logo

রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৩ পৌষ, ১৪২৪

header-ad

আর কত খেলা?

শামীমুল হক | আপডেট: ২৯ নভেম্বর ২০১৭

বাসা থেকে বেরুতেই মহল্লার এক মুদি দোকানি ডাকলেন। বললেন, ভাই আমরা আর পারছি না। ব্যবসায় মন্দা। নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে বিক্রি কমে যায়। কিন্তু আমাদেরতো মাস গেলে কর্মচারীদের বেতন দিতে হয়। সংসার চালাতে হয়। বিদ্যুৎ বিল দুই মাস না দিলে লাইন কেটে দেয়। আচ্ছা বলুন, ব্যবসা না হলে আমরা বিল দেব কোথা থেকে? দেশের এ অবস্থায় আমাদের ব্যবসা লাটে উঠেছে। আর পারছি না। এরই মধ্যে ফের বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। কোথায় যাব আমরা? কার কাছে যাব?

সাম্প্রতিক বছরে কয়েকবার বিদ্যুতের দাম বেড়ে এখন সহ্যের বাইরে চলে গেছে। আগে যেখানে ৫/৬শ' টাকা বিদ্যুৎ বিল আসত; এখন সেখানে আসে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। একদিকে নিত্যপণ্যের দাম বাড়া, অন্যদিকে সরকারি সেবাখাতগুলো থেকে একের পর এক দাম বাড়ার ধাক্কা বুকে এসে বিঁধছে। গ্যাসের বিলও একাধিকবার বেড়েছে। শুনছি, আবারও নাকি গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে।

আর রাজধানীর বাড়িওয়ালারা বছর ঘুরলেই বাড়ি ভাড়া বাড়ায়। ভাড়াটিয়াকে দিতে হয় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল। সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের দিশেহারা অবস্থা।  শুধু ওই মুদি দোকানিই নয়, সর্বত্র একই আলোচনা। বিভিন্ন আড্ডায়, গল্পে, হাটে-বাজারে, মাঠে-ঘাটে, ফোনে একই জিজ্ঞাসা- দেশে হচ্ছেটা কি? কারোই কি দেশের মানুষের জন্য মায়া হয় না? অসহ্য এক পরিবেশ। আমরা এমনটি চাই না। মানুষের ভালো চিন্তা করার কেউ কি নেই?

বিদ্যুৎ বিল বাড়ানোর প্রতিবাদে হরতাল ডাকা হয়েছে বৃহস্পতিবার। হরতাল ডেকে কি কোনো লাভ হবে? এ পর্যন্ত আন্দোলন করে কোনো কিছুতে সফলতা এসেছি কি? আসলে কেউ ভাবছে না দেশের মানুষ নিয়ে। তাদের কষ্টের কথা কেউ অনুধাবন করে না। সবারই উদ্দেশ্য এক। ক্ষমতা। মসনদ। একদল মসনদে বসে খেলছে। অন্য দল মসনদে বসতে খেলছে। এ খেলায় সর্বনাশ হচ্ছে সাধারণ মানুষের।

যাদের ভোটে তারা মসনদে যান, যাদের ভোটে তারা রাজা হন- সেই জনতার ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলছে। একই খেলা। কোনো পরিবর্তন নেই। সময় বদলেছে। কিন্তু খেলার ধরন বদলায়নি মোটেও। জনগণ অবশ্য প্রতিবারই ভোট দেয় আর ভাবে- এবার হয়তো সুখের দেখা পাব। কিন্তু না, তারা সুখের দেখা পান না। বরং দিন দিন আশাহত হন।

রাগে, ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন। কিন্তু কিছুই করার থাকে না তাদের। বাজারের পরিস্থিতি ঊর্ধ্বমুখী। একদিকে চালের দাম বেড়েছে। অপরদিকে কৃষক তার ন্যায্য দাম পাচ্ছে না। পেঁয়াজের দাম রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এ নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, বাংলাদেশ হাঁটছে উল্টো পথে। এর জন্য দায়ী কে? দেশে মহাসঙ্কটকাল চলছে।

দুই নেত্রীর দিকে তাকিয়ে দেশ। বিশ্ব। আগামী নির্বাচন নিয়ে ফের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই বড় দল। এখনই শুরু হয়ে গেছে মুখোমুখি অবস্থান। নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে বিএনপি অনড়। সরকারও অনড় তার অবস্থানে। তাহলে কি হবে? ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো আরেকটি নির্বাচন হবে না- এটা সবাই বলছেন।

তাহলে কীভাবে নির্বাচন হবে? এটাও অস্পষ্ট। সবাই সংলাপ চান। একটি সংলাপই পারে দুই দলের দূরত্ব ঘোছাতে। দেশের মানুষও তাই আশা করছেন। তারা ভাবছেন- আগামী নির্বাচনের আগেই সেটা হবে। কিন্তু প্রশ্ন হল- বহু কাঙ্ক্ষিত সেই সংলাপ কি আদৌ হবে? অনেক হয়েছে। আর হানাহানি নয়। এবার সব তিক্ততা ভুলে আসুন বলি, দেশটা আমাদের। একে নিয়ে আর খেলা নয়।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম