logo

রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৩ পৌষ, ১৪২৪

header-ad

'ভারতীয় সভ্যতা ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি'

ব্যারিস্টার এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার | আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৭

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শাহজাহান কবিতা কি আজ শোকগাথায় রূপ পেতে যাচ্ছে :

‘যায় যদি লুপ্ত হয়ে যাক, শুধু থাক্‌

একবিন্দু নয়নের জল

কালের কপোলতলে শুভ্র সমুজ্জ্বল

এ তাজমহল।’

ভারতের তাজ- তাজমহল, বিশ্বে ভারতের পরিচিতির প্রতীক। স্থাপত্য ও চিত্রকলার ইতিহাসে তাজমহলের অবস্থান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ভারত সফরের সময় পৃথিবীর অন্যতম আশ্চর্য তাজমহল পরিদর্শন করেন। তিনি তাজের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘পৃথিবীতে দুই প্রকার মানুষ আছেন। একপক্ষ তাজমহল দেখেছেন আর অপরপক্ষ দেখেন নাই। আমি তাজমহল দেখেছি।’

সব সাম্প্রদায়িক শক্তির মধ্যেই জিঘাংসা ও বিভাজনের প্রবণতা থাকে। অশিক্ষার কারণে ভারতীয় উপমহাদেশে তা আরও প্রবল। ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ হওয়া উপমহাদেশে ইতিহাসের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অভাব রয়েছে। যেমন বিভিন্ন দেশের ইতিহাসে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবকে ধর্মপরায়ণ ও সফল সম্রাট হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ভারতে তাকে হিন্দুদের প্রতি অত্যাচারী রাজা মনে করা হয়। ঠিক এভাবেই তাজমহলের ইতিহাস নিয়ে মতপার্থক্য আছে। তাই ভারতে যারা ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী, তাদের কাছে এটি সম্রাট শাহজাহানের ভালোবাসার অনবদ্য নিদর্শন। আর যারা হিন্দুত্ববাদের রাজনীতি করেন এবং উগ্র হিন্দু আবেগকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতার পথ প্রশস্ত করতে ভোট বাড়ান, তাদের কাছে তাজমহল একটি শিব মন্দির। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বিষয়ে মার্কিন সিনেটর Robert F. Kennedy যথার্থই বলেছিলেন, "What is objectionable, what is dangerous, about extremists is not that they are extreme, but that they are intolerant. The evil is not what they say about their cause, but what they say about their opponents." অর্থাৎ, চরমপন্থিদের সমস্যা হলো তারা অসহিষ্ণু। মৌলবাদীদের নিজস্ব দাবি দোষের কিছু নয়। কিন্তু এটা অবশ্যই অন্যায় যে, তারা অন্যদের সম্বন্ধে যে কথা বলে।

ভারতের সবচেয়ে বড় রাজ্য উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি নেতা যোগী আদিত্যনাথ মন্তব্য করেন, ‘তাজমহল ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে না।’ এরপরই তাজমহলকে উত্তর প্রদেশের পর্যটন ব্রুশিয়ার থেকে বাদ দেওয়া হয়। একই প্রদেশের বিজেপি বিধায়ক সঙ্গীত সোম তাজমহল বিতর্কে নতুনমাত্রা যোগ করে দাবি করেন, ‘আগ্রার তাজমহল দেশের গৌরব নয়, বরং কলঙ্ক, তাজমহল তৈরি করেছিল দেশের শত্রুরা! ওই স্মৃতিসৌধ যে (শাহজাহান) নির্মাণ করেছিল সে নিজের বাবাকে হত্যা করেছিল। ইতিহাসে কখনই তাজমহলের স্থান পাওয়া উচিত নয়। কারণ দেশের শত্রু মোঘলরা তাজমহল তৈরি করেছিল।’ দুঃখজনক যে, এই বিধায়ক ইতিহাসের এটাও জানেন না যে, তাজমহলের নির্মাতা সম্রাট শাহজাহানই তার ছেলে সম্রাট আওরঙ্গজেবের হাতে গৃহবন্দি হয়েছিলেন।

তাজমহল ইস্যুতে এবার বিতর্কের নয়া রং ছড়িয়ে হরিয়ানার মন্ত্রী অনিল ভিজ পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্য এই স্মৃতিসৌধকে সুন্দর গোরস্থান বলে  উস্কে দিলেন। পাশাপাশি এও বলেন, ‘গোরস্থান হওয়ার কারণেই তাজমহলের মডেল ঘরে রাখা অশুভ।’ এখানেই শেয নয়, আগুনে ঘি ঢাললেন বিজেপির আরেক নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। তার দাবি, ‘জয়পুরের রাজার জমি জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে শিব মন্দির ভেঙে সেখানে তাজমহল তৈরি হয়েছে।’ রামমন্দির আন্দোলনের শীর্ষস্থানীয় নেতা বিনয় কাটিয়ার দাবি করেছেন, ‘তাজমহল আসলে একটি শিব মন্দির। ফলে এর নাম বদলে ‘তাজ মন্দির’করে দেওয়া হোক।’

শুরুটা আশির দশকে। পুরুষোত্তম নাগেশ ওক (পিএন ওক) তার 'Taj Mahal: The True Story' বইতে উল্লেখ করেছেন, ‘তাজমহল আসলে তেজোমহল নামের একটি শিবমন্দির, এমনি ভ্যাটিকানসিটি, কাবা ও ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবেও একদা শিবমন্দির ছিল!’

ইন্দিরা গান্ধী তৎকালীন সময়ে বইটি নিষিদ্ধ করেছিলেন। কারণ ওই বই প্রকাশ হলে তাজমহল নিয়ে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা শুরু হবে। প্রথমদিকে তার এই ভ্রমাত্মক তত্ত্বটি হাসির উদ্রেক করলেও ধর্মান্ধ রাজনীতি বিষয়টিকে আজ উদ্বেগজনক করে তুলেছে। লেখক সচ্চিনানন্দ শেভডে ইতিহাসবিদ পিএন ওকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। তিনিও দাবি করেন, ‘তাজমহল কোনো মুসলিম স্থাপত্য নয়। এটি আসলে একটি হিন্দু স্থাপত্য। তাজমহলের শীর্ষে একটি অর্ধাকৃতি চাঁদ আছে। ইসলামিক স্থাপত্যে এই চাঁদটি সাধারণত বাঁকা থাকে। কিন্তু তাজমহলের চাঁদ বাঁকা নয়। এই চাঁদ আসলে হিন্দু দেবতা শিবের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ছাড়া এই সৌধ চূড়ায় একটি কলসও আছে। সেখানে আমের পাতা এবং উল্টে রাখা নারকেলও আছে। এগুলো হিন্দু প্রতীক। ইসলামী সংস্কৃতিতে ফুল, পশুর প্রতিকৃতি নিষিদ্ধ। কিন্তু তারপরও তাজমহলে এসব ব্যবহার করা হয়েছে।’

‘ইতিহাসবিদ হারবনস মুখিয়া অবশ্য এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘স্থাপত্য রীতি সব সময় বদলায় এবং সেখানে বহু সংস্কৃতির প্রভাব পড়ে। মোগল স্থাপত্যকলাও এর ব্যতিক্রম নয়। কলস হিন্দু স্থাপত্যরীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কিন্তু অনেক মোগল স্থাপত্যেও এটি দেখা যায়, তাজমহলেও। মোগলদের তৈরি আরও অনেক স্থাপত্যে কলস এবং পাতা দেখা যাবে।’ এ ছাড়াও ভারত সরকারের তাজমহল ওয়েসবাইটে দাবি করা হচ্ছে, এই স্থাপত্য পারস্য, ভারতীয় এবং ইসলামী স্থাপত্যকলার সংমিশ্রণ।

বিখ্যাত ইতিহাসবিদ রানা সাফভি বলেন, ‘তাজমহলের ইতিহাস নতুন করে লেখার কোনো প্রশ্নই উঠতে পারে না। সেখানে যে কখনো কোনো মন্দির ছিল, তার কোনো প্রমাণ নেই। তাজমহল তৈরি হওয়ার আগে সেখানে হিন্দু শাসক জয় সিং এর একটি ‘হাভেলি’ (প্রাসাদোপম বাড়ি) ছিল। শাহজাহান এই হিন্দু শাসক জয় সিং এর কাছ থেকে হাভেলিটি কিনে নেন। এ নিয়ে একটি ‘ফরমান’ জারি করা হয়েছিল। এই ফরমানে দেখা যাচ্ছে মোগলরা তাদের বিভিন্ন চুক্তি এবং ইতিহাস রক্ষায় বেশ সচেতন ছিল।’ উল্লেখ্য, ডাব্লিউ ই বেগলি এবং জেড এ ডেসাহাসের লেখা বইয়ে এসব দলিল সঙ্কলিত আছে।

আরেকজন প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ হারবনস মুখিয়াও রানা সাফভির সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, ‘শাহজাহান যে তাঁর স্ত্রীর স্মরণে তাজমহল নির্মাণ করেছিলেন, এ নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।’ এ ছাড়াও Archaeological Survey of India ঘোষণা করেছে তাজমহলে শিবের কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রসঙ্গত, এই প্রতিষ্ঠানটি বাবরি মসজিদ মামলায় বাবরি মসজিদের নিচে রাম মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার মত দিয়েছিল। তবে এক্ষেত্রে তাদের এই দাবি মানছেন না উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।

