logo

বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ৩ কার্তিক, ১৪২৫

header-ad

কী হতে যাচ্ছে দেশে?

শামীমুল হক | আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা চারদিকে। কি হতে যাচ্ছে দেশে। গণগ্রেপ্তার আর হুমকি-ধামকিতে তটস্থ সবাই। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়কে কেন্দ্র করে গোটা দেশ এক সংঘাতময় পরিস্থিতিতে রয়েছে। একদিকে আওয়ামী লীগ, অন্যদিকে বিএনপি। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে মাঠ কাঁপাচ্ছে। সরকারি দল হিসেবে আওয়ামী লীগ রয়েছে সুবিধাজনক অবস্থানে। পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রাখার দোহাই দিয়ে বিরোধী নেতা-কর্মীদের গণগ্রেপ্তার চালাচ্ছে। এক অসহনীয় পরিস্থিতি। আতঙ্কময় পরিস্থিতি।

বিএনপি নেতাদের ঘরে ঘরে গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। সব মিলিয়ে অন্ধকারে এগুচ্ছে দেশ। সুরংয়ের শেষ প্রান্তে দেখা আলোও নিভে গেছে। মুখোমুখি দু'পক্ষ। রায় যাই হোক দু'দলের দূরত্ব যে আরও বেড়েছে এতে কারো দ্বিমত নেই। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কি? আসলে, আমরা যা বলি, তা করি না। যা করি, তা বলি না। সংসারে, সমাজে সব ক্ষেত্রে একই অবস্থা।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, ‘যা চাই তা পাই না। আর যা পাই তা চাই না।’ তিনি কোন অবস্থায় কি কারণে এ কথা লিখে গেছেন তা তিনিই জানেন। কিন্তু শত বছর আগের এ লেখা যে চিরদিনের তিনি কি তা জানতেন? নাকি আমরা তা জানতাম! আরও হাজার বছর পর রবি ঠাকুরের কবিতার এ লাইন পড়লে তখনও মনে হবে বাস্তবতার সঙ্গে বড়ই মিল।

আসলে কবিতা মানুষকে জাগ্রত করে। কবিতা মানুষকে পথ দেখায়। কবিতা মানুষকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস যোগায়। কবিতা মানুষকে দ্রোহী করে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের চলরে চলরে চল/ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল... কবিতা এখনও মানুষকে শিহরিত করে। এমন হাজারো কবিতা দেশ ও সমাজ গঠনে উদ্বুদ্ধ করেছে। মানুষকে গণতন্ত্রে উজ্জীবিত করেছে। সমাজ এগিয়ে গেছে। কবিতার সঙ্গে সুর মিলিয়ে জন নেতারা গলা ফাটান।

সভা-সমাবেশে কবিতার সুরেই বলেন, আমি তো আপনাদেরই লোক। নির্বাচিত হলে আপনাদের কল্যাণেই কাজ করবো। সমাজটাকেই বদলে দেব। রাস্তা-ঘাট করে দেব। দুঃখ-দুর্দশা থাকবে না। ন্যায়ের পথে পরিচালিত হব। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেব না। ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবো। ভোটের আগে এমন বুলি নেতাদের মুখে মুখে শোনা যায়। আর ভোটের পর ওই নেতার সঙ্গে দেখা করতে আগে থেকে অ্যাপয়েনমেন্ট নিতে হয়।

এপিএস, পিএস পেরিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে ঘুরতে হয় দিনের পর দিন। এরপর নেতার দেখা পেলেও মুখ থাকে গম্ভীর। নির্বাচনের আগে যেমন জড়িয়ে ধরতেন, এখন আর তেমন নেই। জমিতে কাদামাটিতে নেমে পড়তেন করমর্দন করতে যে নেতা, সেই নেতার এখন কি চেহারা। একি দেখছে জনগণ। ভুল ভাঙে জনতার।

কিন্তু এখন তাদের করার কিছু নেই। সবই হাতছাড়া হয়ে গেছে। বুঝতে পারে জনতা, এখন আর তিনি নেতা নন। জনপ্রতিনিধি। যে জপ্রতিনিধি নির্বাচনের আগে রিকশায় চড়তেন। এখন চড়েন দামি গাড়িতে। পাঁচ বছর সময়ে বাড়ি করেছেন, ব্যাংক ব্যালেন্স করেছেন। জনপ্রতিনিধির কারণে তার স্ত্রী, সন্তানরাও হয়েছেন কোটিপতি। এমন না হলে কি জনপ্রতিনিধি হওয়া যায়?

ইতিহাস বলে বাদশা হারুন-অর রশিদের কথা। রাত-বিরাতে ছদ্মবেশে বেরিয়ে পড়তেন জনগণের সুখ-দুঃখ নিজ চোখে দেখতে। গ্রামের পর গ্রাম ঘুরে বেড়াতেন। পরদিন রাজদরবারে বসে এসব সমস্যার সমাধান করতেন। তাদের কোনো লোভ ছিল না। ছিল না লালসা। আর এখন একি দেখি আমরা।

জনপ্রতিনিধি হওয়া মাত্রই বদলে যায় চাল চলন। সবই করেন নিজের খেয়াল খুশিমতো। নিজের পক্ষে যায় এমন কাজ করেন চোখবুজে। জনগণের কল্যাণে আসুক আর না আসুক নিজের কল্যাণের জন্য যা যা করার সবই করতে প্রস্তুত তারা। ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে যত কসরত আছে সবই করেন। ক্ষমতায় টিকেও যান। জনগণ ভোট দিক আর না দিক তারা জনপ্রতিনিধি।

যে গণতন্ত্রের জন্য যুগে যুগে মানুষ লড়াই করেছে, জীবন দিয়েছে। সেই গণতন্ত্র চোখের সামনেই মৃত্যুর দিকে ধাবিত হতে দেখেও তাদের করার কিছু থাকে না। কারণ, জনতা অসহায়। জনতা একা। জনতা নির্বোধ। জনতা জনতাই। তাই তাদের কথার মূল্য থাকে না। তাদের চিৎকারও কেউ শুনতে পান না। কিংবা কেউ শুনলেও টুঁটি চেপে ধরে। অসহায় বলে এখানেও তাদের কিছু বলার থাকে না। হায়রে জনতা। হায়রে গণতন্ত্র। হায়রে জনপ্রতিনিধি।

যে নেতার কথায় মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে জনতা শুনে। লাইন ধরে ভোট দেয়। ঘরে ঘরে যে নেতার নামে সম্মান জানায়। সে নেতা যখন যা বলেন, তা করেন না, আর যা করেন তা বলেন না, তখন ওই জনতাই কষ্ট পান। দুঃখ পান। বিশ্বাস হারান। তখন কবিরা জেগে ওঠেন। কবিতায় কবিতায় প্রতিবাদ জানান। কবিতায় কবিতায় জনতাকে উজ্জীবিত করেন। মানুষ বিশ্বাস ফিরে পান। কবির ভাষায় আওয়াজ তোলেন- আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি...।
(মতামত লেখকের একান্তই)
ফেমাসনিউজ২৪/এফএম/এমএম