logo

বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৯ ফাল্গুন, ১৪২৪

header-ad

জননেত্রী থেকে বিশ্বনন্দিত নেত্রী শেখ হাসিনা

ব্যারিস্টার এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার | আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

‘সব হারিয়ে আমার শুধু দেবার পালা। মানুষের জন্য করে যাচ্ছি। দেশের মানুষের জন্য যে ত্যাগ করার করব, আমি জীবন দিতেও প্রস্তুত।’ এই ব্রত নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তাঁর সংগ্রামী আদর্শের পথ ধরে কন্যা শেখ হাসিনা বাংলার কোটি কোটি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য লড়াই করে চলেছেন। ১৫ অাগস্টের নির্মমতার পর দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি। বাধ্য করা হয়েছিল ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে ছয় বছর অবস্থান করতে। শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এরপর ১৯৮১ সালে বহু প্রতিক্ষিত দেশে ফেরা! তিনি স্মৃতিচারণে বলেন, ‘এয়ারপোর্টে নামলাম। মাটিতে লাখো মানুষের ঢল। চারদিকে লাখো মানুষ। মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হলাম।’ সেইদিনও কেউ ভাবতে পারেনি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে, স্বাধীনতার স্বপক্ষের মানুষ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। বাংলার ইতিহাসে লৌহমানবী হাল ধরলেন এক ডুবন্ত নৌকার, যাত্রা শুরু করলেন আলোর পথে। সকল প্রতিকূলতাকে আয়ত্তে এনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর উন্নয়নের সেবা পৌঁছে দিচ্ছেন প্রান্তিক জনগণের কাছে। পিতার মতো তাঁরও বিশ্বাস ও ভালোবাসার জায়গা জনগণ। তাঁর মতে, ‘সংগঠন আমার পাশে, বাংলার জনগণ আমার পাশে, তাদের দোয়া-আশীর্বাদ, এটাই আমার শক্তি।’

সমস্যা সমাধানে শেখ হাসিনার শ্রেষ্ঠত্ব ও তাঁর দর্শনের গ্রহণযোগ্যতা দেশের মানুষের কাছে সকল সময়ের সীমা অতিক্রম করেছে। ১৯৯৬ সালে প্রথম দফায় প্রধানমন্ত্রীত্বের সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি ও গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি করে শেখ হাসিনা নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার সুবিশাল প্রকাশ ঘটান। আবার সেই সময়ে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। এ দেশের মানুষের আবেগ জড়িয়ে আছে একুশের সঙ্গে, তার সময়েই একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গৌরব অর্জন করে। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ৭ মে বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত চুক্তির মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতায় বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় চুক্তি ছিল মানবাধিকার সুরক্ষার আরও একটি যুগান্তকারী ঘটনা। উল্লেখ্য, এই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ভারত সরকারকে সে দেশের সংবিধান সংশোধন করতে হয়! আবার আমাদের স্বাধীনতার মূলভিত্তি ও অহংকার বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে তাঁর সময়েই ইউনেস্কো 'মেমোরি অফ দা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে' যুক্ত করেছে।

তাঁর স্বাধীনচেতা মনোভাব সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে শত বাধার মুখে পদ্মাসেতুর কাজ নিজস্ব অর্থায়নে শুরু করেন। এই অনন্য অর্জনের সময়ই হলি আর্টিজানের মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলার পর বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ ছেড়ে যাবার কথা ভাবছিলেন তখন তিনি এই মানবতার শত্রুদের দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেন। সর্বজনবিদিত যে ধর্মীয় উগ্রবাদী এই সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ কতটা সফল। আন্তর্জাতিক সমস্যা নিরসনে তিনি চিন্তাশীল ভূমিকা রাখছেন, যেমন জলবায়ু পরিবর্তনকে নিরাপত্তার অন্যতম হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে বিশ্বনেতাদেরও সেদিকে মনোযোগী করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা তাকে বিশ্বনেতৃত্বের ধারায় নিয়ে গেছে। বর্তমানে রোহিঙ্গা আন্তর্জাতিক সমস্যায় মানবিক ও রাষ্ট্রনায়কোচিত পদক্ষেপ নিয়ে তিনি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার অনন্য পথিৃকৎ হয়ে উঠেছেন। ব্রিটিশ মিডিয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বর্ণনা করেছে, ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা খালিজ টাইমস বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাচ্যের নতুন তারকা হিসেবে অভিহিত করেছে।

আর এভাবেই আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হয়ে যান মমতাময়ী এবং মানবকল্যাণে ব্রতী এক অনন্য দূরদৃষ্টি সম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক। মুস্তাফা নূরুল ইসলাম 'গণতন্ত্রের বহ্নিশিখা শেখ হাসিনা' বইতে বলেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আলোকবর্তিকা হয়ে উঠেছেন তাঁর নানামুখী দূরদর্শী কর্মকাণ্ডের কারণে এবং বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়নের মাধ্যমে।’ (২০১৬, পৃ. ২১)। একই সুরে প্রবীণ সাংবাদিক সাহিত্যিক আব্দুল গফফার চৌধুরী একই প্রকাশনায় লিখেছেন, ‘আমার বিশ্বাস, হাসিনার শাসনামল একদিন অতীতের হোসেনশাহী শাসনামলের মতো বাংলার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে সংযুক্ত হবে।’ (ঐ, পৃ. ৩৩)। সমাজবিজ্ঞানী অনুপম সেনের মতে, ‘শেখ হাসিনা একইসঙ্গে বজ্রের মতো কঠিন-কঠোর ও ফুলের মতো কোমল নেত্রী। তিনি পিতৃ-মাতৃহীন শিশু, বঞ্চিত শিশুকে কোলে তুলে নিয়ে যেমন কেঁদে আকুল হন, তেমনি মানবতা-বিরোধী গণহত্যাকারীরা, তাঁর চেনামানুষ হলেও, তারা যখন তাদের কৃত-অপরাধের জন্য যোগ্য শাস্তি পায়, তখন তিনি দৃঢ় প্রত্যয়ে তা অনুমোদন করেন।’ (ঐ,পৃ. ১৮১)। বিশেষ করে শেখ হাসিনার আপোষহীন চরিত্র, রাজনৈতিক আদর্শ ও সীমাহীন দেশপ্রেম স্পষ্ট হয়ে উঠেছে মঈন ইউ আহমেদ পাণ্ডুলিপিতে লিখেছেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার যখন শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করল, তখন আওয়ামী লীগের নেতারা নেতৃত্ব এবং ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। এরা এক পর্যায়ে বিরক্তি এবং রসিকতার বস্তুতে পরিণত হন।... রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী সেনা গোয়েন্দাদের দল একদিন আমার সঙ্গে বৈঠক করে। পুরো রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তারা আমাকে জানায়, একমাত্র শেখ হাসিনা ছাড়া সব রাজনীতিবিদকেই কেনা যায়।’

মানবাধিকারকর্মী ও শিক্ষাবিদ রিচার্ড ও ব্রায়ান ‘উইমেন প্রেসিডেন্টস অ্যান্ড প্রাইম মিনিস্টারস’ শিরোনামে বিশ্ব সমাদৃত বইটির প্রচ্ছদে শেখ হাসিনাসহ ৭ জন নারী নেতার ছবি স্থান পেয়েছে। গ্রন্থটিতে বর্ণনা করা হয় যে, ‘সরকারের নির্যাতন সত্ত্বেও শেখ হাসিনা এতই জনপ্রিয় ছিলেন যে তার চাপে ১৯৯০ সালে একজন সামরিক জান্তাকে পদত্যাগ করতে হয়। অনেক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা ও তার সরকার ১৯৯৭ সালে যুগান্তকারী পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি, স্থলমাইনের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ এবং ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে নারীকে সহায়তা ও নারীকল্যাণ, গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাসহ অনেক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছেন, যা তাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।’

অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা, মেধা, বিচক্ষণতা, আত্মপ্রত্যয় ও দুরদর্শিতার কারণে তিনি এখন বিশ্বনেত্রী। ২০১১ সালে নিউইয়র্ক টাইমস সাময়িকীর জরিপে বিশ্বের সেরা প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর নারী নেতৃত্বের মধ্যে তিনি ৭ম স্থানে ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িকী ফরচুনে প্রকাশিত তালিকা মতে, বিশ্বসেরা ৫০ নেতার মধ্যে শেখ হাসিনা দশম স্থানে। যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন এ্যাফেয়ার্স সাময়িকীতে মানবজাতির উন্নয়ন ও কল্যাণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মৌলিক চিন্তা, গবেষণা, উদ্ভাবন, সৃষ্টি এবং আকর্ষণমূলক কাজের জন্য বিশ্বের যে ১০০ শীর্ষ ব্যক্তির তালিকা করা হয় সেখানে শেখ হাসিনার অবস্থান ১৩তম। ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী নারী সরকারপ্রধান হিসাবে উল্লেখ করা হয়। বিশ্ব বিখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিন জরীপে নভেম্বর ২০১৭ সালে বিশ্বের ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকায় ৩০ তম অবস্থানে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পিপলস অ্যান্ড পলিটিক্স এর সর্বশেষ গবেষণায় বিশ্বসেরা ৫ জন কর্মঠ এবং পরিশ্রমী সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্ব রাজনীতি নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘পিপলস অ্যান্ড পলিটিক্স’ ১৭৩ টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের মধ্যে সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন ও সৎ সরকার প্রধান হিসেবে এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের ডেকিন ইউনিভার্সিটির ‘সেন্টার ফর হিউম্যান লিডারশিপ’ ২০১৭ সালের জন্য পোপ ফ্রান্সিস এবং বিল গেটসকে পিছনে ফেলে `মানবতার চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি তাঁর মানব-কল্যাণী নীতি ও কর্মকাণ্ডের জন্যে ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার, জাতিসংঘের আইসিটি পুরস্কার, ইউনেস্কোর ‘ট্রি অব পিস’ পুরস্কার, প্ল্যানেট ফিফ্টি ফিফ্টি, চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ পুরস্কারসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর মধ্যে বাংলাদেশকে যেখানে এনে দাঁড় করিয়েছেন, তা এক অসম্ভব সাফল্য, যা অনেক শাসকের কাছেই অকল্পনীয় ও ঈর্ষনীয়। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ এখন চমক। শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্বকে এগিয়ে নেয়ার আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার পরামর্শও এখন গ্রহণযোগ্য এবং প্রশংসনীয়। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বলেছেন, শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটেছে। কানাডার আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন মন্ত্রী মেরী ক্লদ বিবেউ বলেছেন, শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে দক্ষিণ এশিয়ার স্তম্ভ।

বাংলাদেশে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত ও মধ্যম আয়ের আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণে কাজ করছে। দেশবাসীর মতোই আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোও ক্রমান্বয়ে তাঁর ওপর আস্থাশীল হয়ে ওঠছে। বাংলাদেশের শেখ হাসিনা আজ জাতিসংঘ তথা বিশ্ব পরিমণ্ডলে শান্তি ও ন্যায়ের এক মূর্ত প্রতীক। তিনি শুধু দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিশ্বের অন্যতম প্রধাননেতা হিসাবে নিজের দেশ ও জনগণকে তুলে ধরেছেন সবার উপরে। জয় হোক জননেত্রীর, জয় হোক বিশ্বনন্দিত নেত্রী শেখ হাসিনার।

লেখক : ডেপুটি এটর্নি জেনারেল, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ ও আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট।

ফেমাসনিউজ২৪/আরইউ