‘হিন্দু যুবা বাহিনী’সংগঠনের সদস্যরা তাজমহলে শিব চালিশা পাঠ করায় মনে করিয়ে দিচ্ছেন বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দুঃখজনক ঘটনা। তাইতো সমাজবাদী পার্টির নেতা আজম খান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কটাক্ষ করে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ‘অযোধ্যার বাবরি মসজিদের মতো তাজমহলও ধ্বংস হতে পারে। শুধু তাজমহলের ওপর কোপ কেন? রাষ্ট্রপতি ভবনও তো অতীত শাসকদের হাতে তৈরি। সেখানেও দাসত্বের চিহ্ন আছে। সুতরাং তাও ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হোক। এ ছাড়া যা কিছু খিলান, গম্বুজ আছে সবই ভেঙে ফেলা হোক। কুতুব মিনার, লালকেল্লাকেও দেশের মাটি থেকে মুছে দেওয়া হোক।’ তার সঙ্গে সুর মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘তাজমহল নিয়ে আমি গর্বিত। আমাদের রাজ্যে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল আছে। এটি নিয়েও আমরা গর্বিত। এমনকি পার্লামেন্ট ভবন, মন্ত্রীদের দপ্তরগুলো, নর্থ ব্লক, সাউথ ব্লকও ব্রিটিশ আমলেই নির্মিত হয়েছিল।’ এ অবস্থায় একরকম বাধ্য হয়েই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, ‘ভারতীয়দের রক্ত-ঘামেই তৈরি হয়েছে স্মৃতিসৌধটি। কার নির্দেশে তৈরি হয়েছে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।’ হায় সেলুকাস কী বিচিত্র এই ভারতবর্ষ!

তাজমহল নিয়ে এত দিন যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, নানা কাজে এবং কথায়- সেই ইস্যুতেই যোগী আদিত্যনাথের সরকারকে সতর্কবার্তা দিল দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এবং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, ‘একবার তাজমহল ধ্বংস হলে তা কিন্তু আমরা আর ফিরে পাব না। কাজেই এই সৌধকে আরও দীর্ঘ সময় বাঁচিয়ে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন। সরকারের যদিও সে ব্যাপারে কোনো দিশা নেই এবং সেটাই সমস্যার কারণ হয়ে উঠেছে।’

২০১৪ সালে ভারতে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে দলটির রাজনীতিকরা ‘হিন্দু শ্রেষ্ঠত্ব’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় টিপু সুলতান সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করে বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনন্ত কুমার হেজ টুইটারে লেখেন, ‘টিপু সুলতানের মতো একজন ‘নিষ্ঠুর খুনি, ধর্মান্ধ ও ধর্ষককে’সম্মানিত করা হবে এমন কোনো অনুষ্ঠানে আমাকে নিমন্ত্রণ জানাবেন না।’ তবে বিজেপি সমর্থিত সদ্য নির্বাচিত ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে টিপু সুলতানকে ‘ব্রিটিশ-বিরোধী সংগ্রামী’এবং তার মৃত্যুকে ‘ঐতিহাসিক’খেতাব দিয়ে তিনিও বিজেপির তোপের মুখে পড়েছেন। আমার দৃষ্টিতে এখন এটাই আশ্চর্য যে, ভারতের জাতীয় প্রতীকে ত্রিসিংহ মস্তক ‘অশোক স্তম্ভ’ রয়েছে, যা সম্রাট অশোকের সোনালি শাসনামলকে ধারণ করে। ঐতিহাসিকভাবে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী সম্রাট অশোকের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যার অভিযোগ রয়েছে। সৌভাগ্যক্রমে অদ্যাবধি সেই প্রতীক পরিবর্তনের দাবি ওঠেনি।

প্রথমদিকে বিষয়টি মুসলিম বিদ্বেষী সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প মনে হলেও পুরো বিষয়টি যে বিজেপির মতো উগ্র সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক মেরুকরণের অংশ, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভারতের আসাম রাজ্যের বিজেপি এমপি প্রসাদ তাসা ভারতের রাষ্ট্রপিতা মহাত্মা গান্ধী এবং প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুকে অবমাননা করে বলেন, ‘গত কয়েক বছরে কংগ্রেস মানুষের মধ্যে এমন ধারণা সৃষ্টি করেছে যে, নেহেরু-গান্ধী আবর্জনা ছাড়া কিছুই নয়। তাদেরকে আর কেউ আগের মতো দেখেন না।’ সম্প্রতি বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ প্রকাশ্য জনসভায় বলেছেন, ‘গান্ধী একজন চতুর বেনিয়া ছিলেন।’ তার এই উক্তির বিরুদ্ধে সারা ভারত গর্জে উঠেছে।

নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম কার্যদিবসে মহাত্মাগান্ধীর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কর্ম সূচনা করেন। তবে এ বিষয়াদিতে অদ্যাবধি তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার এই মৌনতাই উগ্রপন্থী রাজনীতিকদের উস্কে দিচ্ছে বলে মনে করা হয়। বাবরি মসজিদ ভাঙার অন্যতম উস্কানিদাতা এবং মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন গুজরাটে মুসলিম নিধনের জন্য তাকে অভিযুক্ত করা হয়। সময়ের পরিক্রমায় তিনি আজ ভারতের প্রধানমন্ত্রী। অনস্বীকার্য যে, ইতোমধ্যে তিনি নিজস্ব ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন। আজ এই সংকট সূচনাকালে বিশ্বঐতিহ্য রক্ষায় ও বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক রাজনীতির শিষ্টাচার ধরে রাখতে তিনি গঠনমূলক ভূমিকা রাখবেন- এটাই প্রত্যাশা। 

লেখক : আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

ফেমাসনিউজ২৪/আরআই