logo

বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | ৯ ফাল্গুন, ১৪২৪

header-ad

মাইনাস খালেদা

শামীমুল হক | আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

আগামী নির্বাচন থেকে কি খালেদা জিয়া মাইনাস হয়ে গেলেন? নাকি রাজনীতি থেকেও। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর এ প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। ইতিমধ্যে সচেতন মহল এ নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন। তাদের কথা- ১/১১-এর সরকার মাইনাস টু ফর্মুলা নিয়ে এগিয়েছিলেন। কিন্তু তারা চরমভাবে ব্যর্থ হন। সুশীল সমাজ আর গণমাধ্যম সে চেষ্টা ব্যর্থ হতে ব্যাপকভাবে সহায়তা করে। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার অনড় মনোভাবও অনেকটা বেকায়দায় পড়ে সে সময়কার সেনাসমর্থিত সরকার। নানাভাবে চেষ্টা করেও খালেদাকে দেশের বাইরে পাঠাতে পারেননি তারা। ওই সময় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী দেশের বাইরেই ছিলেন। তাকে দেশে ফিরতে নানাভাবে বাধা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু খালেদার আপসহীন মনোভাব সরকারকে চরম বেকায়দায় ফেলে দেয়। এরপরই শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার গ্রিন সিগন্যাল দেয়া হয়।

কিন্তু বৃহস্পতিবার আদালতের দেয়া রায়ের ফলে খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, দেশের আইন অনুযায়ী নৈতিক স্খলনের দায়ে দুই বছরের বেশি সাজা হলে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনের অযোগ্য হয়ে যান। তবে তিনি এও বলেন, যতদূর জানি আপিল করলে আপিলের রায়ের পরই বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, সুপ্রিম কোর্টের দু’টি রায় রয়েছে। চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত দণ্ডিত ব্যক্তি নির্বাচন করতে পারবেন। আবার একটি রায় রয়েছে, নির্বাচন করতে পারবেন না। আইনমন্ত্রীও বিষয়টি খোলাসা করলেন না।

চলতি বছরের ডিসেম্বরেই নির্বাচন হওয়ার কথা। সে হিসাবে বাকি আছে ১০ মাস। আর দুই মাসের মধ্যে আপিলের জন্য আবেদন করতে হবে খালেদা জিয়াকে। পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি হাতে পেলেই আপিল করা যাবে। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরাও বলেছেন, তারা আপিল করবেন। কিন্তু এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় কথা আপিল করলেও কি খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন? আইনমন্ত্রী দুটি রায়ের কথা বলেছেন। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোন রায়টি কার্যকর হবে?

ওদিকে বিএনপি এখন নেতৃত্বশূন্য। কে ধরবেন বিএনপির হাল? কার নির্দেশে চলবে বৃহৎ এ দলটি। কারাগারে যাওয়ার আগে খালেদা জিয়া কিংবা রায়ের পর এখন পর্যন্ত কোনো নেতাও বিষয়টি খোলাসা করেননি। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে খালেদার অনুপস্থিতিতে দল চালাবেন কে? বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ১০ বছরের দণ্ডিত হয়েছেন। তিনি রয়েছেন লন্ডনে। দেশে থাকলেও তাকে কারাগারে থাকতে হতো। বিএনপি’র গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এ অবস্থায় দলটি কে চালাবেন তারও কোনো সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা নেই।

রাজনীতির ময়দানে নানা কথা হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, খালেদাবিহীন বিএনপিতে সাত নেতার সমন্বয়ে দল চলবে। কেউ কেউ বলছেন, লন্ডন থেকে তারেক রহমানের নির্দেশনায় দল চলবে। কিন্তু এতেও রয়েছে নানা বিপত্তি। তারেক রহমানতো জনে জনে নির্দেশনা দেবেন না। যাকে নির্দেশনা দেবেন তাকে দলের অন্য নেতারা কতটুকু বিশ্বাস করবেন। এ মুহূর্তে আরেকটি গুজব শোনা যাচ্ছে। যা হলো- যথাসময়ে তারেক রহমানের মেয়ে জায়মা রহমান দেশে আসবেন। তিনি দলের কোনো পদে না থাকলেও তার নির্দেশনায় দল চলবে। নেতা-কর্মীরাও বিষয়টি মেনে নেবেন। এ ছাড়া দলের অনেক সিনিয়র নেতাও নাকি এমনটা চাইছেন। তারা চিন্তিত দল পরিচালনা নিয়ে। আকারে ইঙ্গিতে তারা বিভিন্ন জায়গায় বিষয়টি প্রকাশও করেছেন। বিশেষ করে কারাদণ্ড হওয়ার পর খালেদাকে মাইনাস ধরেই বিএনপি এগিয়ে যাওয়ার চিন্তা করছেন।

(লেখকের একান্ত নিজস্ব মতামত)

লেখক : সাংবাদিক ও রম্য লেখক

ফেমাসনিউজ২৪/আরইউ