন তরুণ নেতারা এই পরিস্থিতির জন্য দলীয় ব্যর্থতা, নেতাদের অদূরদর্শীতা এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে না পারার কারণকেই দায়ি বলে মনে করেন। ক্ষমতার ইস্যুতে প্রচলিত রাজনৈতিক ধারায় গা ভাসানোয় অনেক সুযোগকে কাজে লাগাতে পারেনি তারা।

তাদের মতে, মুক্তিযুদ্ধে তখনকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষে জামায়াতের অবস্থান যৌক্তিক হলেও তা যে ভুল ছিল পরবর্তীতে প্রায় সব প্রবীণ নেতারাই দলের অভ্যন্তরে স্বীকার করেন। তবে স্বাধীনতার ৪৬ বছরে দলীয়ভাবে জাতির কাছে প্রকাশ্যে ভুল স্বীকার করে নিয়ে নতুনভাবে রাজনীতি করার এবং জনগণের কাছে পৌঁছার যে অপার সুযোগ ছিল সেটা নেতারা করতে অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছেন। কেননা, রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছুই নেই, একসময় এই জামায়াতই আ’লীগের সাথে আটবেঁধে তৎকালীন বিএনপি সরকার বিরোধী আন্দোলন করেছে। পরবর্তীতে আবার বিএনপির সাথে আওয়ামী সরকার বিরোধী আন্দোলন করছে।

জানি না তা কতটুকু সত্য, তবে জনশ্রুতি রয়েছে, কাদের মোল্লার রায় কার্যকরের আগে এবং ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে সরকারের পক্ষ থেকে সমঝোতার একটা প্রস্তাব থাকলেও সে সুযোগ নেয়নি দলটি, এটাও দলের একটা বড় ধরনের ভুল বলেই মনে করে দলের ভেতরকার একাংশ। এরফলে যা হবার তাই হচ্ছে। নিষিদ্ধ হলে কি করবে জামায়াত এমন মুখরোচক আলোচনা এখন সর্বত্রই চলছে। অনেকটা কোণঠাসা জামায়াত সরকারের কৌশলের কাছে শেষ পর্যায়ে এসে আদৌ কুলিয়ে উঠতে পারবে কিনা এ নিয়ে আলোচনার শেষ নেই।

অবশ্য এর আগেই শোনা যাচ্ছে, নিষিদ্ধ হলেও দলটির অবস্থানে তেমন কোন হেরফের হবে না। মিশরের ব্রাদারহুড কিংবা তুরস্কের একে পার্টির ন্যায় নতুন নামে গণতান্ত্রিক মডারেট দল গঠন করবে তারা। দলীয় কাঠামো, গঠনতন্ত্র, নেতৃত্ব থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রেও আমূল পরিবর্তন আনবে দলটি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল হিসেবে জামায়াতের যেসব নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের নেতৃত্ব থেকে দূরে রেখেই হবে নতুন দল। প্রবীণ এসব নেতা পেছন থেকে নীতিনির্ধারকের ভূমিকা পালন করলেও মূলত তরুণ নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত হবে সব কমিটি। জন্মতারিখ দেখে দেখে ১৯৭১ সালে প্রাপ্তবয়স্ক কোনো জামায়াত নেতাকেই ওই সব কমিটিতে রাখা হবে না।

ঘুরেফিরে জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়টি বারবার উঠে আসছে। সরকারপক্ষের লোকজন যাই বলুক না কেন, তবে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের ভাষ্য হলো, সরকার যা করছে তা ক্ষমতার জোরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় করছে। এরপরও যদি সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে, তাহলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় তখনই ঠিক করা হবে। নিষিদ্ধ হওয়ার আগেই দলকে নিজেরা নিষিদ্ধ করতে চায় না।

প্রসঙ্গত, ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত তিনবার নিষিদ্ধ হয় জামায়াত। প্রথম নিষিদ্ধ হয় ১৯৫৯ সালের ৮ অক্টোবর। ওই সময় আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করলে জামায়াতসহ সব দলের রাজনৈতিক তৎপরতা বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৬২ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত এ ফরমান বলবৎ ছিল। এরপর ১৯৬৪ সালের ৬ জানুয়ারি আইয়ুব খান জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে। সে বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান সুপ্রিমকোর্টের রায়ে জামায়াত আবার প্রকাশ্যে রাজনীতি করার অধিকার পায়। সর্বশেষ ১৯৭২ সালে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে বলা যায়- এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার বিষয়টি জামায়াতে ইসলামীর জন্য নতুন নয়, এর আগেও তারা এ ধরনের পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে ফের রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সেদিক বিবেচনায় এবার দেখার বিষয় বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় কোন পথে হাটেঁ জামায়াত। তবে আগামী দিনে চলার পথ যে তাদের জন্য একেবারে মসৃণ হবে না সেটা সহজেই অনুমেয়। কেননা, সরকার যেভাবে আটঘাট বেঁধে জামায়াত-শিবির উৎখাতে নেমেছে তাতে সহজেই সঙ্কট কাটিয়ে উঠা তাদের জন্য বেশ কঠিন হবে। তবে তাই বলে যে সরকার জামায়াত-শিবিরকে একেবারে নির্মূল করতে পারবে সেটাও আমি অন্তত বিশ্বাস করি না। কেননা, দল নিষিদ্ধ এবং বিচারে কয়েকজন নেতাকে ফাঁসি দেয়া হলেই জামায়াতে এই বিশাল জনশক্তি হারিয়ে যাবে? না তারা কোনো না কোনোভাবে ঘুরে দাঁড়াবে যেমনটি হয়েছে মিশরের ব্রাদারহুডের ক্ষেত্রে। আমাদেরকে আরো কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে সরকার এবং জামায়াতে ইসলামী কি করে তা দেখার জন্য। রাজনীতির মাঠের খেলায় কৌশলে কে কত দূর এগুতে পারে!

লেখক: গবেষক ও কলামলেখক।

ফেমাসনিউজ২৪/এস/এস