logo

মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৮ | ১০ মাঘ, ১৪২৪

header-ad

গোপন সমঝোতায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি!

শামীমুল হক | আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০১৮

পর্দার আড়ালে কী হচ্ছে? আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে কী কোনো সমঝোতা হচ্ছে? বাইরের আলামত দেখে তো আপাতত তাই মনে হচ্ছে। যে বিএনপিকে পুলিশ রাস্তায় দেখলেই রেগে অগ্নিশর্মা হয়ে যেত, সেই বিএনপিকে এখন একের পর এক জনসভা করতে দিচ্ছে। এমনকি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান করতে দেবে না বলে তালা দিয়ে- পুলিশ নিজেই সেই তালা খুলে দিয়েছে। অবশ্য এ জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ৫০ মিনিট ফটকে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

এখানেও কথা থেকে যায়, আগের পরিস্থিতি থাকলে বেগম খালেদা জিয়াকে তো ঘর থেকেই বের হতে দেয়া হতো না। সেখানেই আটকে রাখা হতো। কিংবা অনুষ্ঠানস্থলে এলেও এমন পরিস্থিতি করা হতো যাতে খালেদাকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।

সবাই জানি, চলতি বছরের শেষদিকে জাতীয় নির্বাচন। এ নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে তা এখনো অস্পষ্ট। দুই পক্ষই তাদের আগের অবস্থানের কথা জানান দিচ্ছে সভা- সমাবেশে। সরকার সংবিধানের দোহাই দিচ্ছে। বলছে, সংবিধানের আলোকেই আগামী নির্বাচন হবে।

বিরোধী পক্ষ বলছে, সহায়ক সরকার কিংবা যে নামেই ডাকা হোক না কেন তত্ত্বাবধায়কের আদলে সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানেও এমন কথার পাশাপাশি খালেদা জিয়া বলেছেন, বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা যাবে না। তার মানে নির্বাচনে বিএনপি যাবে।

আওয়ামী লীগ নেতাদের কথায়ও স্পষ্ট- সব দলের অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচন হবে। এখানেই প্রশ্ন তাহলে কী আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে কোনো গোপন সমঝোতা হয়েছে? নাকি পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে? অনেকে অনেক কথা বলছেন।

এ মুহূর্তে বাতাসে যে কথা ভেসে বেড়াচ্ছে তা হলো এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রথম সারির কয়েক নেতার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তারা দুইপক্ষই নমনীয়। তবে কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে তা নিয়ে এখনো ভাবা হচ্ছে।

একটি সূত্র অবশ্য বলছে, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকার পক্ষ যা কিছু করার করবে। তাতে সহযোগিতা করবে বিএনপি। সব দল মিলে আসন ভাগ করে নির্বাচন করার কথাও শুনা যাচ্ছে। এতে বড় দল দুটির ভাগে নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন পড়বে। বাকি আসন অন্য দলের মধ্যে ভাগ হবে।

অবশ্য বড় দলগুলো তিনশ’ আসনেই প্রার্থী দেবে। তবে যেসব আসন দলগুলোর জন্য নির্ধারিত করা হবে সেসব আসনে অন্য দল দুর্বল প্রার্থী দেবে। এভাবে একে অপরকে সহযোগিতা করবে। নির্বাচনের পরে সব দল মিলে সরকার গঠন করবে, যা হবে জাতীয় সরকার। এমনটি হলে জামায়াতকে দূরে রাখার কথা শুনা যাচ্ছে।

এরই মধ্যে নাকি কোন দল কোন কোন আসন চায় তার তালিকাও তৈরি হয়েছে। সবই নাকি হচ্ছে অতি গোপনে। এর সত্যতা কতটুকু তা রাজনীতিকরাই জানেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতারাই জানেন। তবে এমন সমঝোতা হবে এটা কেন জানি বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না।

কেউ কেউ বলছেন, ২০১৪ সালের মতো নির্বাচনের দিকেই যেতে চায় সরকার। আবারও ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চায়। আবার সরকারি দল এটাও মনে করে, বিএনপি এবার তাদের ফাঁকা মাঠে গোল করতে দেবে না। বিএনপি নির্বাচনে আসবেই। আর এমনটি হলে তাদের সাজানো পথ অগোছালো হয়ে যাবে। তার জন্যও নাকি সরকারি দলের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান দিচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতারা।

আবার নির্বাচনে জামায়াত প্রসঙ্গও প্রকট হয়ে দেখা দিতে পারে। যদিও জামায়াত নিজ থেকেই এখন বিএনপি থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে। এ অবস্থায় জামায়াত কি করে তাও দেখার বিষয়। আবার সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়। এ রায়ের দিকেও দৃষ্টি রয়েছে দেশবাসীর। বিএনপিও তাকিয়ে রায়ের দিকে।

যাকগে সেসব কথা। মূল কথা হলো, রাজনীতিতে কী হচ্ছে এটা দেখতে দেশবাসী উদগ্রীব। দলগুলো আসন ভাগাভাগি করবে, নাকি নতুন কোনো উপায় বের করবে- নির্বাচনে তা দেখতে চায় না দেশবাসী। তারা চায় একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন, যেখানে তারা লাইন ধরে নিজের ভোট নিজে দিতে পারবে।

যেখানে কোনো নেতা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বলবে না, তোমার ভোট দেয়া হয়ে গেছে। চলে যাও। ভোটের আগের রাতেই কেন্দ্র দখল হয়ে যাবে। ভোটের দিন প্রকাশ্যে সিল মারবে দলীয় লোকজন। প্রশাসন অসহায়ের মতো তা দেখবে। কিংবা ভোটের ফল পাল্টে ঘোষণা করা হবে। এসব আর দেখতে চায় না ভোটাররা। তারা চায় তাদের ভোটের মর্যাদা।

তাদের মতের প্রতিফলন দেখতে চায়। এমনটি করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অবশ্যই সমঝোতা হতে হবে। অবশ্যই তাদের এক টেবিলে বসে আলোচনা করতে হবে। সেটা প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে যেভাবেই হোক। আকাশে সূর্য উঠলে যেমন সবাই দেখে, তেমনি সমঝোতা হলেও সবাই বুঝতে পারবে। এর অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী।

আগামী নির্বাচনের আগে সমঝোতা না হলে আগের মতো এক বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হবে দেশে। অরাজকতা তৈরি হবে। উত্তাল থাকবে রাজপথ। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের দৃশ্য হয়তো ফের দেখা যাবে। তাতে আতঙ্কিত হয়ে উঠবে মানুষ। ভয়ে ঘর ছেড়ে বেরুবে না। ভোটকেন্দ্র থাকবে ফাঁকা। যেমনটি হয়েছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে।

ভোট উৎসব ছিল না দেশের কোথাও। প্রার্থী না থাকায় ১৫৪ আসনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাস করেছে সংসদ সদস্যরা। বাকি আসনগুলোতেও নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে ভোটার ছিল না। এমনকি আওয়ামী লীগের ভোটাররাও দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়েছে।

বছর শেষে যে নির্বাচন আসছে সে নির্বাচনে এমনটা হবে না বলেই বিশ্বাস করে দেশের মানুষ। শেষ কথা- বড় দুই দলের মধ্যে সমঝোতা প্রয়োজন। সেটা গোপন কিংবা প্রকাশ্যে যেভাবেই হোক।
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম